somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“শহরটা যত বড় হয়, মানুষ তত কম জায়গা পায় নিজের কষ্ট রাখার।”

১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আসলে আমি সেদিন ওদের দেখতে চাইনি।
দূর থেকে মনে হচ্ছিল, তিনজন মানুষ বারান্দায় দাঁড়িয়ে শহর দেখছে—এর মধ্যে নতুন কী আছে?


কিন্তু অদ্ভুতভাবে চোখ ফেরাতে পারছিলাম না।
মনে হচ্ছিল, ওরা শহর দেখছে না, নিজেদের হারিয়ে যাওয়া কোনো সময় দেখছে।

আকাশটা ছিল ৯০-এর দশকের বিকেলের মতো—ধূসর, নিচু, ভারী।
নিচে ঢাকার ছাদগুলো ভিজে অন্ধকার হয়ে আছে, দূরের দালানগুলো মেঘে আধাআধি ঢেকে, বাতাসে বৃষ্টির আগের সেই পুরোনো গন্ধ।
এমন আবহাওয়ায় শহরকে নতুন লাগে না, পুরোনো লাগে।
মনে হয়, দালানগুলোও যেন মানুষের মতো—বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, ভেতরে ভেতরে ক্লান্ত।

দূর থেকে ওদের কথা শোনা যাচ্ছিল না।
তবু কেন জানি মনে হচ্ছিল, আলাপটা খুব সাধারণ কিছু দিয়ে শুরু হয়েছে—
শহর, কাজ, বৃষ্টি, পুরোনো দিন—
তারপর হঠাৎ কোথাও গিয়ে থেমে গেছে।

হয়তো ওদের একজন বলছিল, আগে বিকেল নামলে মানুষ ছাদে উঠত।
হয়তো আরেকজন হেসে বলছিল, এখন মানুষ ছাদে ওঠে না, শুধু জীবনের ওপর থেকে একটু তাকাতে আসে।
তারপর মাঝের মানুষটা খুব স্বাভাবিক গলায় বলল,
“শহরটা যত বড় হয়, মানুষ তত কম জায়গা পায় নিজের কষ্ট রাখার।”

কথাটা বলেই হয়তো সে চুপ করে গেছে।
কারণ কিছু কিছু বাক্যের পরে আর কথা এগোয় না, শুধু নীরবতা একটু ঘন হয়।

আর হয়তো সেই নীরবতার ভেতরেই আরেকজন খুব আস্তে বলেছে—
“আমরা আসলে কেউ শহরটাকে মিস করি না, আমরা মিস করি সেই মানুষটাকে, যে এই শহরে একসময় ছিলাম।”

এই কথাগুলো আমি শুনিনি।
দূর থেকে দাঁড়িয়ে কল্পনা করেছি।
তবু বুকের ভেতর এমনভাবে লেগেছে, যেন কথাটা আমার জন্যই বলা।

কারণ সত্যি কথা হলো,
শহর শুধু বদলায় না—
শহর মানুষকে বদলে দেয়।
একসময় যে বন্ধুত্বে শুধু পাশাপাশি দাঁড়ালেই চলত,
এখন সেখানে সবাই কথা বলে, হাসে, খোঁজ নেয়—
তবু কেউ ঠিক কারও ভেতরের খবর রাখে না।

দূর থেকে ওদের ছায়া দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল,
মানুষ আসলে একা হয় হঠাৎ না।
মানুষ ধীরে ধীরে একা হয়।
একই শহরে থাকতে থাকতে,
একই বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হতে হতে,
একই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থেকেও।

শেষবার চোখ তুলেছিলাম যখন,
ওরা তখনও দাঁড়িয়ে।
মেঘ তখনও নেমে আছে শহরের মাথায়।
আমার শুধু মনে হচ্ছিল—
৯০-এর দশক আসলে কোথাও যায়নি,
সে এখনও ফিরে আসে
কোনো মেঘলা বিকেলে,
তিনজন মানুষের নীরব দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিতে,
আর এই কষ্টে—
যে আমরা এখনও পাশাপাশি দাঁড়াই,
কিন্তু আগের মতো আর একে অন্যের কাছে পৌঁছাতে পারি না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Rest in peace Kaarina Kaisar

লিখেছেন রিয়াজ হান্নান, ১৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:১৫


34th July, 2024.
Dhaka, Bangladesh ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ কি শুধু মক্কায় রয়?

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৯

মক্কা গিয়ে "আল্লাহ খোঁজো" আল্লাহ শুধু মক্কায় রয়?
পাশের ঘরে ভুখা জাগে নিভৃতে তার রাত ফুরোয়।
পাশের ঘরের ভুখা জানে রাত কিভাবে প্রভাত হয়!
— শ্রাবণ আহমেদ ...বাকিটুকু পড়ুন

আব্বাসীয় কুরাইশ এবং তাদের হানাফী অনুসারী আল্লাহর সবচেয়ে বেশী প্রিয়

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



সূরাঃ ১০৬ কুরায়শ, ১ নং ও ৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। যেহেতু কুরায়শের আসক্তি আছে
২। আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মে সফরের
৩। কাজেই তারা ইবাদত করুক এ ঘরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোকের দিনে উল্লাস: শুরু হলো কখন থেকে?? বাংলাদেশের রাজনীতির নৈতিক পতনের এক কালো অধ্যায়

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৬ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩






বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, ছিল জাতির নৈতিক বোধের ওপর নির্মম আঘাত। একজন জাতীয় নেতার শাহাদাত বার্ষিকীর দিনে একটি দলের নেত্রীর তথাকথিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাঙা কমল-কলি দিও কর্ণ-মূলে, পর সোনালি চেলি নব সোনাল ফুলে......

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৬ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:১৬


সেই ছোটবেলায় আমার বাড়ির কাছেই একটা বুনো ঝোপঝাড়ে ঠাসা জায়গা ছিলো। একটি দুটি পুরনো কবর থাকায় জঙ্গলে ছাওয়া এলাকাটায় দিনে দুপুরে যেতেই গা ছমছম করতো। সেখানে বাস করতো এলাকার শেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×