আজ তুমি থাকলে খুব স্বার্থপর হতাম
উত্তরের জানালা খুলে ভিজিয়ে দিতাম অর্ধেক ঘর
ভেজা বালিশে মুখ ডুবিয়ে জ্বর বাঁধাতাম
মিথ্যে করে জানিয়ে দিতাম অফিসে, অসুস্থ
এরপর গাছের পাতাগুলোকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখতাম
আলনা থেকে তোমার শাড়ি বের করে ইচ্ছে করেই ছড়িয়ে দিতাম
তোমার বই, ড্রেসিং টেবিল সব এলোমেলো করে
আমরা এক দৌড়ে ছাদে যেতাম,
আকাশকে ইচ্ছেমত বকে, রেলিং এর উপর উঠে বসতাম
আজ তুমি থাকলে, শহরের সমস্ত রাস্তা আটকে
খালি পায়ে হেঁটে বেড়াতাম
সবগুলো সাইনবোর্ড উল্টোপাল্টা করে
অদ্ভুত সব ছবি আঁকতাম
আজ তুমি থাকলে, সবগুলো স্কুল থেকে শিশুদের নিয়ে
পার্কে রাইডে চষে বেড়াতাম
সবগুলো কৃষ্ণচূড়া আর শিউলি ফুলের গাছে
নিজেদের নাম লিখতাম,
শ+তুমি
লিখে লিখে ভরিয়ে ফেলতাম সংসদ ভবনের দেয়াল
মানিক মিয়ার আলপনা
সবগুলো বাসের নাম পাল্টে ফেলতাম
গন্তব্য-শহর থেকে বাইরে
ফিরতি-যে কোন দিকে
ভাড়া-নেই
আজ তুমি থাকলে খুব স্বার্থপর হতাম
প্রতিটা বারান্দা ভরিয়ে ফেলতাম শব্দ শংকরে
প্রতিটা পাড়ায় ধ্বণিত হত বাতাসের সুর
প্রতি মহল্লায় শুরু হত সুর উৎসব
মানুষ কথা বলত নীচু স্বরে, অথবা বলতই না
আজ তুমি থাকলে পাখিদের সাথে হত সমাবেশ
দেশী এবং পরিযায়ী
গমগমে কন্ঠে ভাষণ দিতাম
দৃষ্টিসীমা ছড়িয়ে দেবার জন্যে
শহরের সব দালান একমাপে ছেঁটে ফেলতাম
শ্রেফ তুমি থাকলেই, খুব স্বার্থপর হতাম
ঝিরিপথে চলতে চলতে তে-মাথা ঝর্ণায় ডুব লাগাতাম
বগালেকে সাঁতার কেটে পূর্ণিমা দেখতাম
সবগুলো জলপাই বাহিনীকে পাঠিয়ে দিতাম কমলা চাষে
আজ তুমি থাকলে সবগুলো দোকান খুলে দিয়ে বলতাম
যার যা ইচ্ছে নিয়ে নাও,
হাসপাতালের সমস্ত রোগীকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে
নিয়ে যেতাম সমুদ্রের ধারে
পাতাল রেলের দুপাশ বন্ধ করে সিনেমা দেখতাম
আর ঝলমলে সব পানাশালা পসরা সাজিয়ে থাকতো,
আতশবাজিতে চমকে চমকে উঠতো এই শহর, রাতভর
আজ তুমি থাকলে খুব স্বার্থপর হতাম
ছাদে ছাদে ছড়িয়ে দিতাম, ঘুড়ি উৎসব
মিথ্যা ভাণ করে সবাইকে জানিয়ে দিতাম
ব্যস্ত আছি খুব, কাজের চাপ
আর বড় বড় বেলুন নিয়ে আমরা উড়ে যেতাম আকাশে
ঘুড়িদের আড়ালে।
শরৎ, ঢাকা, ২৮ শে এপিল, ২০১৪।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ বিকাল ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



