
৫) ২০১১ সালে ইংল্যান্ডে রায়ট শুরু হয়। ৬ - ১১ অগাস্ট পর্যন্ত চলা সেই রায়টে দেশব্যাপী ৫-জন মানুষ মারা যান, আহত হোন ৩০০০-এরও বেশি। সারা দেশের মতো আমি যে এলাকায় থাকতাম, সেই উডগ্রীন এলাকাতেও দোকান-পাট আর ঘর-বাড়িতে আগুন লাগানো হয়। যে কয়েক দিন রায়ট হয়, সেই কয়েক দিন খুব ভয়ে ভয়ে কাটিয়েছি। এখনো মনে পড়ে, টিভি আর নিউজ মিডিয়াতে রায়টকারীদের সাথে একটি মেয়েকে দেখিয়েছিলো। সেই মেয়েটি অনেক দোকান ভাঙচুর করে। জানি না, তাকে ধরতে পারা গিয়েছিলো কি না।
৬) ব্রিটেনের আবহাওয়ার ঠিক-ঠিকানা নেই। এই ভালো তো এই আকাশ মেঘ করে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। একদিন ভার্সিটি থেকে ফিরছি, হঠাৎ দেখি এক কালো সিনিয়র সিটিজেন (বয়স্ক লোকদের এই নামেই ডাকা হয় সেখানে) রাস্তা পার হয়ার চেষ্টা করছেন। হাতে লাঠি। আকাশে তখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে মানুষটি রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পারছেন না। আমি এগিয়ে গেলাম। আমার ছাতাটি তাঁর মাথায় ধরে রাস্তা পার করে দিলাম। এখনো মনে পড়ে, আমার হাতের ইশারায় ইংল্যান্ডের বিখ্যাত লাল দোতলা বাস থেমে গিয়ে আমাদের দুজনকে রাস্তা পারাপারের সুযোগ করে দিয়েছিলো।
৭) একদিন শনিবার বাসায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছি। ফেসবুকে দেখছি - আগুন জ্বলছে একটি বাড়িতে। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি সময় মতোই এসেছিলো। কিন্তু, বিধি বাম! একটি কালো গাড়ির কারণে জ্বলন্ত বাড়ির কাছে যেতে পারছে না সেটি। হঠাৎ, কোথা থেকে যেন একদল মানুষ এগিয়ে এলো। সেই স্বেচ্ছাসেবী'র দলটি খালি হাতে গাড়িটিকে পথ থেকে সরিয়ে দিলো! দমকলের সেই বিশাল গাড়িটি যা পারেনি, একদল নিরস্ত্র, বীর সেনানী তা-ই করে দেখিয়ে দিলো!
হঠাৎ মনে হলো, রাষ্ট্রযন্ত্রকে অনেক কিছু চিন্তা করে চলতে হয়। আধুনিক রাষ্ট্রের চালকদের বহু রীতি-নীতি মানতে হয়। তাই, তাদের চলার গতি ধীর। তাই বলে জনগণকেও বিপদের সময়ে স্থুল গতিতে চলতে হবে? মোটেই না। রাষ্ট্রের বাহুকে শক্তি করতে জনগণ যখন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়, তখন একটি রাষ্ট্র অনেক গুণে শক্তিশালি হয়ে উঠে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


