somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কূয়াকাটা- সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত যেখানে সহোদর !!!!

১৪ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


যেতে হবে কিন্তু কেন যাব, ব্যাপারটা মোটেও অমন ছিলনা, যেতে হবে তা যেভাবেই হউক !!! এত টাফ জার্নি আমরা আর করি নাই । কিন্তু সৈকতের সে মনোমুগ্ধকর পূর্ণিমা ভুলিয়ে দিয়েছিল সব কস্ট। ফিরতি পথ আরও কঠিন। দশ মিনিটের জন্য লঞ্চ মিস করে সেদিন হয়েছিল এক মিস মিস খেলার ভোগান্তি। পটুয়াখালীতে মিস করে বরিশাল, সেখানেও মিস, তারপর বাসের কোন টিকেট নাই, রাত বারটায় একটা ভাঙ্গাচূড়া বাসে করে ফিরতি পথ, তারপর ট্রলারে করে জোছনারাতে পদ্মা পাড়ি, যেন বর্ডার পাড়ি দিচ্ছিলাম !!!!


কূয়াকাটা যাবার জন্য আমার প্রথম পছন্দ লঞ্চ। কিন্তু লায়লার প্রতি সন্মান দেখাতে গিয়ে সাঁতার না জানা দুই জনকে কোন ভাবেই রাজী করানো গেলনা। কি আর করা , বাসই ভরসা । কপাল এখানেও খারাপ। সরাসরি কূয়াকাটার কোন বাসের টিকেট পাওয়া গেলনা। শেষে বাধ্য হয়ে খেপুপাড়া গামী বাসের টিকেট কাটতে হল। খেপু পাড়ায় বাংলাদেশের একটি আবহাওয়া রাডার স্টেশন আছে।

তিনদিন বন্ধকে পুজি করে আমাদের যাত্রা শুরু হল। ঢাকা ছাড়ার আগেই এক পশলা বৃষ্টি পরিবেশটাকেই শীতল করে দিয়েছিল আগেই। আরিচায় পৌঁছে যথারিতী জ্যামে পড়লাম। ঠান্ডা পরিবেশের বদৌলতে সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত আমরা বাসেই ঘুম। সকাল ছয়টায় যখন ঘুম ভাঙ্গল তখনও দেখি আমরা সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে, রাতে ঝড়ের কারনে ফেরী চলেনি, আর আমরা কেউ তা টেরও পেলাম না !!!!

বরিশাল থেকে কূয়াকাটা যাবার পথে যে নদীগুলো পরে সে নামগুলো আমার অনেক পছন্দের- কীর্তনখোলা, পায়রা, আন্ধার মানিক (ফসফরাসের আধিক্যের জন্য রাতে পানি জ্বলজ্বল করে ) , সোনামুখী, আগুনমুখী, ছোটছোট নদী , কিন্তু কূয়াকাটা যাবার সময়টা লম্বায়িত করার জন্য এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাঁচ পাঁচটা ফেরী পাড়ি দিতে হয়, শেষ ফেরীটাত এমন দুটো ফেরী পাশাপাশি রাখলে আর চালানো লাগতনা।

পটুয়াখালী থেকে বরগুনার আমতলী ঘুরে আবারও পটুয়াখালী জেলাতেই ঢুকতে হয় কূয়াকাটা যাবার জন্য। আর আমতলীর পর থেকে রাস্তাটা গাড়ীর এবং আমাদের ফিটনেসের যে পরীক্ষা নিল তা সারাজীবন মনে থাকবে। একজনত বলে বসল এই রুটে যেহেতু আমরা টিকে গেছি দুনিয়ার যেকোন রাস্তায় আমরা টিকে যাব !!!!

কূয়াকাটা পৌঁছার পর দেখলাম আমরা ছয়ঘন্টা পিছিয়ে গেলাম !!! সময়ের হিসেব নিকেশ নিয়ে আর মেঘের বদৌলতে সূর্যাস্ত মিস করার দুঃখ ভুলিয়ে দিল ভরা পূর্ণিমা। মনোমুগ্ধকর সে সময়টুকু পুরোটায় সৈকতে শুয়ে কাটিয়ে দিলাম আমরা।

মাঝে মাঝে মেঘ এসে ঢেকে দিচ্ছিল অনুপম সে সৌন্দর্য, তখনই মনটা খারাপ হয়ে যেত, যেন- মাঝ রাতে চাঁদ যদি আলো না বিলায়, ভেবে নেব আজ তুমি চাঁদ দেখনি :):)



ইদানিং ট্যুর করা মানেই যেন খাওয়া দাওয়া, রূপ চাঁদা ফ্রাই আর কোরালের দোপেঁয়াজা সাবার করে গুঁড়ি বৃস্টি মাথায় নিয়ে হোটেল রুমে ফিরে যখন জানালা খুলে দিলাম, তখন নিজে নিজেই গুনগুনিয়ে উঠলাম-

বৃষ্টি শেষে রুপোলি আকাশ, সোনালী আভায় আমি খুজে ফিরি
জানালায় জলমগ্ন-হিমেল বাতাস-আমি ডানা মেলি
তবুও কেনো..........................

