
একদিন দেশের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিল, "দেশে আর বিদ্যুতের অভাব হবে না। এখন থেকে প্রতিটি মানুষই হবে একটি করে পাওয়ার প্ল্যান্ট!"
ঘোষণা শুনে সবাই অবাক। কেউ ভাবল, নতুন কোনো সৌর প্রযুক্তি এসেছে। কেউ বলল, নিশ্চয়ই পারমাণবিক কিছু। পরে জানা গেল - না, এবার বিদ্যুৎ হবে মানুষের বিষ্ঠা থেকে!
এরপরই শুরু হলো জাতীয় আন্দোলন - "খাও বেশি, আলো জ্বালো!"
আগে মা বকতেন, "এত খাস কেন?" এখন বলেন, "আরেকটা রুটি খা বাবা, আজ রাতের বিদ্যুৎ বিলটা তোকে দিয়েই উঠাতে হবে!"
দেশে "জাতীয় বিষ্ঠা ব্যাংক" চালু হলো। মানুষ টাকা জমা নয়, জমা দেয়... আপনি যা ভাবছেন, ঠিক সেটাই।
সকালে অফিসে যাওয়ার আগে সবাই জিজ্ঞেস করে, "আজ ডিপোজিট করেছ?"
কেউ গর্ব করে বলে, "এই মাসে আমার উৎপাদন গত মাসের চেয়ে ২০% বেশি!"
সরকার "বেস্ট কন্ট্রিবিউটর অ্যাওয়ার্ড" চালু করল। পুরস্কারের নাম - স্বর্ণ কমোড পদক।
শহরের মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিনের বদলে বসানো হলো "পাওয়ার কালেকশন বুথ"। বুথের সামনে লেখা:
"আপনার সামান্য অবদানেই জ্বলবে জাতির বাতি।"
কিছু মানুষ আবার ব্যবসার বুদ্ধিও বের করল।
- "ভাই, অর্গানিক খাবার খেলে নাকি বেশি গ্যাস হয়!"
- "তাহলে?"
- "তাহলে বিদ্যুৎও বেশি!"
দেশে নতুন পেশার জন্ম হলো—বায়োগ্যাস পরামর্শক। তারা ডায়েট চার্ট বানিয়ে দেয়,
সকালে ডাল। দুপুরে ছোলা। রাতে বাঁধাকপি। বিশেষ প্রয়োজনে মিষ্টি কুমড়া।
এই ডায়েটের নাম—লোডশেডিং প্রতিরোধ খাদ্যতালিকা।
একদিন সংসদে বিরোধী দল অভিযোগ তুলল,
- "সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে!"
সরকার বলল,
- "জনগণ ইদানীং খুব স্বাস্থ্যসচেতন। কম খাচ্ছে, তাই উৎপাদনও কম।"
অর্থনীতিবিদেরা হিসাব করলেন, দেশের মোট জনসংখ্যা যদি নিয়মিত অবদান রাখে, তাহলে শুধু বিদ্যুৎ নয়, রাজনৈতিক বক্তৃতাও আর অন্ধকারে হবে না!
শুধু একটা সমস্যা রয়ে গেল।
বিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন নোটিশ এলো -
"যারা নিয়মিত অবদান রাখছেন না, তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে!"
সেদিন থেকে মানুষ আর "কারেন্ট গেল কেন?" বলে না।
সবাই একে অপরকে জিজ্ঞেস করে -
"ভাই, আজ দেশের জন্য তোমার দায়িত্ব পালন করেছ তো?"
শেষ কথা:
বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তি যতই আধুনিক হোক, এই পদ্ধতির আসল শক্তি লুকিয়ে আছে একটি পুরোনো প্রবাদে -
"যেখানে বর্জ্য, সেখানেই সম্ভাবনা!"
(উল্লেখ্য: বাস্তবে মানুষের বিষ্ঠা থেকে উৎপন্ন বায়োগ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব, এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।)
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



