somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বাল্যকাল ( পর্ব ১ )

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি গ্রামের ছেলে, গ্রামেই বড় হয়েছি । গ্রামের স্কুলে আমার অনেক বন্ধু ছিল । সময়ের স্রোতে ভেসে এক এক করে সবাই কিভাবে যেন আস্তে আস্তে করে দূরে সরে গেল । কেউ অভাবের তাড়নায়, কেউ বা গ্রাম বদলের কারনে ঝরে পড়ল । আমার এখনও মনে পড়ে, আমার এক চাচা ছিল যার ক্লাশ রোল সবসময় ৪ হত, কোমতোও না বাড়তও না । কতদিন সেই চাচাকে দেখিনা । কিছুদিন আগে আম্মুর কাছে শুনলাম তিনি সৌদি আরব এ আছেন । স্কুলের অনেক ঘটনা আছে মনে পড়লে এখনো হাঁসি পায়  :D – আমাদের স্কুলে প্রতি বৃহস্পতি বারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত । সপ্তাহের বাকি দিনগুলো শান্ত শিষ্ট থাকলেও এই একটা দিনে আমাদের বাঁদরামি যেন বেড়ে যেত । এক বৃহস্পতিবারে আমদেরই ক্লাসের এক ছাত্রিকে ;) চোখ মারতে গিয়ে বন্ধুদের কাছে ধরা খেয়ে পরের এক সপ্তাহ টিজ খাইতে খাইতে পার করেছিলাম ।    আর এক বৃহস্পতিবারে আমাদের প্রধান শিক্ষক বৃক্ষরোপণে উৎসাহ প্রদান করে লম্বা একটা বক্তৃতা দিলেন এবং পরেরদিন গাছ লাগানোর কর্মসূচি ঘোষণা করলেন । তারপর আমাদের একে একে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন আমাদের বাড়ির আশেপাশে কন গাছ আছে কিনা যেটা তুলে এনে স্কুল মাঠে লাগানো যাবে । আমার পালা আসলে আমি বললাম “ স্যার, আমার বাড়ির পাশে একটা বরই গাছ আছে”, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন “কতবড় ???” আমি তখন আমার ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা তর্জনীর গোড়ায় নিয়ে আঙ্গুল তুলে দেখালাম আর বললাম “স্যার এতবড় ।” এরকিছুক্ষন পর আবিস্কার করলাম আমার পিঠে লম্বা লম্বা লাঠির দাগ, আমার চোখে পানি আর স্যার এর মুখে কথা “ আমার সাথে ফাইযলামি ??????????” আর কখনো ফাইযলামি করার দুঃসাহস করিনি । তারপর থেকে এমন সোজা হলাম যে সেই প্রধান শিক্ষকের প্রিয় ছাত্রে পরিনত হয়েছিলাম । স্যার আমাকে খুব ভালবাসতেন । আমার আব্বুর দোকানের সামনে বসে আমাকে প্রানভরে আশীর্বাদ করেছিলেন যেদিন তিনি চাকরি থেকে অবসর নিলেন । তখন বুঝিনি পরে যখন স্যারকে স্কুলে পেতামনা আর একটু বুঝতে শিখলাম তখন স্যার কে খুব মনে পড়ত ।    স্যার, যেখানে থাকবেন ভাল থাকেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন সেদিনের মত । সপ্নের মত চোখে ভাসে সেই দিনগুলো । রবি ঠাকুরের একটা গান মনে পড়ে যায় “ দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়, রইলনা রইলনা সেই যে আমার নানা রঙের দিনগুলো......” ।
আর এক বৃহস্পতিবারে আমদের সবার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল কে কি খেতে পছন্দ করি । আমার তখন আলুর প্রতি আলাদা আকর্ষণ ছিল ( কেন জানিনা) , আমি যথারীতি দাঁড়িয়ে বললাম “আলু” , সারা ক্লাসে হাঁসির রোল পড়ে গেল । তারপরের দিন ছুটি, শনিবারে ক্লাস শেষ হবার পর শুরু হল আসল ঘটনা । আমার এক চাচাত বোন পড়ত আমাদের সাথে, তার নেতৃত্তে সবাই আমাকে “আলুখেকো আলুখেকো আলুখেকো ” বলে খেপাতে লাগলো । প্রথম দিন কিছু না বলে চলে আসলাম । দ্বিতীয় দিনেও স্কুল ছুটি হবার পর একি ঘটনা । সেদিনও সাধারন ক্ষমা ঘোষণা করলাম । কিন্তু তৃতীয় দিনে নিজেকে আর নিয়ন্ত্রন করতে পারলামনা, দৌড়ে গিয়ে আমার সেই চাচাত বোনের হাত ধরে দিলাম একটা কামড় (রাগের মাথায়) , হাতের মাংস সহ চামড়া কেটে রক্তপাত করে বাসায় ফিরলাম । আর এর প্রতিদানে আব্বুর বেতের লাঠি রাতের বেলা আমার পিঠ আর পেছন দিকের সাথে মোলাকাত করল । পরবর্তী এক সপ্তাহ স্কুলে যাইনি । তারপর থেকে সেই চাচাত বোন আমার সাথে কথা বলতনা । তাঁর এই মান ভাঙতে ৫ বছর লেগে যায় । যখন ৮ম শ্রেণীতে উঠলাম তখন কি এক প্রয়োজনে কথা বলা শুরু করে আবার । এখন স্বামী সংসার নিয়ে অনেক সুখে আছে ।

পরবর্তী ঘটনা নিচের লিংক এ ------

আমার বাল্যকাল ২
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:২৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×