somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হন্টন: শক্তিশালীর বয়ানে নতুনের জেগে ওঠা

০৮ ই অক্টোবর, ২০০৬ ভোর ৪:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বয়ানে বয়ানে ক্লান্ত জীবনে আমার ঢুকে পড়ি একের পর এক বদ্ধ কানাগলিতে। সম্পর্কের কর্পোরেট করণের স্রোতে যোগাযোগ আটকে থাকে মুঠোফোনের দয়ার উপর। একসাথে মিলিত হব এমন কোন প্রস্তাবনার সফল বাস্তবায়নের জন্য ক্রমশ আবশ্যিক হয়ে ওঠে কমিউনিটি সেন্টার। কে যেন আমাদের বলে দিতে থাকে সবকিছু ঘটতে হবে একটি নির্দিষ্ট উপযোগী রূপে। এমনকি সম্পর্কও মুক্তবাজার আদর্শে গঠিত হতে হতে এমন যেন বাসার ঠিকানা খুঁজে পেতেও প্রয়োজন জিপিএস সিস্টেম।

এ শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা নয়, এ শুধু 'আধুনিক' হয়ে ওঠা নয়, এ শুধু ক্লান্তিকর পুনরাবৃত্তি নয়। এমনকি এটা আর কেবল রোমান্টিক গ্রাম আর প্রতিযোগী শহর বিভাজন নয়। এ হল নিজের মত করে নিজের দুই পায়ের উপর নির্ভর করতে ভুলে যাওয়া। প্রথাগত ছকে একের পরে এক আত্মাহুতি। কিন্তু সবকিছুর পরও এও একধরনের হেঁটে চলা, জীবনের মূল সড়ক ছেড়ে, 'কোন দিয়ে দেয়া' কানাগলিতে শিশুতোষ হেঁটে চলা। আসলে এটা হাঁটা নয় এটা হল এস্কিলেটরে চেপে বসা। শুধু সুযোগের অপোয় থাকা আর একটা মর্ষকামী গ্রহিতা হতে থাকা।

তবে ঠেকিয়ে দেয়া যায় এই বদ্ধতা। কিভাবে? এখনকার শক্তিমানের সাথে কিছুদূর চলেই উল্টো দিকে হাঁটার প্রথম পদপেটি দিয়ে ফেলে। দু বন্ধু ফিরছি একটি গন্তব্য থেকে। পুঁজিবাদী পথে চলার রসদ,,মোটামুটি অর্থ মজুদ আছে পকেটে এমনকি গৃহেও। কিন্তু এতো আবার নিশ্চিতির পথে হাঁটা। তাই ঠিক করলাম ষাট টাকায় সিএনজি যতদূর যায় তারপর থেকে হেঁটে বাড়ী ফিরব। অন্য কোন সুলভ বাহনও নেবনা। নিজের জৈব পা-দুটোই হবে আমাদের গন্তব্যে ফেরার বাহন। আমরা হাঁটা শুরু করলাম এবং একসময় পৌছেও গেলাম। এভাবে পৌছাতে পেরে মনে হল অনেক ক্লান্ত দিনের পর চারপাশকে যাপন করতে করতে নতুনকে দেখতে দেখতে পৌছানো। রাস্তাগুলো সবসময় সমতল ছিলনা, অকষ্মাৎ বর্ষায় পথে পানি-কাদাও ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি যেটা ছিল তা হল ঘনিষ্ট হবার সুযোগ; নিজের ভুলতে থাকা পা-দুটোর সাথে এবং আরো বেশি করে চাপিয়ে দেয়া থেকে মুক্ত হবার সুযোগ।

আমরা ঠিক করি যে এখন থেকে আমরা সুযোগ পেলেই হাঁটব। উদ্দেশ্যবিহীনভাবে হাঁটব। উদ্দেশ্যকে পথ থেকেই খুঁজে নেবার চেষ্টা করব। এমন হতে পারে যে আমাদের দলে সকল পেশার সকল শ্রেণী বয়সের মানুষ থাকতে পারেন এমনকি থাকতে পারে কোন বিশেষজ্ঞ, যেমন ডাক্তার থাকলেন তিনি পথে হাঁটতে হাঁটতেই চিকিৎসা করলেন, কোন সমাজবিজ্ঞানী থাকলে পথে পথে হেঁটেই গবেষণা করলেন, কোন কবি থাকলে পথে পথেই সৃষ্টি করলেন। পথে পথে আরো নিবিড়ভাবে জীবনকে দেখব, দেখব কারো বলে দেয়া বা ধরে নেয়া সূত্রে নয়; দেখব হেঁটে হেঁটে ছুয়ে ছুয়ে ঘেমে ঘেমে আর হাঁটব। যতক্ষণ শক্তি থাকে ততক্ষণ হাঁটব এবং সত্যিকারের ক্লান্ত হব, নিজের আনন্দে কান্ত হব শ্রান্ত হব।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৬ ভোর ৪:২৭
২৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৬:৪৪


চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো  মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ  বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

লিখেছেন আমি তুমি আমরা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।

দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।

ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×