somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

আমি ভাল আছি তুমি ভাল থেকো। --------------------------------------------

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আসিফ বিদেশে আসার পর তাঁর স্ত্রীর জন্য মন খুব লাগতে লাগলো । বিয়ে করার ছয় মাস পর তাঁকে দুবাই আসতে হল । সারা দিন কাজ শেষ করে স্ত্রীর সাথে রাতে অনেক কথা বলে । বউ বাবা মায়ের সাথে থাকে । সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আসিফ । দেখতে দেখতে এক বছর কেটে গেল । দেশে আসার দিন বউয়ের জন্য একটা স্বর্ণের হার নিয়ে এলো । ভালই কাটছে আসিফ আর সুমনার সংসার । যদিও সুমনার চাহিদা একটু বেশি তবে আসিফ মানিয়ে নিয়েছে । তিন মাস ছুটি শেষ আবার দুবাই । সুমনার বাহিরে যাওয়া নিয়ে মার্কেটিং শাশুড়ির বেশি পছন্দ না। দিন দিন তাই শাশুড়ির সাথে মন মানিল্য হচ্ছে । স্বামী মাঝে মাঝে ফোনে রাগ করে । আসিফ আর সুমানার ভুল বুঝাবুঝি । আসিফ কার কথা বিশ্বাস করবে বুঝতে পারে না। নানা মানুষের বউদের কথা শুনে সুমনাকে ভুল বুঝতে থাকে । সুমনার খালাত বোনের বিয়েতে যায় সুমনা সেখানে অনেক কাজিনদের সাথে ছবি তুলে । সুমনার প্রিয় কাজিন যে ইটালি থাকে বউ সহ । অনেক দিন পরে আসায় তাঁর সাথে কিছু ছবি খুব হাসি খুশি ভাবে তুলে । সেই হাসি খুশি ছবি গুলো সুমনার শাশুড়ি আবার ছেলের কাছে পাঠায় । স্বামী স্ত্রী মাঝে ভুল বুঝাবুঝি শুরু হয়। স্বামীর ধরনা তাঁর মায়ের কথা ঠিক । সুমনার ব্যাংকে আসিফ টাকা পাঠাত । সেই খানে জামা আছে প্রায় পনের লক্ষ টাকা । আসিফ বলল হটাৎ সেই টাকা গুলো তাঁর লাগবে । কিন্তু সুমনা বলল তাঁর পক্ষে এখন সেই টাকা দেয়া সম্ভব না । যাই হোক টাকার জন্য সেই ভুল বুঝা বুঝি চরম পর্যায়ে চলে গেল । কেউ কারো সাথে কথা বলে না। আসিফ জানিয়ে দিল সে আর সুমনা কে নিয়ে সংসার করতে চায় না। সুমনাও চলে আসলো বাপের বাড়ি । সুমনার পরিবার মেয়ে কে খুব ভুল বুঝতে লাগলো । সুমনার মা জানতে পারে যে সুমনার কাছে প্রায় পনের লক্ষ টাকা আছে । অনেক বার মেয়ের কাছে টাকা কোথায় আছে জানতে চায় । সুমনা কিছুই বলে না। এর মধ্য সুমনা একদিন হাতে সত্যি ডিভোর্স লেটার পায় । সুমনা ভাবতে পারে না আসিফ তাঁকে তালাক দিতে পারে । সুমনা ভেবেছিল দেশে আসলে হয়ত সুব ভুল বুঝা বুঝির অবসান হবে । কিন্তু আসিফ একবার তাঁর কোন খবর নিল না। সুমনার প্রাইমারি বিদ্যালয়ে একটা সরকারি চাকুরি হয় । চাকুরি নিয়ে চলে আসে একদম গ্রামে সুমনা চলে যায় তিন বছর । আসিফের জন্য মনটা প্রায় কাঁদে । মানুষ চাইলে সব কিছু ভুলতে পারে না। সুমনাও আসিফ কে ভুলার চেষ্টা করে ভুলতে পারে না ।
আসিফ দেশে ফেরে সুমনা কে ডিভোর্স দিয়ে তিন দিন পরেই চলে যায় দুই বছর পরে এসে তাঁর এক খালাত বোন কে বিয়ে করে । আসিফের এক মেয়ে এখন এক বছর । কুয়েতে যুদ্ধ আসিফ দেশে ফিরল । টাকা পায়সা তেমন কিছুই আর আনতে পারলো না। আসিফের বর্তমান বউয়ের নাম মিতা । কিন্তু আসিফ মাঝে মাঝে ভুল করে সুমনা বলে ডাক দেয় আর তাতে শুরু হয় ঝগড়া । আসিফ সকালে ঘুম থেকে উঠতেই একটা চিঠি পেল বসুন্ধরা হাউজিং থেকে সি ব্লকে তাঁর একটা জমি কিনা । প্রথমে ভাবল ভুল চিঠি। পরে যেয়ে দেখে না সত্যি তাঁর নামে একটা জমি কিনা ।
দলিল দেখে অবাক । আসিফ দেখল জমিটা সুমনা আসিফের নামে কিনেছে ।
আসিফ দেখল তাঁর মায়ের সব কথায় ভুল ছিল । আসিফ কি করবে বুঝতে পারে না । সময় গড়িয়ে অনেক দিন । সুমনার সাথে প্রায় ৭ বছর পর আসিফের দেখা গাজিপুর এক বিয়েতে । আসিফ অবাক সেই আগের মত নিরব শান্ত মেয়ে । আসিফের চোখে পানি ঝর ঝর করে পড়তে থাকে । সুমনা চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে । আসিফ ভুল আমার অ ছিল । সব কিছু তোমাকে জানানো উচিৎ ছিল ।
সুমনা বিদায় নেয় আসিফের কাছ থেকে । আসিফ বলে তোমার নাম্বার টা পেতে পারি । সুমনা বলে আমি আর পিছন ফিরে দেখতে চাই না আসিফ । আমি ভাল আছি তুমি ভাল থেক ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

সত্যকে স্বীকার করার সাহস কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে?

আমাদের দেশে এখন অদ্ভুত এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। আপনি কোনো দলের সমালোচনা করলে- আপনি সেই দলের শত্রু।
আপনি কোনো দলের একটি ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৮ বছর পর ঋণের খোঁজে সন্তান বনাম হাজার কোটি টাকার খেলাপি: আমাদের ব্যাংকিং ও শেয়ারবাজারের ট্র্যাজেডি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯

সংবাদের পাতার দুটি বিপরীতমুখী ছবি সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের চরম এক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈপরীত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

একদিকে আমরা দেখি, ২৮ বছর আগে বাবার নেওয়া মাত্র ১০ হাজার টাকার দাদন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×