আল্প কিছুদিন আগের কথা; "জেন্ডার" সম্পর্কিত একটি গবেষণার তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম সিলেটের চা বাগানে।দুপুরবেলা স্থানীয় এক রেস্তোরা থেকে গরুর মাংস আর অন্যান্য ভাজি-ভর্তা দিয়ে উদরপূর্তি করে সিলেট শহর সংলগ্ন লাক্কাতুড়া চা বাগানে গেলাম তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে।
তখন প্রায় চারটা বাজে; বাগানের বাচ্চাদের সাথে কথা বলার সময় জানলাম, এরা কেউ দুপুরে খাবার খায়না। সকালের খাবারটা স্কুল থেকে দেয়া হয় আর তারপর আবার সন্ধ্যায় আথবা রাতে। স্কুলের দেয়া কলা/রুটি/বিস্কিট খেয়ে এরা ১২ ঘন্টা কাটায়, আর তারপর একবেলা ভাত ।
অবাক হলাম; তাৎক্ষণিক ভাবে কিছুটা কষ্টও লাগলো বটে। কিন্তু এই খারাপ লাগা বা কষ্ট আমাকে সিলেট ফিরে দুপুর বেলার উদরপূর্তির দুই ঘন্টার ব্যাবধানে নানরুটি দিয়ে ভাজা মুরগির মাংস চিবুতে বাধা সৃষ্টি করেনি।
ঠিকইতো; এইসব কুলি-কামিনের বাচ্চারা নাখেয়ে থাকলে তাতে আমাদের কি? আমরা এদেরকে দেখিয়ে বিদেশ থেকে বড় বড় ডোনার খুজবো, বড় বড় টাকার ডোনেশন আনব আর তাদিয়ে মুরগির রান চিবুব। এদের ভাগে দেয়ার জন্য রয়েছে মুরগি ভাজারএটো হাড্ডিগুলো।
বেচে থাকুক আমাদের মুরগি ভাজা আর বেচে থাকুক এই হাড্ডিসার মানুষগুলো। এদের দেখিয়ে আমরা আরো বড় বড় ডোনেশন আনব; আরও বেশি মুরগি ভাজা খাবো। এদের ভাগে এটো হাড্ডি জুটুক অথবা না জুটুক; তাতে আমাদের কি??
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৩ সকাল ১১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



