somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসুন জেনে নেই পরবর্তী পেট্রল বোমায় কোথায় মানুষ মরবে

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাতক্ষীরা, রংপুর, যাত্রাবাড়ী, চৌদ্দগ্রাম, গাইবান্ধা এই সব এলাকায় ইতোমধ্যে নিয়মিত বিরতিতে প্রাণ সংহারী পেট্রল বোমা হামলা হয়েছে। মাসাধিক কালের অবরোধে পেট্রল বোমা হামলায় হামলার ২টি ধরণ দেখা যায়। প্রথমতঃ পেট্রল বোমা হামলা হয় ভয় ভীতি সৃষ্টির জন্য। দ্বিতীয়তঃ জীবন সংহারের জন্য। উল্লেখ্য প্রথম ধরনের পেট্রল বোমা দিনের বেলা বা সন্ধার দিকে নিক্ষেপ করা হয়, সাধারণত সন্ধা ৭/৮ টার মধ্যে। আর জীবন সংহারী পেট্রল বোমা গভীর রাতে বা মধ্য রাতের কাছাকাছি সময়ে। গত কয়েকদিনে এই প্রবনতাই দেখা গেছে। একটু খেয়াল করলেই ২য় ধরনের পেট্রল বোমার কিছু বৈশিষ্ট পাওয়া যাবে, এর থেকে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার হতে পারে।

জীবন সংহারী পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করা হয় মুলত বিএনপি-জামাত প্রভাবাধীন এলাকায়, এবং এর পর পরই এই বোমা হামলার হতাহত নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। র‌্যাব ডিজি, আইজিপি, স্হানীয় প্রশাষণ সেখানে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। সভার ১/২ দিন পরেই স্হানীয় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের ক্রসফায়ারে দেয়া হয় ( মানে টার্গেট কিলিং করা হয়)। ঠিক একই ফর্মূলা বিগত কয়েকটি স্হানে অনুসরণ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এটা করা হচ্ছে? আর কে এই ঘৃনিত কাজটি করছে?

বিরোধীদল ভীতি সৃষ্টির জন্য সাধারণত প্রথম ধরণের পেট্রলবোমা ব্যবহার করে আসছিল। কিন্ত কারা এই ২য় ধরণের পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করছে। আমার প্রথমিক বিশ্লেষণে এর সাথে সরকার বা তার গোয়েন্দা সংস্হা, বা দলীয় লোকজন জড়িত থাকার সম্ভাবনাই বেশী। কিন্তু কেন? আপনাদের মনে থাকার কথা ২০১৩ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলন যখন চুড়ান্ত পর্যায়ে তখন ঢাকায় বাসে পেট্রল বোমা হামলায় কয়েকজন যাত্রীর দগ্ধ হওয়া এবং সম্ভবত ১ জনের মৃত্যু ঐ সময়ের আন্দোলনকে বেকায়দায় ফেলে দেয়। ফলে বিএনপি বিশেষ ভাবে সমালোচিত হয়।

বর্তমানের এই আন্দোলন যখন মানুষের সহানুভূতি পাচ্ছিল ঠিক তখনই জীবন সংহারী পেট্টলবোমা রংপুরে নিক্ষেপ করা হয়। আরও উল্লেখ করার মত বিষয় হচ্ছে আইজিপি এবং র‌্যাব ডিজির জীবন বাজি রেখে বর্তমান সরকারের জন্য লড়ার ঘোষণা দেয়ার পর দিনই রংপুরে জীবন বিধংসী পেট্রল বোমা হামলা হয়। হামলার পর পরই উপরের নির্মূল ফর্মুলা অনুসরণ করা হয়।

কেন এই জীবন সংহারী পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে? বর্তমানে সরকার শুধুমাত্র বিরোধী আন্দোলনের ব্যাপারে ঘৃণা তৈরীতেই ব্যাস্ত নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে বিরোধীদল দমণ সরকারের উদ্দ্যেশ্য। মজার বিষয় হচ্ছে সরকারের আচরণ, ভাষা, আর নাটকীয়তা দেখে মনে হচ্ছে সরকার বিষয়টি নিয়ে তার পরিকল্পনামাপিক এগুচ্ছে। সম্ভবত এই পরিকল্পপনার অংশ হচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশকে সরকারের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসা। আর নিয়ন্ত্রনের জন্য বিরোধীদের দমন অপরিহার্য। কিন্তু বিরোধীদের সরাসরি হত্যা করলে জনমত সরকারের বিপক্ষে চলে যাবে। বরং পেট্রল বোমা হামলা করে জনমত বিরোধী দলের বিপক্ষে নিয়ে গিয়ে বিরোধীদের হত্যা করলে সরকার সবদিক থেকেই লাভবান। আমার ধারণা সঠিক হলে এই ধরণের জীবন বিধ্বংসী পেট্রল বোমা হামলা হবে কমপক্ষে ১৯ জেলায়। ২০১৩ সালের সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় সরকার ১৯ জেলাকে সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন বলে চিন্হিত করে। অধিকন্ত ঢাকার যাত্রাবাড়ী, ঢাকার উপকন্ঠের গাজীপুর ছিল সরকারের আংশিক নিয়ন্ত্রণহীন। এই ২১ টি স্হানে জীবন সংহারী পেট্রল বোমা হামলা হতে পারে এবং বেশ কিছু মানুষ হতাহত হতে পারে। এর ফলে টিভিতে অনবরত পোড়া মানুষের ছবি, বিভৎসতা, এবং অসহায় মানুষের আহাজারী প্রচারিত হবে। এতে কান্নার পরিমাণ কম হলে প্রয়োজনে সুটিং করে গ্লিসারিন ব্যবহার করে মানুষের আহাজারী টিভিতে প্রচার করা হবে। দুঃখজনক হলেও আমরা ২/৩ দিন আগে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে সেই ধরণের সুটিংই দেখলাম।

ফলশ্রুতিতে, আন্দোলনের ব্যপারে জনমত বিপক্ষে যাবে। সরকার বিনা বিচারে বিরোধীপক্ষের উদীয়মান নেতাকর্মীদের হত্যার লাইসেন্স পাবে। মানুষ সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল না হলেও বিরুপ হবেনা। আর যে সমস্ত অন্চল সরকার বিরোধী বলে পরিচিত তারাও দমিত হবে। সরকার দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবে, আর ব্যর্থ বিএনপি জোট নিশ্চিন্হ হবে।

জয় হোক ক্ষমতা লোভের, জয় হোক ধ্বংসের,
ধ্বংস হোক মানবিকতা।


সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:৫৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×