somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুস্থ দেহ আর প্রশান্ত মন

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাগতম। আপনাদের সাথে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই, আশা করি আমাকে আপনারা সাহায্য করবেন, আমাকে উৎসাহ দিবেন।
কিছুদিন আগেও আমি নিজেকে খুব অসুস্থ মনে করতাম, এতোটাই খারাপ অবস্থা ছিল যে কোনো রোগ ছাড়াই আমি ভাবতাম এই বুঝি মারা যাবো, এই একটু পরেই। সারাক্ষন চিন্তায় থাকতাম, কি করবো, কি করা উচিত। কারো সাথে ভাল ব্যবহার করতাম না। এক সময় লেখা লেখির খুব আগ্রহ থাকা সত্বেও লেখার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম। দিনের পর দিন আমার অবনতির জন্য নিজেই নিজেকে দায়ী করতাম, তবুও নতুন করে ভাবার কোনো ইচ্ছাশক্তি ছিল না।
হ্যা এসব থেকে খুব সহজেই আমি নিজেকে সরিয়ে এনেছি। আশা করি আপনারাও পারবেন।

আমি বিশ্বাস করতাম- "রোগব্যাধির অনুপস্থিতিই নয়, সুস্বাস্থ হচ্ছে ভাল থাকার এক অন্তর্গত অনুভুতি, যা আপনাকে সবসময় আনন্দ্বোচ্ছল করে রাখে।"

আমি কয়েকটা ধাপেই সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন, ইনশাআল্লাহ্‌। মনে বিশ্বাস রাখুন, আর দেহ-মনকে সবসময় আনন্দে প্লাবিত হতে দিন। আনন্দের প্লাবন সকল রোগব্যাধি, ক্লান্তি, আলস্য ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

১। আমাদের অবশ্যই প্রাকৃতিক খাদ্যে অভ্যস্ত হতে হবে। আপনার প্রতিদিনের খাবার হোক বিজ্ঞানসম্মত। তাই সব ধরনের প্যাকেটজাত ও কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে চলুন। বর্জন করুম রঙ দেয়া মিষ্টি ও টেস্টিং সল্টযুক্ত খাবার। এই টেস্টিং সল্ট ব্রেইন টিউমারসহ বিভিন্ন রকমের মনোদৈহিক জটিলতার সৃষ্টির কারন বলে প্রমান মিলেছে। এছাড়া কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিঙ্কস, প্যাকেটজাত জুস সহ সব ধরনের কৃত্রিম ও প্রক্রিয়াজাত পানীয় থেকে থাকুন শত হস্ত দূরে। প্রতিদিনের খাবারের বড় অংশ জুড়ে থাকুক মৌসুমি ফল, শাক-শব্জি, সব ধরনের ডাল অ সালাদ। সাথে ভাত-মাছ কিংবা মাংস। তেল চর্বি ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন যতটা পারেন। কিন্তু জেনে রাখুন কোন তেলই কিন্তু হার্টের জন্য ভাল নয়। কারন সব তেলেই আছে স্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড বা সম্পৃক্ত চর্বি, যা শরীরে গিয়ে এলডিএল কোলেস্টেরল মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয় অনায়াসেই। কমিয়ে দিন চিনির পরিমান, আজকাল চিনিকে হোয়াইট পয়জন নামে অবিহিত করা হচ্ছে কেনো বুঝছেন তো। এই চিনির জন্যেও মানুষ খুব তাড়াতাড়ি বার্ধক্যে চলে যাচ্ছে। প্রতিদিন লেব ও ডাবের পানি খেতে পারেন নিঃসন্দেহে। আর যারা মোটা হয়ে যাবেন বলে ভয়ে দুধ খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন তারা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন সয়াদুধ। বাদাম খেতে পারেন প্রতিদিন এক মুঠোই যথেষ্ট।

