somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ এক অন্ধ ভিক্ষুকের সাথে একসাথে সকালের নাস্তা করলাম

২৯ শে জুলাই, ২০২৩ রাত ৮:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ একটু সকাল সকাল উঠে গিয়েছিলাম। বাসার বুয়া বললেন, নাস্তা রেডি হয়নি। হঠাৎ করেই নেহারি খাইতে ইচ্ছা হলো। পকেটে হাত দিয়ে মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো। পকেটে আছে মাত্র ১৮০ টাকা। এই টাকা দিয়ে কি মোহাম্মদপুরের জান্নাত হোটেলের নেহারি খাওয়া যাবে? ব্যাংকে যে টাকা আছে তা মানুষের পাওনা মেটাতে ব্যয় হয়ে যাবে। যা-ই হোক, নেহারি খাওয়ার একটা ট্রাই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পথে নামলাম।

বাসার গেইট থেকে সবে বেরিয়েছি, বয়স্ক একজন মানুষ রাস্তার পাশে চা বিক্রি করছেন। মন চাইলো, পকেটের সকল টাকা দিয়ে মানুষটার সব চা-বিস্কিট কিনে ফেলি! জিজ্ঞাসা করায় মানুষটা জানালেন যে, দিনে ৬০০-৭০০ টাকার পণ্য বিক্রি করেন। বুঝলাম, আমার কাছে এই টাকা নেই। তাই, বাসার গার্ডকে সেই বুড়ো মানুষের কাছ থেকে ১৫ টাকার চা-বিস্কিট খাইয়ে জাঁকির হুসেইন রোড দিয়ে আগে বাড়লাম।

জাঁকির হুসেইন রোডে একজন ৮০-৯০ বছর বয়সী বুড়ি মহিলা আছেন। তাঁকে রোজ দুপুরের খাবার কিনে দেই আমি। রোজ গার্ডেন হোটেলটা পার হওয়ার সময়ে মনে পড়লো, গত ১.৫ - ২ মাস ঐ বুড়ি মহিলাটির খাবারের বিল দেওয়া হয়নি। আমি হোটেলে ঢুকতেই মালিক এক গাল হেসে বললেন- ''স্যার, আইছেন!"

আমি জিজ্ঞাসা করতে তিনি হিসেব করে বললেন যে, ১২ হাজার ৬০০ টাকা বিল হয়েছে। আমি তাঁর কাছ থেকে বিকাশ নাম্বার নিয়ে বুড়ী মহিলাটির সাথে দেখা করতে এগুলাম। গিয়ে দেখি, বেহারি পল্লীর কাছে একটি দোকানের সামনে তিনি বসে আছেন।

"চাচী, সকালে কিছু খাইছেন?" জিজ্ঞাসা করতেই ফেলফেল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। বুঝলাম, পেটে তাঁর কিছু পড়েনি এখনো। হোটেলে ফিরে এসে, একটা রুটিতে ডিম অমলেট ভেজে দিতে বললাম। সেটা নিয়ে বুড়ি চাচী'র কাছে যেতেই দেখি তিনি হাওয়া! যেখানে বসে ছিলেন, সেখানে তিনি নেই। আমি বেহারি পল্লীটিতে খুঁজতে গেলাম। সেখানেও নেই!

ফিরে আসার সময়ে দেখি পল্লির রাস্তার মুখে এক অন্ধ ভিক্ষুক দাঁড়িয়ে। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম- সকালের নাস্তা করেছেন কি না। তিনি বললেন- বাবা, আমাকে কে খাবার দিবে!

আমি তাঁকে ধরে পাশের একটি হোটেলে নিয়ে গেলাম। ম্যানেজারকে ডিম অমলেট-রুটি আর ভাজি দিতে বললাম। তাঁর খাওয়া দেখতে দেখতে মনে পড়লো আমার নিজের পেটে এখনো কিছু পড়েনি। আমিও ডিম-অমলেট অর্ডার দিয়ে দিলাম।

সেগুলো নিয়ে টেবিলে সবে বসেছি, অ্যারে! দেখি, সেই বুড়ী চাচী হেঁটে আসছেন। রোজ গার্ডেন থেকে আনা রুটি-অমলেট আর পানির বোতলটি তাঁকে দিয়ে টেবিলে ফিরে এসে অন্ধ মানুষটার সাথে গল্প জুড়ে দিলাম।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০২৩ রাত ৯:০৭
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×