বয়ানে বয়ানে ক্লান্ত জীবনে আমার ঢুকে পড়ি একের পর এক বদ্ধ কানাগলিতে। সম্পর্কের কর্পোরেট করণের স্রোতে যোগাযোগ আটকে থাকে মুঠোফোনের দয়ার উপর। একসাথে মিলিত হব এমন কোন প্রস্তাবনার সফল বাস্তবায়নের জন্য ক্রমশ আবশ্যিক হয়ে ওঠে কমিউনিটি সেন্টার। কে যেন আমাদের বলে দিতে থাকে সবকিছু ঘটতে হবে একটি নির্দিষ্ট উপযোগী রূপে। এমনকি সম্পর্কও মুক্তবাজার আদর্শে গঠিত হতে হতে এমন যেন বাসার ঠিকানা খুঁজে পেতেও প্রয়োজন জিপিএস সিস্টেম।
এ শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভরতা নয়, এ শুধু 'আধুনিক' হয়ে ওঠা নয়, এ শুধু ক্লান্তিকর পুনরাবৃত্তি নয়। এমনকি এটা আর কেবল রোমান্টিক গ্রাম আর প্রতিযোগী শহর বিভাজন নয়। এ হল নিজের মত করে নিজের দুই পায়ের উপর নির্ভর করতে ভুলে যাওয়া। প্রথাগত ছকে একের পরে এক আত্মাহুতি। কিন্তু সবকিছুর পরও এও একধরনের হেঁটে চলা, জীবনের মূল সড়ক ছেড়ে, 'কোন দিয়ে দেয়া' কানাগলিতে শিশুতোষ হেঁটে চলা। আসলে এটা হাঁটা নয় এটা হল এস্কিলেটরে চেপে বসা। শুধু সুযোগের অপোয় থাকা আর একটা মর্ষকামী গ্রহিতা হতে থাকা।
তবে ঠেকিয়ে দেয়া যায় এই বদ্ধতা। কিভাবে? এখনকার শক্তিমানের সাথে কিছুদূর চলেই উল্টো দিকে হাঁটার প্রথম পদপেটি দিয়ে ফেলে। দু বন্ধু ফিরছি একটি গন্তব্য থেকে। পুঁজিবাদী পথে চলার রসদ,,মোটামুটি অর্থ মজুদ আছে পকেটে এমনকি গৃহেও। কিন্তু এতো আবার নিশ্চিতির পথে হাঁটা। তাই ঠিক করলাম ষাট টাকায় সিএনজি যতদূর যায় তারপর থেকে হেঁটে বাড়ী ফিরব। অন্য কোন সুলভ বাহনও নেবনা। নিজের জৈব পা-দুটোই হবে আমাদের গন্তব্যে ফেরার বাহন। আমরা হাঁটা শুরু করলাম এবং একসময় পৌছেও গেলাম। এভাবে পৌছাতে পেরে মনে হল অনেক ক্লান্ত দিনের পর চারপাশকে যাপন করতে করতে নতুনকে দেখতে দেখতে পৌছানো। রাস্তাগুলো সবসময় সমতল ছিলনা, অকষ্মাৎ বর্ষায় পথে পানি-কাদাও ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি যেটা ছিল তা হল ঘনিষ্ট হবার সুযোগ; নিজের ভুলতে থাকা পা-দুটোর সাথে এবং আরো বেশি করে চাপিয়ে দেয়া থেকে মুক্ত হবার সুযোগ।
আমরা ঠিক করি যে এখন থেকে আমরা সুযোগ পেলেই হাঁটব। উদ্দেশ্যবিহীনভাবে হাঁটব। উদ্দেশ্যকে পথ থেকেই খুঁজে নেবার চেষ্টা করব। এমন হতে পারে যে আমাদের দলে সকল পেশার সকল শ্রেণী বয়সের মানুষ থাকতে পারেন এমনকি থাকতে পারে কোন বিশেষজ্ঞ, যেমন ডাক্তার থাকলেন তিনি পথে হাঁটতে হাঁটতেই চিকিৎসা করলেন, কোন সমাজবিজ্ঞানী থাকলে পথে পথে হেঁটেই গবেষণা করলেন, কোন কবি থাকলে পথে পথেই সৃষ্টি করলেন। পথে পথে আরো নিবিড়ভাবে জীবনকে দেখব, দেখব কারো বলে দেয়া বা ধরে নেয়া সূত্রে নয়; দেখব হেঁটে হেঁটে ছুয়ে ছুয়ে ঘেমে ঘেমে আর হাঁটব। যতক্ষণ শক্তি থাকে ততক্ষণ হাঁটব এবং সত্যিকারের ক্লান্ত হব, নিজের আনন্দে কান্ত হব শ্রান্ত হব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


