.১।
তুলনাটা বোধহয় রবীন্দ্রনাথই করেছিলেন। বিবাহিত পুরুষকে তিনি তুলনা করেছিলেন মাংশাষী বাঘের সাথে। বাঘ একবার নরমাংশের স্বাদ পেলে তাতেই আসক্ত হয়ে যায় আর পুরুষ আসক্ত হয় নারীতে।
নিজেকে আর দশজন থেকে আলাদাই ভাবতাম আমি। নিজের পৌরষত্ব নিয়ে গর্বও ছিল। কিন্তু বউ যখন দুইমাসের জন্য বাবার বাড়িতে গেল তখন মুখোমুখি হলাম প্রথম পরীক্ষার।
কঠিন পুরুষ আমি। কিন্তু কতটুকু?পনের দিন পর একবার চেষ্টা করলাম অফিস থেকে ছুটি নেয়ার, কিন্তু হলনা। ভাবছিলাম সব ছেরে চলে যাব কিনা....।
পুরানো বন্ধু টগরের সাথে হঠাত্ করেই দেখা। কথায় কথায় বলেই ফেললাম, ঘর খালি আর আমি একা....
প্রস্তাবটা প্রথম ওই তুলল:
- তো হয়ে যাক এক পার্টি?
-তাই? কবে?
-কালই হোক? বা পরষু? তোর বাসাতো খালিই আছে।
-আমার বাসা্য়?
কিন্চিত বিস্মিত হলাম আমি।
-হুমমম.... তোট বউ নেই আর আমরা কয়েকজন পুরানো দিনের মত আড্ডা দেব আর কথা বলব সারারাত।
-একটু ভেবে আমি বললাম, 'কিন্তু রিতু জানলে রাগ করবে'।
আরে ধুর্, ভাবি জানবেনা। আর জানলেও কি? আমরা কি তোর বাসা্য় আড্ডা দিতে পারিনা?
-সেটা ঠিক....।
সেদিনের মত এখানেই সমাপ্ত। আমার বাসায় আড্ডা হবে, চলছে তার আয়োজন।
২
৩/৪ দিন পরের কথা। অফিস থেকে একটু আগেই চলে এলাম। পুরানো দিনের বন্ধুদের সাথে আবার দেখা হবে, কথা হবে; ভাবতেই ভালো লাগছে। আসার পথে আমিই নানরুটি আর কাবাব নিয়ে এাম। ওভেনের পাশে ফ্যান রেখে একটু জিরিয়ে নিলাম। কলিং বেলটা বেজে উঠতেই দরজা খুলে দিয়ে দেখি সাজু, অপু আর সতীষ দাড়ি্য়ে। সবার হাতেই একটা করে বোতল।
-আয়, আয়। কি খবর তোদের? আমি সম্ভাষন জানালাম।
-এইতো, আছিরে দোস্ত। তোদের দোয়ায় ভালোই আছি। তোদের কি অবস্থা? সাজুর উত্তর।
-আছি, আমি ভালোই আছি। আমি বললাম।
-তোর বউ কেমন আছে?
-মনেতো হয় ভালোই আছে।
-কয়মাস হল তোর বউএর? সতিষ জানতে চাইল।
-এইতো... দুই সপ্তাহ পরে ডেলিভারী।
-বাচ্চাটা বোধহয় একটু দেড়িতেই নিলি।
বিয়ের ৪ বছর পরে জন্মাতে যাওয়া আমার বাচ্চা সম্পর্কে সতিষের মন্তব্য।
৩
একে একে চলে এলো হাসিব, স্বপন আর অমল। কিন্তু টগরটার দেখা নাই।
-এই, টগর কোথায়রে? আমি জানতে চাইলাম।
-আসবে, আমি ওকে একজায়গাতে পাঠাইছি। অমলের জবাব।
পাশ থেকে কেউ একজন বলল, 'ততখনে হয়ে যাক একদান....."
-চলুক...।
৪
টুংটাং শব্দে বেজে উঠলো ডোরবেলটা। খুলে দিতেই দেখি টগর দাড়িয়ে আছে। কিন্তু আমি অবাক হয়ে দেখলাম ওর সাথে আরো দুইটা মেয়ে।
-'এরা কারা?'
-'চুপ্প.... আগে ঢুকতে দে' আমাকে আচ্ছন্ন রেখে মেয়ে দুটিকে ভিতরে ঢুকালো টগর। 'ওদেরকে তোর দুই বেডরুমে পাঠিয়েদে...।'
-কি হচ্ছে এসব?
-না বোঝার কিছুই নাই। তোর মন চাইলে যাবি আর না চাইলে যাবিনা। সিম্পল।
অন্য সবার নীরব সমর্থন দেখে বুঝলাম, ব্যাপারটা পূর্বপরিকল্পিত দুটি মেয়ে দুই রুমে বসে রইল আর আমি হাবার মত হা করে তাকিয়ে র্ইলাম।
৫
রাতটা ভালোই কাটলো। সিগারেটের ধোয়া আর মদের মাতলামির মাঝেও একে একে দুইজন দুইটি আলাদা রুমে ঢুকেযাচ্ছে, আবার বেড়িয়ে আসছে। নতুন দুইজন আবার ঢুকছে।
আমি অনেক্ষণ ইতস্তত বোঢ করছিলাম। কিন্তু ক্ষুধার্তবাঘের সামনে নরমাংশ বেশিক্ষণ পরে থাকেনা। মেয়েটার দিকে একপলক তাকিয়েই হাত বাড়িয়ে দিলাম।
রিতু বেশকিছুক্ষণ ফোন করছিলো। লাইনটা কেটে দিয়ে ফোনটা বন্ধ করে রাখলাম। নিজেকেই বললাম, "একদিনেরইতো ব্যাপার.....।"
৬
পরদিন সকাল। নিজের মধ্যে কেমন যেন একটা অনুশোচনা কাজ করছে। নিজের কাছেই নিজেকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। ভাবছি, আমার বউটা কতইনা সুন্দর। আমাকে কতইনা ভালোবাসে, বিসশ্বাস করে। তারপরেও কেন আমি পরনারীতে আসক্ত হব? বারবার মনে পড়ছিলো আমাদের একত্রে কাটানো হারানো দিগুলো, সত্যিই সুখি ছিলাম আমরা। জানিনা গত রাত আমাদের মাঝে কতটা দূড়ত্ব তৈরী করবে।
সত্যি আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। দেবতার মত আমাকে বিশ্বাস করে রিতু। কখনো যদি ও এসব জানতে পারে তবে সেই বিশ্বাসের দেয়ালটা চুরমার হয়ে যাবে।
টিএসসি'র সেই দিনগুলো মনে পরে আমার। যখন ছিলাম আমরা দুজন আর ছিলো অন্থীন ভালোবাসা। সেদিন রাতেই শ্বশুরবাড়ীর উদ্দ্যেশ্যে রওনা দিলাম। ভাবছি, বউকে বলে দিব কিনা.... আমি চাইলে যে ও আমাকে মাফ করে দিবে, সেটা আমি জানি।
৭
১০/১২মাস পরের কথা। ঊ আর বাচ্চা গেছে সিলেট। আমার শ্যলকের বাসায় বেড়াতে গেছে ওরা। ১০ দিন পর আমারও জাবার কথা। ৩দিন যেতে না যেতেই টগরকে ফোন দিলাম, "কিরে, হবে নাকি এক পার্টি? আমার বাসা খালি আছে।"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



