পথে পথে খুঁজছি প্রার্থনা
ঐ যে কৃষ্ণচূড়া, তার ছড়ানো প্রশাখা
লাল লাল শ্বাসমূলে গোপন নিঃশ্বাস
থরো থরো সবুজ, উঁচু করে মুখ
দেখছে চলে যাওয়া, আনমনে চা খাওয়া
নিঃসঙ্গ টি স্টল, লুকানো প্রার্থনা
তুমি বারান্দায়, কিংবা ছাদে
আকাশের কাছে নতজানু হয়ে
চোখদুটো বাজি রেখে
কড়কড়ে সিমেন্টের প’র
কান পেতে
বুঝতে চাইছো দালানের কথা
খাপেখাপে সাজানো গাঁথুনির বিশ্বাস
একগুচ্ছো বেলি ফুল, হাতের ভাঁজ
স্পর্শের স্মৃতি, বিচ্ছেদের বিষাদ
রোমকূপে শিহরণ
কাঁচের বোতলে ঘষে যাওয়া মন
সুগন্ধী কিংবা প্রার্থনা
একটানা সাদা রেখা
কেউ একজন দাগ এঁকে
হেঁটেছে সমান্তরাল,
এই পথেই, শহর থেকে বেরিয়ে
কেউ গেছে ঘরে, কেউ গেছে সীমানায়
পাশের ইলেকট্রিক পোল
হয়ে গেছে শেষ
নিভু নিভু কার্নিশে অফিস ফেরা কাক
গ্রামের স্নিগ্ধ ত্বকে
কূপি জ্বেলে দেখে নদীর নিখূঁত বাঁক
জলের কণায় ফেলে আসা ঝর্ণার ডাক
ফেনায়িত উচ্ছাস, সূফী নাচে জ্যামিতিক বিন্যাস
মসৃণ পাথরে জেগে থাকা শেওলা
প্রার্থনা কিংবা নিরন্তর জিকির,
শুভ্র পর্বতের ধুয়ে যাওয়া ময়লা
টিন ভেদ করে বেরিয়ে থাকা বাঁশ
নীচে ছাউনি
দশ বাই দশের নাগরিক পরিহাস
নেংটো শিশুর কপালে কালো রংয়ের টিকা
পাতলা আঁচল, পোকা খাওয়া দাঁত
প্লাস্টিকের বোতলে ছড়ানো টুথব্রাশ
ফাঁটা বালতি, বিকেলের রোদ
রোদের পিঠে, সন্ধ্যার প্রার্থনা
পথে পথে খুঁজছি প্রার্থনা
এই অশান্ত জনপদের বাঁকে বাঁকে
লুকিয়ে গেছে লজ্জাবতী ঘাস
মানুষের মাথা থেকে শুধুই ইট ভাঁটার ধোঁয়া
ম্যানহোল উপচে অশ্রাব্য, অশ্লীল মানবিক ছায়া
এদেরই ক্লেদাক্ত মলের থাবায়
লুকিয়ে গেছে ছোট ছোট, আলো আলো প্রার্থনা
তাই পথে পথে খুঁজছি প্রার্থনা
আমার ঘরের শিশুটি ঘুমায়না কতকাল
ওর জন্য নিয়ে যাচ্ছি এক সপ্তাহের রেশন
ছোট ছোট, আলো আলো প্রার্থনা।
শরৎ চৌধুরী, ৪ঠা মে ২০১৪, পল্লবী, ঢাকা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