২। প্রতিদিন হাটুন। দুনিয়ার সবচেয়ে সহজ ব্যয়াম বুঝি এটাই। আগে আমি বাড়ি থেকে কলেজ যেতাম রিকশা করে যেখানে মাত্র ১৫ মিনিট লাগতো ঢুলে ঢুলে হাটলেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন্টায় চার মেইল বেগে প্রতিদিন আধঘন্টা হাটা হার্টের ডিজিজ, ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্যে তো বটেই, সুস্থতা-প্রত্যাশী সব মানুষের জন্য প্রয়োজন। নিয়মিত হাটলে শরীর হয় ঝরঝরে, ফুরফুরে। আজকাল চিনিও এমন ঝরঝরে ফুরফুরে বের হয়েছে, ভূলেও খাবেন না।
যারা উচ্চরক্তচাপে ভূগছেন তারা সকালের চেয়ে বিকেলে হাটতে পারেন, এটা শরীরের জন্য ভাল।

৩। হালকা ব্যায়াম আর সাথে দমচর্চা করতে পারেন, এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল যোগ ব্যায়াম। গত দুই দশকে পাশ্চাত্যের ব্যায়ামের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। যারা অঙ্কে সময় শুয়ে বসে কাটান তারা বেশকিছু রোগ ও দূর্বল রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুকিতে আছেন বলে গবেষনায় পাওয়া গেছে।
সাথে একটু দমচর্চা করতে পারেন। যেমন- বুক ফুলিয়ে দম নিন, একেক দফায় ১৫ থেকে ২০ বার। এতে ফুসফুস প্রসারিত হবার সুযোগ পাবে, বাড়বে এর অক্সিজেন ধারন ক্ষমতা। ক্লান্তি দূর হবে। মনে শান্তি আসবে।

৪। নিমগ্ন হোন, ডুব দিন নিজের ভেতর। বিভিন্ন উদ্দ্বেগ কাটাতে ও টেনশনের আগ্রাসন থেকে মুক্তি পেতে দিনের কিছুটা সময় নিরবে কাটান। মেডিটেশন করুন। ধ্যানমগ্ন হোন। আমি নিচে কিছু অডিও রেকর্ড আপলোড দিয়েছি সেসব শুনে শুনে চুপ করে নিজেকে সময় দিন। হারিয়ে যান নিজের ভূবনে। আশে পাশের সমস্ত বাজে চিন্তা থেকে নিজেকে আড়াল করে হালকা পানির উপরে নিজেকে ভাসিয়ে দিন।

৫। দুঃখ স্মৃতি ঝেড়ে ফেলুন মন থেকে। এতে আপনার স্বরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে।

৬। সঠিক জীবনদৃষ্টি দেবে ইতিবাচকতা, তাই ইতিবাচক হোক, আনন্দে বাঁচুন। সমস্ত নেগেটিভ দিকগুলো দূরে রাখুন। আর এজন্য প্রয়োজন জীবন সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্থাৎ সঠিক জীবনদৃষ্টি। ইতিবাচকতা আপনার জীবনে সৃষ্টি করবে সুস্থতা ও নিরাময়ের এক চমৎকার অনুরণন। আশাবাদী অ বিশ্বাসী মানুষদের সংস্পর্শে থাকুন। শরীর মনে ইতিবাচকতা সৃষ্টির জন্য আমি একটি অটোসাজেশনের অডিও আপলোড দিয়েছি। গত শতকের শুরুতে ফরাসী সাইকোথেরাপিস্ট এমিল কুয়ে শুধুমাত্র অটোসাজেশনের মাধ্যমেই শত শত রোগীকে সুস্থ করে তুলেছেন, উজ্জীবিত করেছেন মনোদৈহিকভাবেই। সেসব রোগীরা সারাদিন অনেকবার করে বলতেন- Day by day in every way I am getting better and better.

আপাতত আজ এতটুকুই। সুস্থ দেহ আর প্রশান্ত মনের জন্য এই কথাগুলি আর দুইটি অডিওই আপনার জন্য যথেষ্ট। আশা করি জানাবেন কার কেমন উপকার হল।

অটোসাজেশন লিংকঃ http://www.datafilehost.com/d/6b7cc71c

মন শিথিলায়নের জন্যঃ http://www.datafilehost.com/d/0bea2a1d
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×