
আমি প্রথমে আজকের পোস্টটির শিরোনাম এভাবে লিখতে চেয়েছিলাম- 'ওরা কি বাংলাদেশকে ঘৃণা করে?' তারপরে, ভাবলাম, নাহ, এভাবে লেখা উচিৎ নয়। বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ, নিজেদেরই সমস্যার শেষ নেই। তাহলে, কেন ভীনদেশী মানুষেরা বাংলাদেশকে বিপদে ফেলতে যাবে!!! আসলে, ব্লগার কাল্পনিক ভালোবাসা ভাইয়ের 'একটি ইন্টারভিউ ও আমাদের তথাকথিত বাকস্বাধীনতা' শিরোনামের পোস্টটি পড়েই আমার নিজের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করার ইচ্ছে হলো। সেই চিন্তা ডাল-পালা ছড়িয়ে এমন একটি অবস্থানে এসে পৌঁছে যে, বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে আরম্ভ করি।
আসলেই কি ইউরোপিয়ান বা ব্রিটিশরা বাংলাদেশকে ঘৃণা করেন? ব্রিটিশ শাসনামলে অখন্ড ভারতের একটি অংশ ছিলো আমদের এই বাংলাদেশ। সেই সময় ব্রিটিশ রাজদের অনেক নাকানি-চুবানি খেতে হয়েছে এই ভূমিতে। কিন্তু, সে তো অনেক আগের ঘটনা! সেগুলো কি তারা এখনো মনে রেখেছে? নাকি আসলেই বাংলাদেশের কোন সমস্যা আছে যা ব্রিটিশদের জাতীয় স্বার্থকে আঘাত করতে পারে? অনেক চিন্তার ব্যাপার। তবে, এক্ষেত্রে, আমার একটি অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতে চাই।
২০১৩ সাল। আমি তখন ইংল্যান্ডে। চাকরী'র পাশাপাশি গ্লোবাল পোভার্টি প্রজেক্ট নামক একটি সংস্থার এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছি। সেই বছরই বাংলাদেশে রানা প্লাজার ঘটনা ঘটে। যেদিন সেই ঘটনা ঘটে, তার কয়েক দিন পরেই, আমাদের কান্ট্রি কোওর্ডিনেটর আমার সাথে যোগাযোগ করলেন। বললেন যে, হাফিংটন পোস্টে গ্লোবাল পোভার্টি প্রজেক্টের একটি একাউন্ট আছে। আমাকে সেখানে রানা প্লাজার ঘটনা নিয়ে লিখতে হবে।
হাফিংটন পোস্টে লেখার আহবান! সেই সময়ে এটা আমার জন্যে অনেক বড় একটি সুযোগ ছিলো। আমি প্রথমে খুব খুশি হলাম। আমার কাছে ব্যাপারটা মোটেও আপত্তিজনক মনে হলো না। কোওর্ডিনেটরকে জিজ্ঞাসা করলাম- কত লাইনে লিখতে হবে। লেখার টোনটা কি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তার কাছে থেকে লেখার জন্যে কিছু দিন সময় নিলাম।
যখন লিখতে বসলাম, মনের মাঝে ভেসে উঠলো লাশগুলোর চেহারাগুলো। সরকারের উপরও খুব খেপে ছিলাম। দেশটাকে নিয়ে কি করছেন তাঁরা! সেই রকমেরই চিন্তা-ভাবনা। ব্যাস! কলমের ডগা থেকে লাইনের পর লাইন রক্ত বেরুতে লাগলো! লেখা শেষ করে রাতে ঘুমুতে গেলাম। সকালে উঠেই একটা রিভিউ দিয়ে লেখাটা পাঠাতে হবে। এমনই ছিলো ভাবনা!
যথারীতি, বেশ সকালে উঠলাম। মনটা কেমন যেন বিষন্ন। ল্যাপটপের সামনে বসে নিজের লেখাগুলো পড়ে নিজেরই কান্না পেতে লাগলো। পাঠাবো কি এমন একটি লেখা? পাঠালে কি অবস্থার কোন উন্নতি হবে?
এমন যখন ভাবছি, হঠাৎ-ই মনে হলো- এ কি করতে যাচ্ছি আমি! এই লেখাটা হাফিংটন পোস্টের মতো জায়গায় লিখলে আমি অনেক বাহবা পাবো ঠিকই, কিন্তু, দুঃস্থ আমার মাতৃভূমিটি'র যে বেইজ্জতি হবে! যারা আমাকে দিয়ে এই লেখা লিখিয়েছে, তারাও কি এটাই চায়?
আমি জানি না। সত্যি জানি না। আমি মানুষকে বিশ্বাস করতে ভালোবাসি। এখনও আমি এরকমই। মানুষের বিরুদ্ধে খারাপ ধারণা করতে খারাপ লাগে। দেশ মাতৃকা'র বিপদে সাহায্য করতে কখনো পিছ-পা হইনি। ২০১৩ সালেও হলাম না।
হাতের মোবাইল ফোনটি দিয়ে ম্যাসেজ করে কোওর্ডিনেটরকে জানিয়ে দিলাম- আমার পক্ষে এই বিষয়ে কিছু লেখা সম্ভব নয়। তবে, তিনি চাইলে, আমি একটি গল্প বা কবিতা পাঠাতে পারি।
কোঅর্ডিনেটর আর আমার সাথে যোগাযোগ করেননি।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


