![]()
৯২-৯৩ সালের কথা । বিটিভিতে তখন জিলেট ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস নামে বিকালে একটা অনুষ্ঠান দেখাত যেটাতে বিদেশের নানা খেলার হাইলাইটস দেখানো হত। সব খেলার পাশাপশি ফুটবল হাইলাইটস ও ছিল। ফুটবল হাইলাইটস এ ইংলিশ লীগ আর ইতালিয়ান সিরি এ এর খেলার সারসংক্ষেপ মানে গোলগুলো দেখানো হত।
বিদেশী লীগ নিয়ে জানাশোনা হয় ঐখান থেকেই ।
হাইলাইটস দেখে দেখে ক্লাব বলতে তখন চিনেছিলাম ইতালিয়ান এসি মিলান, ইন্টার মিলান, রোমা .........আর ব্রিটিশ ক্লাব লিভারপুল, আর্সেনাল, চেলসি !!!
বর্তমানে জনপ্রিয় বার্সা, রিয়েল, ম্যান ইউ এর কথা মনে পড়ছেনা ।এই কারনেই কিনা মেসির কারনে বার্সাকে সাপোর্ট করলেও ভাল লাগে এসি মিলানকে, লিভারপুল কে । ডিশ না থাকায় পুরো খেলা দেখার কোন সুযোগ ছিলনা , হাইলাইটস দেখে দেখে ভাল লাগা ।
আমাদের সে সময় লীগ বলতে বুঝতাম ঢাকা লীগ- প্রথমে প্রথম ডিভিশন ফুটবল আর পরে প্রীমিয়ার ডিভিশন ফুটবল যার নাম হয়। মোহামেডান আর আবাহনীই ছিল আমাদের আলোচনার ই্স্যু । মোহামেডানের জান প্রান সমর্থক বলতে যা বুঝায় তাই ছিলাম, ক্লাবের সবখেলোয়াড়ের নামই ছিল মুখস্ত। আর এই নিয়ে এক বন্ধুর সাথে মারামরিও করেছিলাম স্যারের বাসায় । আহা সেইসব দিন গুলো।
তবে যেই কথাটা এখন মনে হচ্ছে আমাদের শৈশবে আমরা এসব খেলা দেখার চেয়েও নিজেরা মাঠে বল নিয়ে খেলাটাকেই বেশী জরুরি ভাবতাম !!!
বিকেল হলে, কোনমতে আসরের নামাজটা পরে মাঠে ঝাপিয়ে করাই ছিল জীবনের লক্ষ্য । পৃথিবীর কোন লীগে কে কি করল সেটা নিয়ে মাতামাতির টাইম কই । মাঠ বিহীন বর্তমান বাংলাদেশের ছেলেপেলের জন্য আসলেই কস্ট হয়। নিজেদের অদম্য ইচ্ছা তারা জলাঞ্জলি দেয় টিভি পর্দায় আর ফেসবুকে।
দেশের ফুটবলের দশা এতই করুন যে তারা অনেকেই হয়ত আবাহনী-মোহামেডান কে চিনেইনা, কল্পনাও করতে পারবেনা আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ এদেশে তখন বার্সা-রিয়েল এর এখনকার খেলার চেয়ে কোন অংশে কম উত্তেজনা পূর্ণছিলনা। মনে পরে মোহামেডান জিতলে চিটাগং এর রিয়াজউদ্দীন বাজার এর গরুর মাংসের দাম কমিয়ে দিত ব্যবসায়ীরা খুশীতে !!!
পাড়ায় পাড়ায় ফুটবল ম্যাচের উত্তেজনার কথা মনে পড়লে আবার ইচ্ছা জাগে শৈশবে ফিরে যেতে, জানিনা এখন আর পাড়ায় পাড়ায় তমুল উত্তেজনার ফুটবল খেলা হয় কিনা !!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


