somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ব্লগার শান্ত
শ্রেষ্ট হওয়ার জন্য শেষ হচ্ছি।।সেই ছোট থেকেই বেড়ে চলেছি আমি তাও জানি এই বেড়ে উঠার ফলেই এক সময় নিংশ্বেষ হয়ে যাব।আকাশে চাঁদ দেখে অবাক হই না, কিভাবে জুলে আছে ঐ শূন্যে! আমি অবাক হই চাদটাকে কে এত সুন্দর নিয়মে বেধে দিয়েছে।

দেড়শ টাকার ইনভেস্টমেন্ট

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেডিকেল লাইফটা একটা অসহ্যকর লাইফ । ক্লাস , আইটেম , পরীক্ষা এই সব জীবনটা অতীষ্ট
করে দিছে । আজ একটু রিল্যাক্সে আছি । মনে হয় যেন স্বর্গে আছি ।
হঠাত্ করেই ফোনের রিং টোনটা বেজে উঠল । এই একটা মেশিন যেটা কারও সুখ চায়না । যখন তখন
জ্বালা দেয় ।
সে :হ্যালো ।
আমি :বলো
: আপনি কি খুব ব্যস্ত ? আমাকে ফোন দেন না ক্যান?
:ব্যস্ত থাকি তো ।
:কিসের এত ব্যস্ততা ?
:বোঝই তো মেডিকেলের
স্টুডেন্ট।
:এইটা একটা অজুহাত ।
আপনি ইচ্ছা করলেই আমাকে ফোন
দিতে পারেন। আপনি কেন দ্যান না বলেন ? এসব অজুহাত ভাল লাগেনা ।
:বললামই তো একটু ব্যস্ত থাকি। বিশ্বাষ না হলে কিছু করার নেই ।
:এখন কি ব্যস্ত?
:না একটু ফ্রি। বল কি বলবা । না বললে রেখে দাও ।
:ভাইয়া।
:বল
:না থাক কিছু না।
:আচ্ছা ঠিক আছে । কিছুনা যখন তখন রাখ ।
:আচ্ছা আপনার প্রবলেম কি ?
:কোন প্রবলেম না ।
:তাহলে বার বার ফোন রাখতে বলেন কেন ?
:কথা বলতে ইচ্ছা করছে না তাই।
:আমি ফোন রেখে দিব ?
:রেখে দাও
: না থাক । আমি রেখে দিলে আপনার মন খারাপ হবে । তাই রাখবো না ।
: আমি তোমাকে বলছি আমার মন খারাপ হবে ?
: না ।আপনি কি জানতে চান না?
:কি জানতে চাইব?
:উফ । আপনি একটা ছাগল।
:আমি ছাগল , তাতে তোমার কি?
:আপনি গাধা একটা।
: তোমার তাতে কি প্রবলেম ?
:ধুরর!!!
:কি হয়েছে?
:কিছুনা।
:কিছুনা হলে রাখ প্লিজ ।
:ভাইয়া।
:বলো
:আপনার মনে আছে?
:কি?
:আমি ছোট থাকতে ১ম
একটা চিঠি দিয়েছিলাম আপনাকে ? যখন
আপনারা আমাদের পাশের বাসায়
ছিলেন ?
:হুম মনে আছে?
:পড়েছিলেন?
: না
:কেন পড়েন নি ?
:ইচ্ছা হয় নি তাই।
:ও। কি করেছেন চিঠিটা?
:মনে নেই।
:আপনি এরকম কেন?
:কি রকম?
:কেমন বোকা বোকা।
:বোকা থাকা ভাল ।
:আপনি কি আগের মতই আছেন ?
:জানি না ।
:ভাবী মাইর দেয় না।
: বড় ভাইয়া এখনো বিয়ে করেনি । ভাবী আসবে কোথা থেকে ?
: আপনার বৌ র কথা বলছি ? আপনাকে আমার মাইর দিতে ইচ্ছা করে। দিবো ?
:আমার কোন ইচ্ছা নেই তোমার হাতে মাইর খাওয়ার ।
:বিয়ে করবেন কবে?
:দেরী আছে
:কেন?
:টাকা পয়সা নাই। বউ
না খেয়ে মারা যাবে ।
:আপনি এমন ক্যান। জানেন
আমি আপনাকে সেই ক্লাস এইট , এস এস সি,
এইচ এস সি সব কিছুর রেজাল্ট
জানিয়েছি।
এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স
পেয়ে আমি আপনাকেই প্রথম জানাই?
:না জানতাম না। এখন জানলাম।
:আপনি আমাকে কখনই বুঝলেন না।
: বুঝে কি হবে ?
:আসলেই আপনি বোঝেন না।
: দরকার নেই ।
:আপনাকে আমি মোট
