somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

ধারাবাহিক গল্প ‘অ-মানব’- (১৫ তম পর্ব)

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





বিয়ে বাড়িতে সবাই অবাক হয়ে বরের সামনে আসলো । বর পাগলের পা ধরে বসে আছে । নাদিয়া পাগল কে বলে ভাইয়া কি বেপার নওশা আপনার পায়ে ধরে আছে কেন । পাগল বলল – কনের বাবা কে একটু ডাকো । সবাই অবাক হয়ে দেখছে । নাজ বলল ভাইয়ার পায়ে ধরেছে নওশা । রইস মিয়া কনের বাবা কে বলল ভাই জান । আমার ভাগিনা হয় তার সাথে একটু কথা বলুন ।। কনের বাবা কে পাগল বলল- যখন স্রষ্টা কাউকে নিজ থেকে ভালবাসে তখন সে তার জন্য কাউকে পাঠায় । বর কে বলল তুমি উঠ । বর উঠে পাগল কে বলল আপনি এখানে কি করে খবর পেলেন ।। পাগল বর কে বলল – যখন যার পতন হবে তখন সে সেই যাবে । বরের বাবা আসে বলল – কে আপনি আর কি ঘটনা । পাগল বলল আপনার ছেলে ই ভাল করে জানে । বর মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইল । নাদিয়ে বলল – ভাইয়া বিষয় টা খুলাসা করে বলত ।। পাগল বলল – সব কিছু জানতে নেই ।। কনের বাবা বলল- কি গঠনা । ছেলের কোন দোষ আছে নাকি ? আমাদের এই বিয়ে তো রাবর(ঘটক) দিয়ে ঠিক করা । পাগল বলল ঘটক কে তাকে আনুন । রইস মিয়া ঘটক নিয়ে আসতেই । ঘটক কে বলল – আপনি তো সব জানেন । ঘটক বলল – তার আগের বিবি আসতে চায় না। আর তার সাথে তো তালাক হয়েছে ।। পাগল বলল – তালাকের পেপার দেন । ঘটক বলল- তাইন বলেছে পড়ে দিবে। পাগল বলল আপনে কি বলেছেন এই মেয়ের বাবা কে ? ঘটক চুপ করে গেল । মেয়ের বাবা ঘটক কে একটা চর দিল ।। এই বদমাইশ কে পুলিশে দেয়া দরকার ।। পাগল বলল না ঘটক আর ছেলের বাবাকে দিতে হবে ।। ছেলে তার বাবা সাহসে এই অন্যায় করছে । পরিবার থেকে কেউ উৎসাহ না পেলে খারাপ হতে পারে না। প্রতিটা মানুষ খারাপ হওয়ার জন্য প্রথমে দায়ী তার পরিবার ।। নাদিয়া অ নাজ বলল বর কে সহ লাল দালানে দিয়া দেন ।।কিন্তু কনের কি হবে রইস মিয়া বলল । পাগল কনের বাবা কে বলল – আপনার মেয়েটা কি লিখা পড়া করে । কনের বাবা বলল – হা ছাত্রি হিসাবে খুব ভাল । পাগল বলল পড়তে থাকুক । কাল থেকে কলেজে যাবে । মেয়েটা কে ডাকুন । আমি তাকে এমনকথা বলে দিব যে সে আর এই দুঃখ মনে রাখবে না। রইস মিয়া পুলিশ নিয়ে আসতেই ছেলের বাবা বলল – মিয়া কাজটা ভাল করলা না। পাগল বলল — আগে চিনে নেন ভাল মন্দ কি ? তার পর বলুন ।। নাদিয়া পাগল কে নিয়ে কনের ঘরে গেল-মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে শেষ । পাগল বলল – ওকে কাঁদতে দিন । সারা জীবন কান্না থেকে বেঁচে গেল । মেয়েটির কাছে খুব শান্ত হয়ে বসে বলল- আজ আমার জন্য তোমার ভাল হয়েছে না কি খারাপ হয়েছে । তুমি যদি কান্না কর তাহালে আমি ভাববো আমি অন্যায় করেছে । বিশ্বাস কর তুমি বোন আমি যে কেন এই বিয়েতে আসছি আমি নিজেও জানি না। তোমার কি মনে হয় আমি অপরাধী । মেয়েটি কান্না থামিয়ে বলল – এক পিতা আমারে জন্ম দিছে । আজ একটা শয়তানের কাছ থেকেআমাকে বাচাইলেন । আপনি আমার আর এক পিতা । পাগল বলল- মা চোখের পানিমুছে হাতে কলম ধর । তুমি পড়তে শুরু কর । আমাদের সমাজে কত নারী মিষ্টি কথায় জীবন শেষ হয় । তুমি তাদের বলে জাগিয়ে তুল । বলো তাদের নারী বিয়েইতার পরিচয় না। সেও এ সমাজের মানুষ । মেয়েটি পাগলের হাত ধরে চোখ বন্ধ করে বলল – আমি মানুষ আমি নারী না। কনের বাবা বলল- হে মা এখন থেকে তুমি মানুষ । পাগল তাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নাদিয়া আর নাজকে নিয়ে বাসায় ফিরছে ।