somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্বিন দেখা

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্বিন দেখার খুব শখ ছিল কিন্তু কখনও দেখা হয় নি । আজ কেন জানি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি নেমে এলো .......................আজ এক জায়গায় গিয়েছিলাম , শোনলাম জ্বিন হাজির করা হবে ।তাই জ্বিন দেখার লোভ আর সামলাতে পারলাম না ।আগে অনেকের কাছে গল্প শুনেছি জ্বিনের কিন্তু কখনও বাস্তবে দেখিনি ।শুনেছি জ্বিনের বিকট আওয়াজ করে অন্ধকার ঘরে আসে , রোগীর গোপন খবর সব দেয় ,বিপদ থেকে রক্ষার কথা বলে আবার যাওয়ার সময় মিস্টি , দুধ ও দই খায় আর শেষ মুহূর্তে জুতা নিয়ে চলে যায় ।কিন্তু আজকে বাস্তবে দেখলাম উল্টো অবস্হা ।ঘরে একটা ওয়াল ক্লোথ বিছানো হলো তার উপরে দুটো জায়নামাযের পাটি লাচা হলো ,দুটো লোহার শিক পশ্চিম মুখ করে পোতা হলো মাটিতে ।লোহার শিক দুটো দেখতে অনেকটা দেব-দেবীর হাতে থাকা বর্শার মতো ।যেহেতু বাতে জ্বলবে তাই পুরো ঘটনাটা আমি ভিডিও করার অনুমতি চাইলাম কিন্তু আমায় অনুমতি দেয়া হলো না ।ফের ছবি তোলার অনুমতি চাইলাম কিন্তু সেটা করতেও বাধা দেয়া হলো ।আমি আর জোরা-জুরি করলাম না কারন ফক্বিরের দলে অনেক লোক , যদি মাইর দেয় সেই ভয়ে ।আমি পুরো ঘটনাটা ভিডিও করতে পারি নি ঠিকই রেকর্ড করে নিয়ে আসছি ।জায়নামাযের পাটির উপর ওরা তিনজন বসা বাকীরা একটু দূরে ।মোমবাতি ও আগরবাতী জ্বালানো হলো ।তারপর ফক্বির পুতির মতো পড়া শুরু করলো আর দুহাতে তালি দিতে লাগলো আর পাশের জন ঘার নারাতে লাগলো উপস্হিত সবাই দেখছে ।কিছুক্ষন পরে পাশের জন উল্টা-পাল্টা আচরন শুরু করে দিল , মনে হচ্ছে লোকটার ঘার টার শক্ত হয়ে যাচ্ছে ...........সালাম দিলো ও তার পরিচয় দিল তার নাম নাকি গামছা পাগলা ।কিন্তু তার কথা বার্তা আমার পছন্দ হলো না ।সে উল্টা পাল্টা কথা বললো তারা নাকি সাত ভাই , সিদ্দিক নামে তাদের এক ভাই আছে সে নাকি কান্দি-কাটি পাগলা বাবারে বইলা এমনটা করলো ।পরে একজন আমারে বুঝাইয়া বলল ঐ লোকটা নাকি জ্বিন বহন করে আর যা বলেছে তা নাকি সব সত্য ।কতোটা সত্য কথা বলে তা কিছুক্ষন পরেই বুঝতে পারলাম ।আরো ৪-৫ জনের গোপন বিষয় সম্পর্কে যা বলল তা ভিত্তিহীন ।একজন প্রতিবাদ করলে ফক্বির চিৎকার দিয়ে উঠলো ।পাথরে তসবীহ ও খান জাহান আলীর মাজার থেকে আনা পাথর পানির গ্লাসে ভিজানো হলো আর স্টিলের গামলা চেয়ে আনা হলো তারপর ঢোলের মতো করে পেটাচ্ছে আর মাইজবান্ডারীর মতো করে গাচ্ছে ।পরে ছোট্ট একটা কোরান শরীফ ঐ জ্বিন বহন করা লোকটার সামনে রাখা হলো এবং তাকে অনেক ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হলো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না ।শেষমেস লোকটা তথা ফক্বির একটা কথা বলে ফেলল যাতে কিনা তার মুসলমানিত্বই থাকে না ।বলে ফেলি পরে না হয় তওবা করে নেবো , ” যদি না যাস তবে আল্লাহ ও রাসূলের মাথা খাও “নাউজুবিল্লাহ ।বুঝে গেছি রিয়েল নাকি ফেইক ।তবু অপেক্ষায় আছি শেষটা দেখার ।এবার নাকি ২য় লোক মারফত খিযির (আ:) কে হাজির করা হবে ।ফের জোরে জোরে পুতি পরা হচ্ছে আর ২য় লোকটা জরসড় হয়ে বসে আছে কিছুক্ষন যেতে না যেতেই অস্থির হয়ে নিজের রানে থাবরাচ্ছে আর জোরে জোরে চিল্লাচ্ছে আর শ্বাস নিচ্ছে , কতক্ষন পরে ফক্বীরকে সিজদার মতো করে উপুর হয়ে শুয়ে পড়লো ।যে ভাবে লোকটা লাফাচ্ছিল আমি তো মনে করেছিলাম লোকটার লুঙ্গিই খুলে যাবে ,ভাগ্যিস এমনটা হয়নি হলে হয়তো: আশে পাশের লোকজন কিছুটা বিনোদন পেতো । লোকটা শুয়ে হাফাচ্ছে ,কতক্ষন পরে শান্তসুরে সালাম দিলো আর পরিচয় দিলো নামটা কি যেনো বলল ভুলে গেছি ।তারপর ফক্বির অনেক খবর জানতে চাইলেন আর যা উত্তর দিলো তার অধিকাংশই ছিল ভুয়া ।
একবিংশ শতাব্দিতে এসেও মানুষ এই ঝাড় ফুঁক ,ওজা ও ফক্বির বিশ্বাস করে না দেখলেই ভাবাই যায় না ।।আজব হলেও সত্য এখনও অনেক মানুষ আছে যারা এগুলো বিশ্বাস করে ।শেষমেস লোকটা সোজাসোজু আত্মসমার্পন করলো না অনেক অজুহাত দেখালো ঘর পবিত্র না তারপর লুলা উপস্থিত হলো না ।উপস্থিত লোকজন কে কি বুঝেছে জানি না তবে বুঝে গেছি ওদের ভন্ডামি ।আমি উপদেশ দেয়া কেউ না তবুও বলছি আপনারা এখনও যারা এগুলো বিশ্বাস করেন তারা একটু বুঝতে চেষ্টা করুন এগুলো ভন্ডামি ছাড়া আর কিছুই নয় ।মানুষ ও জ্বিন জাতিকে আল্লাহ তার ইবাদতের জন্য তৈরী করেছেন ।মানুষের মধ্যে যেমন বদ মানুষ আছে ঠিক তেমনি জ্বিনদের মধ্যেও তেমনি বদ-জ্বিন আছে ।হ্যা যদি কামিল আউলিয়া জ্বিন হাজির করে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হলেও হতে পারে ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৫৫
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×