রাত তিনটা পর্যন্ত আড্ডা দিয়ে কাটিয়ে দিলাম আমরা।

কূয়াকাটার একটায় বিশেষত্ব এখান থেকে সূর্যদয় আর সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়, তবে একই লোকেশন থেকে নয়। সূর্যদয় দেখার জন্য যেতে হবে গঙ্গামোতির চর, একমাত্র বাহন মোটর বাইক, যাত্রা প্রায় আট কিলোর মত।


আগেই ঠিক করে রাখা বাইক ওয়ালারা সূর্য উঠার আগেই হাজির, বীচ ড্রাইভ শেষে আমরা পৌঁছালাম গঙ্গামতির চর, মেঘের সাথে লড়াইয়ে সূর্য মামা আগেই হেরে বসে আছে, কি আর করা :(:(


সূর্যাস্ত দেখতে হলে যেতে হয় লেবুর চর, তার উপারেই সুন্দরবনের একটা অংশ ফাতরার চর। আগুনমুখী নদীর উত্তাল মোহনা আমাদেরকে ফাতরার চরের পথে পা বাড়ানোর সাহস কেড়ে নিল।







কূয়াকাটার পানি তুলনামূলক ভাবে অনেক কম নোনা, আর বৃষ্টির পর যখন আমরা দাপাদাপি করতে নামলাম তখনতো দেখি লবণের কোন অস্তিত্বই নেই। পানি এমনই এক জিনিস দাপাদাপিতে একবার মজা পেলে উঠে আসা কঠিন, আমাদেরও তাই হল। একদল ভার্সিটি পড়ুরা ছেলেপেলের সাথে আধাঘন্টার এক দফা ফুটবলও খেলে ফেললাম আমরা।কূয়াকাটার রাখাইন পল্লীতে আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধমূর্তি।

ফিরতে হবে, কিন্তু বাসের ঐ রাস্তার কথা ভেবে মন চায় থেকে যায়। লঞ্চে ভয় পাওয়া পথিকরাও এবার লঞ্চে রাজি, মাঝে মাঝে জান বাঁচানোর চেয়েও একটু আরামদায়ক অনুভূতি অনেক জরুরী !!! কপালে দুর্গতি লেখা থাকলে আসলে আর কিছু করার থাকেনা। পটুয়াখালীগামী বাসে উঠলাম , রাস্তার দশা দেখে শেষে ড্রাইভারকে বলেই বসলাম এই এলাকার সাংসদ কি কানা না এলাকায় থাকেনা , পানি মন্ত্রীর এলাকা, একটা পর্যটন এরিয়া এমন ভগ্নদশা কেমন করে হয় মাথায় এলনা। আর বাস ড্রাইভাররা এতই সজ্জন যে পথের কোন যাত্রীকেই ফেলে যাবেননা, এক পর্যায়ে বাসে কে যে কার কোলে সেটা আর বুঝে উঠতে পারছিলামনা !!!

তবুও সব কস্ট শেষে থেকে যায় ভাল লাগা টুকু, প্রিয়মুখ গুলোর সাথে কাটানো সময়ের চেয়ে দামী আর কি হতে পারে, তা যেখানেই হউক, যে ভাবেই হউক ।
সূর্য উদয় এর ছবি :
Click This Link

সূর্যাস্তে কূয়াকাটা :

Click This Link
৩৫টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কেন অটোপ্রমোশন চাচ্ছি?

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে অধিভুক্ত কলেজগুলো পুনরায় খোলার এক মাসের মধ্যে তারা সবার ফাইনাল পরীক্ষা নেবে। কিন্তু আমাদের কলেজ আবার কবে খুলবে বা কত বছর পরে খুলবে কেউ জানে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপ্রকাশিত পান্ডুলিপি

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

জীবনের প্রাপ্তি কি?
প্রশ্নের মূখে নিজেকে বড়ই অসহায় মনে হয়!
কেঁচোর মতো গুটিয়ে যাই নিজের ভেতর!

ভাবনা তো ভার্চুয়াল
চেতনা তো অদৃশ্য
আসলেইতো! নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করে হাঁপিয়ে উঠি!

সততা: দুর্বলতা হিসেবে প্রতিপন্ন
কৃচ্ছতা- ব্যার্থতার অনুফল হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার জিজ্ঞাসা

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১:৪২



১। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা দূর্নীতি করে ধনী হলো তাদের সরকার গ্রেফতার করছে না কেন?

২। চিপা গলির মধ্যে রাস্তায় অসংখ্য দোকানপাট, পুলিশ বা সিটিকরপোরেশন ওদের সরিয়ে দিচ্ছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাড়ফুঁকের নামে নারীদের ধর্ষণ করতেন মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ।

লিখেছেন নেওয়াজ আলি, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৪৪


  উনি এক মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল। এই কাঠমৌল্লার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেছেন এক গৃহবধু। এর আগেও এই মৌল্লা ঝাড়ফুঁকের নামে একাধিক নারীকে ধর্ষণ করেছেন। কিন্তু লোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শীর্ষ শিল্পপতিদের মৃত্যু যেন অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে নতুন সংকট বয়ে না আনে!

লিখেছেন এক নিরুদ্দেশ পথিক, ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৫০

১।
মির্জা আব্বাসের কল্যাণে নুরুল ইসলাম বাবুল ভূমিদস্যু পরিচয় পেয়েছেন সত্য, তবে বসুন্ধরার মালিক আহমেদ আকবর সোবাহান সহ বড় বড় ভূমিদস্যু বাংলাদেশে রাজার হালতেই আছে। শীর্ষ বেসরকারি ভুমিদস্যু বসুন্ধরা, ইস্টার্ণ, স্বদেশ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×