আটটা চিঠি দিয়েছিলাম। একটাও
পড়েছেন?
:মনে নেই।
:কই সেগুলো?
:জানি না।
:আপনার আর জানার দরকার নেই।
একটা কথা ছিল।
:বলো
:আপনাকে আমার এটাই শেষ কল।আমি আর
আপনাকে ফোন দিব না।
:এই নিয়ে কয়বার বলেছ এই কথাটা ?
:অনেকবার । কিন্তু এবার আমি সিরিয়াস । এটাই শেষ কল ।
:ও আচ্ছা।
:ভাইয়া
:কি?
:আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। সামনের
মাসের শেষে বিয়ে। ভাইয়া অবশ্যই
আসবেন। আপনাকে এ কথা জানাতেই ফোন
দিয়েছি। কার্ড ছাপানো শেষ।
আপনাদের বাসায় কয়েকদিনেই
তা পৌছে যাবে।
:কংগ্রাটস!!
:বিয়েতে আসবেন।
:অবশ্যই আসব।
:ভাইয়া
:কি?
:একটা কথা বলতে চাই।
:বল
:আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন না?
: কেন ভালবাসবো ?
:আপনি একটা মিথ্যুক ।
:তুমিও মিথ্যুক ।
:কেন ???
:এ নিয়ে ৪ , ৫ বার তোমার বিয়ের
কথা আমায় বলেছ । একবারও বিয়ে হয়নি । খাওয়া ও হয়নি । সবই মিথ্যা ।
এবারেরটাও মিথ্যা।
:তারমানে আপনি আমাকে ভালোবাসেন?
: কে বলছে এই কথা ?
:প্লিজ ভাইয়া একবার শুধু শুনতে চাই
আপনার মুখ থেকে,প্লিজ।
: ফাজিল মেয়ে ফোন রাখ।
ফাজলামি করা বন্ধ করো।
:(কিছুক্ষন চুপ করে থেকে) ভাইয়া এবার
আমি সত্যিই বলছি।
:ওকে
:আমি আপনাকে ভালোবাসি।
: .......
:রাখি ভাইয়া। আর কথা হবে না
: .......
:রাখি
: আচ্ছা রাখ । কার্ড টা আমাকে পাঠিয়ে দিও ।
:আপনি একটা ভীতুর ডিম ।
: তোমার কি প্রবলেম তাতে ?
মেয়েটা ফোন রেখে দিলো । পরে আসলেই
ওর বিয়ের কার্ড পেয়েছিলাম । নিজের মনের অজান্তে চোখে কোনে একটু খানি জল ।
নিজেকে পাষানের মত ধরে রাখতে পারিনি । ছুটে গিয়ে ওর চক্ষুপানে চেয়ে ওকে মনের
গহীনে থাকা পাথরে চাপা কথাটা বলি ।
সে : চল , আমাদের বাসায় চল । বাবাকে সব বলতে হবে ।
আমি : কেন ? কয়দিন পর বিয়ে এখন কি করে সব ম্যানেজ করবে তুমি ?
: আগে চল । তারপর দেখবে ।
: বাসায় গিয়ে বিয়ের কোন আয়োজন না দেখে অবাক আমি ।
কেউ কথা বলছে না আমার সাথে । তাঁর বাবাকে সব বলার পর জানতে পারি বিয়ে নামক
কথাটা একেবারেই মিথ্যে । দেড়শ টাকার একটা নকল বিয়ের কার্ড , তাতে ভুলভাল পাত্রের
বায়োডাটা , আর আমাকে মদন বানিয়ে কথা বের করার একটা টেকনিক খাঁটিয়েছে সে ।
দেড়শ টাকার ইনভেস্টমেন্ট , আমার জীবনের পারমানেন্ট।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদির আকাশে সংঘাতের কালো মেঘ আর প্রবাসীদের পুরনো বন্দিদশা: আমাদের শ্রমবাজারের নতুন সংকট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৮

বাইরে যুদ্ধাবস্থা, রিয়াদের কিং খালেদ বিমানবন্দরে হুতিদের লাগাতার ড্রাফট-মিসাইল হামলা, আর অন্যদিকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইটগুলো একে একে বাতিল বা স্থগিত—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে আবারও এক মারাত্মক অন্ধকারের ছায়া নেমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×