ইমন বাসে বসে আছে। গাড়ি ছুটছে শহরের দিকে। উদাম গতিতে বাতাস ইমনের চুলগুলো বারবার নাড়িয়ে যাচ্ছে। মুখের মধ্যে বাতাসের শীতল স্পর্শ হালকা পরশে তাকে আরও কঠিন করে তুলছে। হুমম কঠিন। জীবনের কঠিন বাস্তবতা। সে শহরে যাচ্ছে আজ। নিজের দীর্ঘদিনের বন্ধুবান্ধব, পাড়া গলি সব ছেড়ে।মা বাবা বোনকে ছেড়ে। না তাকে মেনে নিতেই হবে এই বাস্তবতা। কারণ তাকে অনেক বড় হতে হবে। জীবনকে অনেক সুন্দর করে সাজাতে হবে। তাইতো উচ্চশিক্ষার জন্য সে ঢাকার একটি কলেজে ভর্তি হয়েছে।
ইমন একটু নড়েচড়ে বসে তার চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগলো। সে কিছুতেই জীবনের হিসেব মিলাতে পারছে না। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। যেমন করে এক জোড়া টুনটুনি পাখি ছোট থেকে বড় করে, তেমনি তাকে তার বাবা মা ছোট থেকে বড় করেছে। আর আজ তার তিল তিল করে গুছানো সকল স্বপ্ন ভেঙ্গে একাকার। তার ইচ্ছেগুলো আজ তাকে বাতাসে ঝরা পাতার মত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
ইচ্ছা ছিল মেরিনে পড়বে। মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হবে ইমন, কিন্তু সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও শুধুমাত্র টাকার কাছে হারতে হয়েছে। প্রাইভেট ভার্সিটি থেকে অন্য কোন বিষয়ে ইঞ্জনিয়ারিং পড়ার স্বপ্নও ব্যর্থ হয়ে গেছে কেবল টাকার জন্য। বাবা অসুস্থ তাই তিনিও আজ বেকারত্বের ঘানি টানছেন। খুবই নীতিবান লোক নীতির কাছেই তিনি আজ পর্যন্ত বন্ধী হয়ে আছেন। অথচ ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা, তার চাচা জেঠাদের তাদের পাশে থাকার কথা থাকলেও আজ তারা একা কেবলই একা। আকাশের বুক চিড়ে এক পশলা বৃষ্টির মত সবই আজ ধুয়ে মুছে শেষ। এখন সে একটি কলেজে ভর্তি হয়েছে। আর তার মাথার উপর সংসার, বাবা মা, অবিবাহিত ৩ বোনের বিশাল দায়িত্ব নিয়ে সে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। তার মাথায় কেবল একটা জিনিসই ঘুরছে। আসার সময় বাবার বলা শেষ লাইনগুলো।
"জীবনে কিছুটা সময় খুবই একা হয়ে যাবি, দুঃসময় তোকে ঘিরে ধরে রাখবে। বুকে বন্ধী করে রাখবে। তোকে তোর বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেবে দুঃসময়। কিন্তু খবরদার নিজের বিবেক কখনো বিক্রি করবি না। ভালকে ভালো আর খারাপকে খারাপ বলে যাবি। আমার জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তোকে পড়াশুনা করাব। জীবনে তোকে সফল হতেই হবে ভালো থাকিস।"
ইমন আর তার চোখ সংযত রাখতে পারছিল না। তার চোখ থেকে জলধারা নেমে পড়ল। সে জানে এই জলধারা তার দায়িত্বের জলধারা ।তাকে কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতেই হবে......এই রংতুলির জীবনে প্রতিটি ঘটনাই কঠিন বাস্তবতা,স্বপ্ন ভঙ্গের বাস্তবতা।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



