somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিজের অধিকার নিজেকেই প্রতিষ্ঠা করতে হয়

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২৭ মার্চ, ২০১৮। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বেইলি রোডে সিগনালে বসা। হঠাৎ করেই পাশের গাড়িটি আমাদের গাড়িতে লাগিয়ে দিল। গাড়ির বেশকিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রানা সাথে সাথেই গাড়ি থেকে নেমে ওই গাড়ি সাইড করতে বলে। কিন্তু সেই গাড়ির লোকজন ন্যূনতম 'সরি' তো বললই না, বরং সিগনাল ছাড়ার সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং উল্টো অভিযোগ করে, আমাদের গাড়িই নাকি ওদের গাড়িতে লাগিয়েছি। পরে আমি অনেক কষ্টে গাড়ি থেকে নেমে দৌঁড়ে ওই গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াই। ওই গাড়িতে বসা প্রায় ৬ ফুট ঢ্যাঙ্গা মোটাসোটা এক লোক (সরি, ভদ্রলোক বলতে পারছি না..কাহিনী শুনুন) উল্টো চিৎকার করে আমাকে বললো, ‘অভদ্রের বাচ্চা’। জীবনে কাউকে গালি দেইনি, শুনিওনি। তখন আমার মেজাজ চরমে। চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কাকে অভদ্রের বাচ্চা বললেন? দোষ করলেন আপনারা, এখন উল্টো আমাদের গালিগালাজ করছেন! ওই লোকের সঙ্গীটি এবার গলা ফাটিয়ে বলতে থাকলো, এখানে হাজারো পুরুষ মানুষ, আপনি মেয়ে মানুষ হয়ে কথা বলছেন কেন? এরই মধ্যে রাস্তায় কয়েক শ' মানুষ ভিড় জমিয়ে ফেলেছে। আমি বললাম, আপনি ''সরি'' না বলা পর্যন্ত এই আমি গাড়ির সামনে দাঁড়ালাম। পারলে আমার উপর দিয়ে গাড়ি নিয়ে যান। আপনি মেয়েমানুষ বলে আমাকে হেয় করে কথা বলছেন, আপনি মেয়ে মানুষের পেট থেকে হন নাই? আজকে গিয়েই বাসা থেকে আপনার মা, বউ, মেয়ে সবাইকে বের করে দেবেন। আমি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেয়েমানুষ হয়ে এখন অফিস করে আসছি। কখনো কখনো মেয়েমানুষ হয়েও অফিসে পুরো শিফট নিজে একা চালাই। তখন ওই লোক বলে, আপনি এমন করছেন কেন..এটা কী আপনার গাড়ি? আমার পাল্টা কথা, কম্পানির গাড়ি হলেই ওটায় লাগিয়ে দেয়া যায়, আর আরেক জনের সন্তান হলে তাকে মেরে আপনি চলে যাবেন, বলবেন সে তো আপনার নিজের সন্তান না। এবার আর জবাব খুজে না পেয়ে চুপ মেরে গেল বলদটা। ততক্ষণে আমাদের চারপাশ ঘিরে অনেক পুলিশ। আমি পুলিশকে বললাম, গাড়ির হিসাব পরে হবে, আগে ওনার অভদ্র আচরণের জন্য সবার সামনে 'সরি' বলতে হবে। এবার আর জবাব খুজে না পেয়ে চুপ মেরে গেল বলদটা। ততক্ষণে আমাদের চারপাশ ঘিরে অনেক পুলিশ। আমি পুলিশকে বললাম, গাড়ির হিসাব পরে হবে, আগে ওনার অভদ্র আচরণের জন্য সবার সামনে 'সরি' বলতে হবে। শুনলাম পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে বলা হচ্ছে, এই জ্যাম অনেক দূর পর্যন্ত গেছে। তাড়াতাড়ি রাস্তা ফ্রি করতে। শুনলাম, একটু দূরে গিয়ে পুলিশ বলছে, স্যার একজন ভদ্রমহিলার সাথে আরেক গাড়ির লোক অভদ্র ব্যবহার করেছে, এজন্য উনি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এর বিচার চাইছেন। পরে গাড়ির মালিক আসে। কয়েক ঘণ্টা বাক-বিতণ্ডা চলে। ওই গাড়ির চালক পুলিশকে বুঝানোর চেষ্টা করে, আমাদের গাড়িই গিয়ে তাদের গাড়ির সাথে লাগানো হয়েছে। আমি বললাম, কেউ কি ইচ্ছে করে আরেক জনের গাড়ির সাথে লাগিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষতি করবে? তারপর বললো, আমরা নাকি ওভারটেক করার চেষ্টা করেছি। বললাম, পুরো রাস্তা গাড়িতে ঠাসা, ওভারটেকের সুযোগ কই ? এরপর পুলিশ ওই ড্রাইভারকে বলেন, চুপ থাকেন। আপনি কোনো যুক্তিই সঠিকভাবে দিতে পারছেন না। এরপর কোনো পক্ষকেই শান্ত করতে না পারায় গাড়ি দুটো থানায় নিয়ে যেতে বলে। আমিও তাতে রাজি। আমাদের লাইসেন্স দিতে পারলেও তাদের মনে হলো, কাগজপত্রে গণ্ডগোল ! শেষমেষ ওই গাড়ির মালিক গাড়ির কাজ করিয়ে দিতে রাজি হন। সবাই যখন যাব যাব করছে তখন আমি বলি, আমার বিচার তো পেলাম না। পরে সবাই গিয়ে ওই গাড়ির লোকজনকে নিয়ে এসে আমার কাছে ''সরি'' বলেন।

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাপলা বা শালুকের পরিচিতি, পুষ্টিগুন ও মানব শরীরের উপকারীতা।

লিখেছেন রবিন.হুড, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


শাপলা অতি পরিচিত একটি নাম তাই না! এটি আসলে একটি জলজ উদ্ভিদ। যাকে আমাদের দেশের জাতীয় ফুল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এটি শ্রীলংকারও জাতীয় ফুল তবে নীল শাপলা সেখানকার জাতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×