somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিজরারা কি মানুষ না পশু???

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত ঈদের কিছুদিন পরেরে কথা,যশোর থেকে ঢাকা আসতে হবে খুব জরুরী তলব। টিকেট কিনতে যেয়ে দেখি টিকেট নাই । যাইহোক পাশের এক কাউন্টারে দেখলাম এক ভদ্রলোক চিৎকার করতেছে আমি ওই ছিটে যাবনা । দরকার হলে আমি আজ ঢাকায় যাবনা । আমি খুব খুশি মনে যেয়ে মনির ভাইকে বললাম ভাই টিকেটটা আমায় দেন । মনির ভাই বলল তুমি সত্যিই যাবা??আমি বললাম কেন নয়? তার পর etc............
যাইহোক আমার পাশের ছিটের লোকটার নাম পরিচয় একটু পরেই দেয়া যাক। বাসে উঠলাম ছিটেও বসলাম । একটু পর দেখি সবাই আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় আছে,মনে হলো বাসে নতুন কনো জানোয়ার উটেছে। নিজের দিকে মনের অগোচরে একবার তাকালাম,তখন মনে হলো,না আমিতো ঠিকই আছি তাহলে??

তাহলে হ্যাঁ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে সবাই। কিছু সময় পর আমি আমার পাশের ছিটের লোকটাকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার নাম কি?? কোথাই যাবেন??উনি বলল আমি ঢাকা যাবো আর আমার নাম ববি জানেনতো আমারদের নামের আগেপিছে কিছু থাকতে নেই ।আমি বোকার মতো জিজ্ঞাসা করলাম কেন ? উনি বললেন আমরা কনো ধর্মেরনা । মানুষের নামের আগে থাকে তার ধর্মের বিশেষণ। আমরাতো জড় বস্তু না,আবার আমরা জানোয়ারো না,তাহলে আমরা মানুষ কি??(মৃদু হাসি)।

একটু পর আমি আবারো জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কোথায় গেয়েছিলেন ? উনি বললেন আমারতো মা নাই,তাই সর্দারের কাছে গিয়েছিলাম। আচ্ছা মা ছাড়া কি কেও পৃথিবীতে আসতে পারে ?থাক যুক্তি তর্কে নাইবা গেলাম। ও হ্যাঁ উনার পরিচয় দেবার কথা ছিল।

উনি একজন হিজড়া ।আচ্ছা হিজড়া দের সম্পর্কে একটু বলি পৃথিবীতে যখন মানবজাতির আবির্ভাব তখন থেকে এই হিজড়া দেরও আবির্ভাব। হিজড়া শব্ধটা এসেছে আরবি হিজরত থেকে যার আভিধানিক অর্থ পরিবর্তন । ইংরেজিতে বলে ইউনাক । পৃথিবীতে দুই ধরনের হিজড়া রয়েছে। পুরুষের মতো শারীরিক গঠন আর মানসিকভাবে নারীর স্বভাব, তাদেরকে অকুয়া বলা হয়। এছাড়া, অন্য প্রকৃতির যারা তাদেরকে জেনেনা বলা হয়। অকুয়া ও জেনেনা জাতির হিজড়া হচ্ছে প্রকৃতির সৃষ্টি। আর মানুষের হাতে সৃষ্ট বা ক্যাসট্রেড পুরুষদের বলা হয় চিন্নি। তাহলে উনিওতো কনোনা কনো মায়ের সন্তান ,তবে তিনি তার মা নেই বললেন যে,থাক সেই প্রশ্ন আর নাইবা করি কি বলেন?

আচ্ছা আমরা সমাজের এই ভদ্র বেক্তি গুলো সব সময় বলি হিজড়ারা যেখানে সেখানে কাপড় উদাম করে ফেলে অনেকেই চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী ও অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। হ্যাঁ আমিও স্বীকার করতেছি কিন্তু কেন করে??যে সমাজে একজন বাক্তি নিজের মাকে মা বলে ডাকতে পারবেনা,বোনটাকে কাছে নিয়ে আদর করতে পারবে না,কনো পাবলিক বাসে উঠতে পারবে না,মসজিদ,মন্দির,গির্জায় যেতে পারবেনা । ইস্খুল,কলেজ ,বিশ্ববিদ্যালয়য়ে যেতে পারবেনা,যে সমাজের লোক তাদের দিয়া যৌন ক্ষুদআ নিবারন করে তাহলে তারা মানুষ কি ? পেটের ক্ষুদার জন্য আমরা কোটি কোটি টাকা ঘুষ খাই,সুদ খাই আর তারা বাজারে গিয়ে বিষ টাকা চাঁদা চাইলেই দোষ?

হ্যাঁ দোষতো অবশ্যই ওরা কি আর আমাদের মতো ভদ্র ব্যাক্তি না কি!!আমি উনার সাথে যতটা সময় কথা বলেছি আমার সব প্রশ্নের উত্তর কেন জানি প্রশ্ন করার আগেই পেয়ে যাচ্ছিলাম। আমি যদি খুব বড় বড় কথা বলে থাকি,তাহলে ক্ষমা চাচ্ছি মোল্লা,পূরিত,ফাদার,গুণীজন সবার কাছে আপনাদের কাউকে কটাক্ষ করে আমার এই লেখা না । নেহাত শখের বসত লেখা । আজ ভুপেন হাজারীর একটা গানের কথা মনে পড়তেছে
মানুষ যদি সে না হয় মানুষ
দানব কখনো হয় না মানুষ
যদি দানব কখনো বা হয় মানুষ
লজ্জা কি তুমি পাবে না…ও বন্ধু।।


সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:২০
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×