
বাংলাদেশের মানুষ যত্র-তত্র ময়লা ফেলে। সরকারী অফিসগুলোতে ঘুষের দাবী নিয়ে কর্মকর্তারা ছড়ি ঘুরাচ্ছেন। রাস্তা-ঘাটে মানুষ জেব্রা-ক্রসিং আর ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পেরুচ্ছেন। রেল-লাইনের পাশের বস্তিগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লক্ষ লক্ষ শিশু বড় হচ্ছে। লেগুনাগুলোতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা হেন্ডলম্যান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামে-গঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু জন্ম দিতে গিয়ে মায়েদের এখনো মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরা হিজড়াদের বেকার সমস্যা নিরসন হচ্ছে না।
এই যখন অবস্থা, বাংলাদেশে ইসলামী শাসনের দাবী তোলা ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো তখন কি করছে? ইসলামী শাসন এলে উপরের সমস্যাগুলো'র যে সমাধান হবে, সেই নিশ্চয়তা জনগণকে দিতে এবং বিশ্বাস করাতে হলে, ইসলামী দলগুলোর যেসব নেতা-কর্মী দেশের শাসন ভার হাতে নিতে চাচ্ছেন, তাঁদেরকে অবশ্যই যোগ্য হতে হবে, জনগণের আরো কাছে আসতে হবে, সমাজের সমস্যাগুলোর সাময়িক সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কায় নিজেকে সমাজের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে মেনে নেওয়ার আহবান করার আগে সামাজিক কর্মকান্ডে নিজে নিয়োজিত হয়েছিলেন। সমাজের তরুণদের সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত করেছিলেন। সমাজের বিবাদে জড়িয়ে পড়া গোষ্ঠীগুলোর মাঝে শান্তি নিয়ে আসার চেষ্টায় নিয়োজিত ছিলেন।
এখনকার ইসলামী দলগুলো মিছিল-মিটিং করা ছাড়া কি ধরণের সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়েছেন সে ব্যাপারে জনগণ খুব একটা ওয়াকিবহাল নন। তাঁরা ভোটে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে সত্যিই বাংলাদেশের আপামর জনগণের মুখে হাঁসি ফোটানোর মত যোগ্যতা এই দলগুলো'র কর্মীদের আছে তা বাংলাদেশের জনগণ এখনো বিশ্বাস করেন না।
সেই বিশ্বাস জন্মানোর দায়িত্ব ভার ইসলামীদলগুলোরই। সেটা যদি তাঁরা করতে পারেন, তবেই, বাংলাদেশের মানুষের ভোট পাওয়ার যোগ্যতা তাঁরা রাখেন সেটা প্রমাণিত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


