


BRICS এমন একটি নাম যা শুনলে গোটা ন্যাটো অঞ্চল ঘুমের মধ্যেও আটকে উঠে l ন্যাটো অঞ্চলের এখন একমাত্র ভয়ের নাম BRICS
কিন্তু কেন? কি করছে ব্রিকস? কি করবে??
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম দিকে ফিরে যাই l জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনা হলো কিন্তু এশিয়া, আফ্রিকা, আরব জাতি রাষ্ট্রগুলো প্রায় সবাই বিপক্ষে অথবা ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকলো ফলে নিন্দা প্রস্তাব পাস হলো না l অর্থাৎ ন্যাটো পলিটিক্স মার খেলো l ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর আমেরিকা ওপেক কে চাপ দিলো তেল উৎপাদন বাড়াতে ওপেক তেল উৎপাদন তো বাড়ালোই না বরং সৌদি সহ কিছু আরবরাষ্ট্র তেল উৎপাদন কমিয়ে দিলো l পরিস্থিতি সামলাতে বাইডেন সৌদি গেলো গোল টেবিলে সমাধান হবে কি খাশোগি হত্যা নিয়ে রীতিমত সৌদি প্রিন্স সালমানের সাথে বাকযুদ্ধ শুরু হয় l আবার ন্যাটো পলিটিক্স ধরাসায়ী হয় l
আমার ধারণা জেনে বুঝে প্ল্যান করেই ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ, ইসরাইল হামাস যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে l যদি ভুল না করে থাকি তাহলে আরও নতুন কয়েকটি যুদ্ধ খুব দ্রুত শুরু হবে বিশেষ করে চীন তাইওয়ান, দুই কোরিয়া আমার মতে রেড লাইনে আছে l জাপান, পোল্যান্ড হয়ত সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পরতে পারে l লক্ষ্য বা প্ল্যান ন্যাটোকে যত বেশি সম্ভব যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা l
ইউক্রেন যুদ্ধটি ছিল দুই সপ্তাহ থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের যুদ্ধ যা টেনে দুই বছর করা হলো l বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা কারন বললে অনেক বড় হয়ে যাবে সংক্ষেপে একটি ঘটনা বলি যুদ্ধের সম্ভবত দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ৩২/৩৫ কি মি দীর্ঘ রাশিয়ান ট্যাঙ্ক বহর কিয়েভের দুই কি মি এর মধ্যে পৌঁছে যায় তার ২৪/৪৮ ঘন্টার মধ্যে জোকারটাকে কান ধরে নিয়ে যাওয়ার কথা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তি l অথচ তাজ্জব ব্যাপার একটি গুলি না করে ৩২ কি মি দীর্ঘ রাশিয়ান বহর পিছু হটে!!!
এই পর্যন্ত যুদ্ধে রাশিয়া প্রায় ১২০০+/- ট্যাঙ্ক সাজোয়া যান হারায় অথচ জার্মান আর ব্রিটেন মিলে ৫০০ ট্যাঙ্ক নেই l প্রথম বুঝতে পারিনি পুতিন কেন এমন করলো!? কিন্তু যখন হামাস হঠাৎ প্রায় বিনা কারনে ইসরাইল আক্রমন করে বসলো তখন হিসাব মেলাতে শুরু করি কি হচ্ছে? কেন হচ্ছে??
