somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অণুগল্পঃ তোরণ অথবা প্লাকার্ডের গল্প

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ময়নার হাট গ্রামের বৃদ্ধ সুশীল দাস গত কয়েকমাস যাবত স্থানীয় চেয়ারম্যনের লোকজনের পেছনে পেছনে ঘুরছে তার ঝাড়ের বাঁশগুলো ফেরত পাবার জন্য। মনটা খুব খারাপ। স্থানীয় চেয়াম্যানের লোকজন তার বাঁশ ঝাড়ের সব বাশ কেটে নিয়ে গিয়েছিল কয়েকমাস আগে। সেই মার্চে। কোথাকার কোন বড় নেতা নাকি ময়নার হাটের উপড়দিয়ে গিয়ে পাশের গ্রামের কোন জায়গায় ফুল দিতে গিয়েছিল। নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ হয়েছে সেখানে। বড় নেতার যাওয়ার পথে বিশাল বিশাল তোরণ বানাতে হয়েছিল। এই খরচ বাবদ এলাকার চেয়ারম্যান সব জায়গা থেকে চাঁদা তুলেছে। দুই মাইল রাস্তায় বিশটা তোরণ বানাতে অনেক খরচের ব্যাপার। বড় নেতার নেক নজরে পড়া দিয়ে কথা, কোন কিছুতেই জাঁকজমকের কমতি রাখতে চান নি তিনি।

যেহেতু সুশীল দাসের চাঁদা দেয়ার সামর্থ ছিল না তাই তার বাঁশঝাড়ের বাঁশ দিতে হয়েছে। পাশের বাড়ির খবির মৃধাদের দিতে হয়েছে পাট। দড়ি বানানোর জন্য। সুশীল দাসের সম্পদ বলতে ছিল চারটা বাঁশঝাড়। এমনিতে ছেলে নাই তার, চারটা মেয়ের বিয়ে দিয়ে এখন বুড়াবুড়ি থাকেন শুধু বাড়িতে। মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে সব কিছু খুইয়েছেন। এখন ভিটাবাড়ি আর বাঁশঝাড়। বাঁশ বিক্রী করেই চলতো তার সংসার। তাই যখন চেয়ারম্যানের লোক তার কাছে গিয়েছিল তখন সুশীল বাঁশ দিতে চায় নি। কিন্তু চেয়ারম্যানের লোকজনের সাথে যদি পেরেই উঠবে তাহলে সুশীল আর লোকজনের পেছনে ঘুর ঘুর করবে কেন? জলে থেকে কুমীরের সাথে লড়াই করবে কিভাবে সে। তার উপর লোকজন কথা দিয়েছিল বড় নেতার চলে যাওয়ার পরে বাঁশগুলা তাকে ফেরত দেয়া হবে। সে কারনেই তাদের পেছনে ঘুর ঘুর করা। তা হলেও অন্তত কিছু পাওয়া যাবে। বাঁশগুলাকে কেটে শুকিয়ে লাকড়ি বানানো যাবে।

আরো কিছুদিন ঘুরার পরে একেবারে নিরুপায় হয়ে সুশীল দাস চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করল। যদিও সেটা খুব সহজ ছিল না তবুও ভাগ্যগুনে সে সুযোগ পেয়ে গেল। চেয়ারম্যান খুব ব্যাস্ত। এই ডিসেম্বরে ময়নার হাট গ্রামেই নাকি কোন মন্ত্রী আসবে। হাইস্কুল মাঠের পুর্বপাশে যে স্মৃতিসৌধ হয়েছে তার উদ্ভোধনের জন্য। সে কারনে সবার মধ্যে চঞ্চলতা। এমন কিছু করতে হবে যাতে মন্ত্রী মহোদয়ের নজরে পড়া যায়।

- তো কাকা বলেন। কি সমস্যা? সংক্ষেপে বলবেন। মন্ত্রী মহোদয় আসবে। দম ফালানোর সময় নাই।
- বাবা, আমার বাঁশগুলা। না হইলে অন্তত বাঁশের দাম।
- কিসের বাঁশ?

জিগাংশু দৃষ্টিতে তাকালেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার নিজস্ব লোকজনের দিকে। তাদের মধ্য থেকেই কেউ একজন তার কানে কানে তাকে জানালো স্বাধীনতা দিবসে বড় নেতার জন্য বানানো তোরণে ব্যাবহার করা সে বাঁশগুলো বিক্রী করে দেয়া হয়েছে। টাকা পয়সার কাজ কি বাঁশ দিয়ে হয়? চেয়ারম্যান সাহেব কথাগুলো শুনলেন। তারপর চেয়ার ছেড়ে উঠলেন। খুব ব্যাস্ত তিনি।

- কাকা, আপনার বাঁশগুলা গ্রামের উন্নয়নের কাজে লাগানো হয়েছে। ঐ বাঁশগুলা ঐ যে গাছ লাগানো হয়েছে তার বেড়া দেয়ার জন্য লাগানো হয়েছে। তারপরেও আপনার যেহেতু সমস্যা, এই কাকারে দুইশ টাকা দিয়ে দে।

দুইশ টাকা হাতে নিয়ে সুশীল দাস বুঝে উঠতে পারেন না কোথায় কোন গাছে বেড়া দেয়ার জন্য তার বাঁশ লাগানো হয়েছে। তার থেকেও বড় একটা ভয় তার মনে। মন্ত্রী কি বড় নেতার থেকে বড় কিনা কে জানে? বড় নেতা গ্রামের উপড় দিয়ে গেছে তাতেই তার বাঁশঝাড় সাফ হয়েছে, মন্ত্রী যদি নেতার থেকে বড় হয় তাহলে তার ঘর থাকবে কিনা কে জানে। কারন বাঁশঝাড়ের বাঁশ এখনও বড় হয় নাই। প্লেকার্ড না কি জানি কয়, ঐ যে শ্লোগান লেখা থাকে, সেটা তো বাঁশের চাটাইয়ের হয়। তার ঘরের বেঁড়া যে বাঁশের চাটাইয়ের!
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জানুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×