
ছবির উৎস
মাশরাফিকে বিদায় জানানোর মধ্যে কি এক শংকা যেন সবার। এক অসম্পূর্ণতাও।
সম্ভবত শংকাটা বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রতি হতাশা, দলের চাইতে বিসিবির প্রতি এক ধরণের অনাস্থা আর রাষ্ট্রীয় এবং দলীয় উন্মাদনা হতে বিযুক্তিরও একটি ইঙ্গিতও। অথর্াৎ একটা অনুমান করা যেতে পারে যে দর্শকরা পরিপক্ক হচ্ছেন। এর পেছনে বিশেষভাবে মাশরাফির ধারাবাহিক অবদান আছে। এই অবদানকে বুঝতে হবে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বলয়ের সাথে মাশরাফির প্রতিনিয়ত যে বোঝাপড়া, লড়াই এবং ফিরে আসা সেটাকে পাঠ করে।
মাঠের মাশরাফির সবচেয়ে গুরুত্বপুণর্ গুণের নাম হল "ফিরে আসা"। ইংরেজিতে যেটাকে Grit বলে থাকেন অনেকে।
তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে বারংবার তাঁকে ফেলে দেবার বা দূরে ঠেলে দেবার চেষ্টাকে ভুল প্রমাণ করে তিনি ফিরে এসেছেন, হাল ছাড়েন নি। আত্মসম্মান-প্রশ্নে দিন কয়েক আগে যে প্রেস ব্রিফিং প্রতিক্রিয়া হল সেটি আমার ধারণাকে আরো পোক্তই করেছে।
যাঁদের Grit ভালো, তারা সবসময়ই ইনভেটিভ হন নিজের গুরুত্বকে রিডিফাইন করতে থাকেন, কারণ নিজেকে তিনি সম্মান যেমন করেন তেমনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাসীও তিনি। আজ যে সবাই "বিদায় আমার ক্যাপ্টেন" কথাটি লিখছেন সেটা মাশরাফির অর্জন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এটির সফলতম প্রয়োগ করেছেন মাশরাফি। শুধু রেকডর্ে নয়, স্পিরিটে।
মাঠের খেলার সাথে সাথে নানান খেলাধুলা সামলান ক্রিকেটাররা। বিশ্ব এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটা তো তীব্রভাবেই লক্ষনীয়। খেয়াল করার মত বিষয় হল মাশরাফি এরমাঝেও তাঁর নিজস্ব বক্তব্য বরাবরই হাজির করেছেন, এটি অনন্য এবং দুর্লভ। ক্রিকেট ভালোবাসা এবং একইসাথে উন্মদনাকে নিবৃত্ত করার এই পদ্ধতি বাংলাদেশ ক্রিকেটে একমাত্র মাশরাফির। এই গাটস আর কেউ দেখাতে পারেননি। অনেক প্রতিভাবানও নন। মিডিয়া অনেকক্ষেত্রে সহায়তা করেছে সত্য তবে মূল অবদানটা মাশরাফির, তিনি ঠিকই বুঝেছেন যে সমসাময়িক দুনিয়ায় বানিজ্য-রাজনীতি-জনপ্রিয় খেলার এই পরিপ্রেক্ষীতে ক্রিকেটাররা জনমানস গঠনে ভুমিকা রাখেন, তিনি তাঁর ভূমিকা রেখেছেন যেটি নেতৃত্বের গুণে উদ্ভাসিত।
ক্রিকেট উন্মাদনা এবং অন্ধত্বকে জনমানসের কেন্দ্র থেকে সরানোর কাজটি উনার ছিলনা, যদিও তিনি আলোকপাতের চেষ্টা করেছেন, বলেছেন শিক্ষক, চিকিৎসকরা সমাজের আরো বড় নায়ক, নানান রকম নায়কের ভূমিকার পার্থক্য হাজির করেছে।
ফলে বিদায় নেবার ক্ষেত্রে অতি বড় আয়োজন না করা এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার যে চেষ্টা তাঁর ভেতরে আছে তা নতুন ক্রিকেটারদের মনে রাখা খুব দরকার।
তিনি সফলও, কারণ এই বিদায়ে প্রচলিত অর্থে কোন মাতম তৈরি হয়নি, বরং নিজ নিজ উপলব্ধির জায়গা থেকে সবাই বিদায় জানাচ্ছেন।
আমি মনে করি যে নেতৃত্বের মূল কাজ থেকে তিনি বিদায় নেননি মোটেও, এমপি হবার ক্ষেত্রে যে সমালোচনা উঠেছে সেটির দায়ভার যতটা দলের সম্ভবত ততটা তাঁর নয়। তিনি এই সমীকরণ জানেন।
ফলে মাশরাফিকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে চরম রাজনৈতিক হতাশার মাঝেও আপনার রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেখবার আশা নিয়ে অনেক মানুষ অপেক্ষা করে আছে, এটা ভুলে যাবেন না প্লিজ। রাজনীতি শব্দটাতে গলদ আছে ঠিকই, রাজাদের কথা বলে শুধু, যদিও আপনি জন-প্রতিনিধি। আপনার খুব ভালো টিমমেট এখন আরো দরকার হবে জানি, একদম জনমানুষ যারা। এরা আছে আপনার আশেপাশেই এরা বিশেষ হতে চায়না এরা নিবর্িশেষ থাকাটা শিখে গেছে।
তো প্রিয় নড়াইল এক্সপ্রেস ফিল্ড রেডি, টিমের প্রথম সারিতেই আছেন।
সবার কাছে আপনি প্রিয় হবেন না এটা তো জানেনই, তবে দল নিবর্িশেষে আপনি ভালোবাসা পাওয়ার চেষ্টাটা জারি রাখুন। নিশ্চিত থাকুন ঠকবেন না।
শরৎ চৌধুরী
হিগাশি হিরোশিমা, জাপান
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