ইউক্রেন যুদ্ধের এক বছর পর সবাই হিসেব কসতে শুরু করে রাশিয়া ন্যাটোর লাভ ক্ষতির l দেখা গেলো রাশিয়া প্রথম থেকেই সোভিয়েত আমলের অস্ত্র নামিয়েছে অত্যাধুনিক কোন অস্ত্র তেমন আনেনি l এদিকে ন্যাটোর তো বাঁশ থেকে বাঁশ ঝাড় ঢুকে যাওয়ার অবস্থা ইউক্রেন কে অস্ত্র ভিক্ষা দিতে দিতে নিজের ছাল উঠে যাওয়ার অবস্থা!! আমেরিকা ব্রিটেন তো থলি নিয়ে ইউরোপের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অস্ত্র যোগান দিচ্ছে এখনও তাই l বিশ্বের বড় বড় সমর বিশারদ বার বার সাবধান করছে সব অস্ত্র ইউক্রেনকে দিয়ে দিলে নিজেদের নিরাপত্তা হুমকিতে পরবে l ইউক্রেন বটম লেস বাসকেট অস্ত্র দিয়ে লাভ নেই l
অন্যদিকে চীন ইরানের তখন আলু পোড়া খাওয়ার উৎসব চলছে সেই আলু সাপ্লাই দিচ্ছে স্বয়ং পুতিন পশ্চিমা অস্ত্র ধরা পরে ধ্বংস হয় আর সেই সব অস্ত্র চলে যায় চীন ইরানের হাতে আর তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে নতুন কপি করে পুতিন বসের হাতে তুলে দিচ্ছে l একদিকে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যের অস্ত্র অন্যদিকে রসদের যোগান ন্যাটো প্রায় নাস্তানাবুদ এদিকে পুতিন ভাউ ইরান থেকে খেলনা ড্রোন দিয়ে চালাচ্ছে যুদ্ধ যার বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি আবার চীনের ন্যাটোর অস্ত্রের তুলনায় প্রায় বিনামূল্যে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় ন্যাটোর ড্রোনের বক্সের কস্টিং আর ইরানের ড্রোন এর দাম প্রায় সমান l যেমন হামাসের রকেটের দাম ৮০/৯০ ডলার আর তা আটকানোর ইসরাইলি আয়রন ডোমের একটি রকেটের বা সিঙ্গেল শট কস্ট প্রায় ৫০ হাজার ডলার l ব্যাপারটা প্রায় মার্টিনেজের পুরো ভরে দেয়ার মত lপর্যায়ের l
এই খেলা যখন চলছে তখন শুরু হলো হামাসের চুলকানি কথা নেই বার্তা নেই ইসরাইলে হামলা l আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না!! হামলা তাও যে সে না প্রায় ১৩০০ইসরাইলি নগদ ক্যাশ করে দিলো কিছু পকেটে করে নিয়ে গেলো ব্যস ন্যাটোর তো আবার বি chi কান্দে লুঙ্গি মাথায় বেঁধে নেমে গেলো দাও আবার ইসরাইলে অস্ত্র l অন্যদিকে হিজবুল্লাহ, হুথি মলম তো চলছেই l আমার তো মনে হচ্ছে হিজবুল্লাহ মসজিদে পরে গেছে যেন ইসরাইল লেবানন যুদ্ধ শুরু হয় ওরা থামছেই না l আর হুথি কি বলব!! নজর না লাগ জায়ে মেরা লাল!!
তখন আমার কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেলো অর্থাৎ প্ল্যান হচ্ছে ন্যাটোকে যুদ্ধে নামাও যত বেশি সম্ভব যুদ্ধে নামাও l হয়ত আরও নতুন যুদ্ধ ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে ন্যাটোর জন্য l
সবচেয়ে বড় কালপ্রিট হচ্ছে আমেরিকা আর ব্রিটেন l ন্যাটো গঠনের পর থেকে ইউরোপকে সোনা জাদু আমি আছি না অস্ত্র আমার তোমাকে ভরতে আসলে আমি ভরে দেবো তুমি শুধু আমাকে মাল আর সমর্থন দিতে থাকো বাকি আমি দেখে নেবো আর ইরাকের তেল আফগানের সম্পদ আফিম সব তো তোমরাই নিবে আমার তো অঢেল রিজার্ভ আফ্রিকা তো খাচ্ছ সমস্যা কি? কিন্তু এত বছর যখন ইউরোপ অতি আমেরিকা নির্ভরশীল হয়ে অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করে দিলো সেই সাথে আমেরিকা ব্রিটানের সকল বৈধ অবৈধ যুদ্ধে ফান্ড এবং সমর্থন দিয়ে নিজে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেলো!! তখন ব্রিটেন মুখ ফিরিয়ে ই ইউ থেকে বের হয়ে গেলো ইউরোপের কোন কাকুতি মিনতি শুনলো না l ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে বলা শুরু করলো ইউরোপ যদি ন্যাটকে ফান্ড না দেয় আমেরিকা একা ফান্ডিং বন্ধ করে দেবে l এখন তো ইউরোপের মাথায়
হাত কার পেছনে ঘুরলাম!?
