ধানখেতে কীটনাশক ছিটাচ্ছিলেন দরিদ্র খেতমজুর নরেশ হাসদা (৫০)। খেতটি তাঁর নিজের নয়, কৃষক মতিউর রহমানের, ওই বাড়িতে নরেশ কাজ করেন প্রায় ১০ বছর। সোমবার সকালে ধানখেতে বিষ ছিটানোর সময় নরেশের পাশে কিছু সময় কৃষক মতিউরও ছিলেন। তারপর গৃহস্থ ফিরলেন নিজের গৃহে। মজুর নরেশ পিঠে কীটনাশকের সিলিন্ডার নিয়ে ধানখেতে ঘুরে ঘুরে বিষ ছিটিয়ে চললেন।
পরদিন সকালে গৃহস্থ অপেক্ষা করছেন নরেশ আসবেন যথারীতি, তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ফের যাবেন ধানখেতে বিষ ছিটাতে। কিন্তু নরেশ এলেন না। বেলা গড়াচ্ছে দেখে মতিউর গেলেন নরেশের বাড়ি। নরেশ কী করে? কাজে যায়নি কেন?
সে তো কাল ঘরে ফেরেনি!
নরেশের স্ত্রীর মুখে এই জবাব শুনে মতিউর অবাক হলেন। এখানে-ওখানে খোঁজা হলো নরেশকে; কোথাও পাওয়া গেল না তাঁকে। শেষে মতিউর ছুটে গেলেন তাঁর সেই ধানখেতে। গিয়ে দেখলেন, জমিতে পড়ে আছেন নরেশ। মৃত। পিঠে যথারীতি চেপে বসে আছে কীটনাশকের সেই সিলিন্ডার!
বুধবারের প্রথম আলোর বিশাল বাংলা পাতায় ‘ধানখেতেই মৃত্যু’ শিরোনামের ছোট্ট খবরটি পড়ে নিস্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম। প্রতিদিন কত মৃত্যুসংবাদ পড়ি! কিন্তু নরেশের মৃত্যুর খবরটি কেন যে পুরো সত্তাকে এমন করে নাড়া দিয়ে গেল! আমি যেন দেখতে পাচ্ছি: ধানখেতে উপুড় হয়ে পড়ে আছেন নরেশ, খালি গা, পিঠে কীটনাশকের সিলিন্ডার। গলানো রুপোর মতো রোদ গলে গলে পড়ছে বৈশাখের আকাশ থেকে। হাওয়া আসছে থেকে থেকে, শিরশিরে হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে কচি সবুজ সমুদ্রে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


