
একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার অস্ত্রভাণ্ডারে নয়, বরং তার নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ববোধে। প্রশ্ন হলো - রাষ্ট্র কি তার মানুষের রক্তকে সমান মূল্য দেয়? নাকি কিছু রক্ত কেবল সংবাদে শোকবার্তা হয়, আর কিছু রক্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিশোধের ভাষা হয়ে ওঠে?
১৫ ডিসেম্বর ২০২৫। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম (CENTCOM) জানায়, সিরিয়ায় আইসিসের এক হামলায় দুইজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর ঠিক এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে - ১১ জানুয়ারি ২০২৬ - যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় আইসিসের ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। এই অভিযানে অংশ নেয় ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান, আঘাত হানা হয় ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে, ব্যবহার করা হয় ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র। বার্তাটি ছিল স্পষ্ট: আমেরিকার সেনার রক্তের জবাব রাষ্ট্র দেবে।
এর বিপরীতে বাংলাদেশের বাস্তবতা আরও বেদনাদায়ক। সুদানের আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। তারা দেশের বাইরে, জাতিসংঘের পতাকার নিচে দায়িত্ব পালন করছিলেন - শান্তি রক্ষার জন্য, মানবতার জন্য। কিন্তু আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্র সেই রক্তের কোনো দৃশ্যমান জবাব দিতে পারেনি। কোনো কূটনৈতিক চাপ নয়, কোনো আন্তর্জাতিক তদন্তে দৃঢ় অবস্থান নয়, এমনকি প্রতীকী রাষ্ট্রীয় ও সম্মিলিত প্রতিক্রিয়াও নয়।

এখানেই প্রশ্নটা এসে দাঁড়ায় - রাষ্ট্র কার?
আমেরিকা তার নাগরিক ও সেনাদের প্রানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রূপ দেয়। তারা জানে, একজন সেনা মারা মানে কেবল একটি প্রাণহানি নয় - এটি রাষ্ট্রের ওপর আঘাত। আর বাংলাদেশে? আমাদের সেনারা আন্তর্জাতিক মিশনে গিয়ে প্রাণ হারালেও, সেই রক্ত যেন ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় স্মৃতি থেকে মুছে যায়।
এই বাস্তবতায় প্রশ্ন করা অস্বস্তিকর হলেও জরুরি—
কোন দেশের নাগরিক হতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?
কোন দেশের জন্য আপনি নিজের জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত থাকবেন?
কোন রাষ্ট্র তার মানুষের পাশে শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায়?
এই প্রশ্নগুলো কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়; এগুলো রাষ্ট্রচিন্তার প্রশ্ন। কারণ একজন নাগরিক যখন জানে - তার রক্তের দাম আছে, তার মৃত্যুর জবাব রাষ্ট্র দেবে - তখনই সে রাষ্ট্রের জন্য নিঃশর্তভাবে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা সাহসিকতায় কোনো অংশে কম নন। কমতি আছে কেবল রাষ্ট্রীয় অবস্থানে। যদি একটি রাষ্ট্র তার মানুষকে রক্ষা করতে না পারে, অন্তত তাদের রক্তের ন্যায্যতা নিশ্চিত করুক। কারণ রাষ্ট্রের আসল শক্তি শুরু হয় এখান থেকেই-মানুষের জীবনের মূল্য স্বীকার করার মধ্য দিয়ে।
আজ প্রশ্নটা তাই আর কেবল ভূরাজনীতির নয় -
এটি নাগরিক মর্যাদা বনাম রাষ্ট্রীয় নীরবতার প্রশ্ন।
খোদা আমাদের বীর সেনারা যে যেথায় আছেন, তাঁদের রক্ষা করুন। আর, যাঁদেরকে হত্যা করা হয়েছে, আমি তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।
ছবিসূত্রঃ নিউজবাংলা এবং ইন্টারনেট

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