চীন হয়ত এই অপেক্ষাতেই ছিল চীন ভারত রাশিয়া মিলে ব্রিকস আগেই তৈরী করেছিলাম l এখন তোর জোর চলছে ব্রিকস কারেন্সি নামানোর l ডলার ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে ইউরোপের অবস্থা কাহিল, অন্যদিকে রাশিয়া ইরানের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যাক ফায়ার করছে অনেক দেশ এখন আর ডলারের উপর ভরসা রাখছে না l স্বর্ণা বা বিকল্প মুদ্রার দিকে যাচ্ছে l চীন বাংলাদেশ নিজেদের আঞ্চলিক মুদ্রায় লেনদেন করার প্রস্তুতি প্রায় শেষ l ভারত বাংলাদেশ, আঞ্চলিক মুদ্রায় লেনদেন করছে l ইরান চীন রাশিয়া নিজস্ব মুদ্রায় ব্যবসা করছে অন্তর্জাতিক লেনদেন সুইফট ব্যবহার করছে না l অন্য সকল দেশও তা অনুসরণ করছে l
উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে সৌদির সাথে আমেরিকার চুক্তি ছিল তারা ২০২৪ পর্যন্ত তেল কেবল মাত্র ডলারে লেনদেন করবে ২০২৪ এর পর চুক্তি নবায়ন হবে কিন্তু সৌদি সেই চুক্তি নবায়ন করেনি অন্যান্য ওপেক দেশও সৌদিকে অনুসরণ করবে এটাই স্বাভাবিক l ইউক্রেন যুদ্ধে তেল উৎপাদন বাড়ানোর অনুরোধ করেও লাভ হয়নি অর্থাৎ বিশ্ব রাজনীতিতে ন্যাটোর প্রভাব কমতে শুরু করেছে l মূলত ইউরোপ ছাড়া আসলে আমেরিকার আর তেমন কোন মিত্র নেই তাও যে কোন সময় তাও ভেঙে যেতে পারে l এশিয়া আরব আফ্রিকা বহু আগেই ন্যাটো থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে l
এখন শুধু অপেক্ষা ব্রিকস এর নতুন মুদ্রা নিয়ে আসা l এতদিন শুধু ডলারের উপর ন্যাটো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেছে এখন তাও ক্রাশ হয়ে যাবে l একের পর এক যুদ্ধ সেই সাথে যদি ডলার ক্রাশ হয় তাহলে ক্যাপিটালিসমের কবর হবে l বিশ্ব মানবতা হবে মুক্ত l কিন্তু ন্যাটো কি এত সহজে হার মানবে?? আমার মতে না কখনোই না l ওরা বিশ্ব ধ্বংস করে দিবে তবু তা হতে দিবে না ওদের হাতে শেষ অস্ত্র তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ l আমরা হয়ত সেদিকেই যাচ্ছি চীন রাশিয়াও জানে ন্যাটো শেষ ছোঁবল দিবেই ওরাও প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পোল্যান্ড সীমান্তে চীন বেলারুশ মহড়া তাই প্রমান করে l রাশিয়া তো মাঠেই!! ন্যাটোর প্রতি চীন রাশিয়ার ডাক, COME TO PAPA!!
যা বললাম আমার নিজের ভাবনা ভুল হতে পারে থাকতে পারে I তবে সবার প্রতি অনুরোধ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর সতর্ক নজর রাখুন আরও বেশি আলোচনা করুন I মানসিক প্রস্তুতি নিন যে কোন পরিস্থিতির I ধন্যবাদ I
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ৮:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