নাদিয়া বলল- ভাইয়া বর তোমাকে এত ভয় পেল । একদম পায়ে ।—- পাগল বলল । ও আমাকে ভয় পায় নাই—- তাহালে কাকে ভয় পেয়ে পা ধরেছে ।—- আমার সততার কাছে সে ভয় পেয়েছে । কারন সততাকে টাকা দিয়ে কেনাযায় না । মানুষ শুধু মিথ্যা কিনে টাকা দিয়ে । যখন সত্যসামনে আসে তখনমিথ্যা পালিয়ে যায় । মিথ্যা অন্ধকার তাতে কিছুই দেখা যায় না। সততা হলআলোর মত যা সব কিছু পরিষ্কার দেখা যায় ।।— নাজ বলল- ভাইয়া তোমার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে ।।—- পাগল বলল । নাজ আমরা শিখতে চাই না। আবার যিনি শিখেছে সে শিখাতেচায় না । ভাবে শিখলে তার মুল্য কমে যাবে ।।রেজিয়া মিলির ছাদে রাতে ফুল গাছ গুলো দেখছে । খুব অল্প সময়ে পুরো ছাদ কি সুন্দর করেছে । এই অল্প সময়ে একটা মানুষ কি করে এত সুন্দর করে গেল । রেজিয়ার স্বামী বলল – ঐ পাগলের কজ দেখেছ । আসলেই মানুষ টি জিনিয়াস । আমার খুব ভাল লেগেছে । যদিও আমি কথা বলিনি ।রেজিয়া বলল জিয়াস না ছাই মিলির উপর সতীন দিয়ে গেল । আজআবার মিলি তার বাড়ী তার স্বামী কে দান করে দিল । মিলি কি কাজটা ঠিক করলো । রেজিয়ার স্বামী বলল – বিশ্বাসে মিলাই তর্কে বহু দূর ।রেজিয়া তার স্বামী কে বলল—- আচ্ছা আমাকে কতটা বিশ্বাস কর ।—– স্বামী বলল । সব টুকু ।—- এই বিশ্বাস আমার কি কাজে লাগবে—– আমি জানি না।—– খুব তাড়াতাড়ি জানবে ।।—- আচ্ছা ভাল । চল ঘুমাতে ।—- তুমি যাও । ঘুমাতে ।। তোমার ছোট ভাই বল আসতে ওর সাথে কথা আছে ।।রেজিয়ার স্বামী ঘরে যেতেই তার দেবর এসে বলল ভাবি আজকের আকাশ টা সুন্দর ।শীত কমে গেছে । ভাইয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে কি টাকা তুলে তোমার অ্যাকাউন্ট নিয়েছ । শুন ভাইয়া যে হে তু প্রতিদিন উত্তরা যায় । তাই আমরা সিলেট থেকে বিমানে উঠব । ভাইয়া সকালে অফিসে গেলে আমি তোমাকে সিলেটের বাসে তুলে দিব । ঐ খানে তোমার জন্য একটা হোটেলে রুম রাখা আছে । আমি দুই দিন পড়ে এসব ।আজ রাতে তুমি যে কোন বিষয় নিয়ে ঝগড়া করবে । আমাকে সহ বকা দিবে । তোমার কাছ থেকে যেই টাকা ধার নিয়েছি এই বিষয় নিয়ে । ভাইয়া জানবে তুমি রাগ করে চলে গেছ । তিন দিন পড়ে তুমি তালাক নামা দিয়ে দিবে। ভাই সব দোষ আমাকে দিবে । আমিও রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে সিলেট এসে একসাথে মালয়েশিয়া ।।এই টাকা টাকা নিয়ে সত্যি রাতে রেজিয়া তার স্বামীর সাথে ঝগড়া শুরু করে দিল ।।নাদিয়া বাসায় সবাইকে বলল আজ ভাইয়ার জন্য ঐ মেয়েটার দারুন বাচা বেঁচে গেল । শিলা বলল – মামা কিন্তু একটা জিনিয়াস খালা মনি । নাজু বলল- কি থেকে কি হয় । ওরা নাকিমান্স ভাল না। নাদিয়া বলল – কি আর হবে । কিন্তু ভাইয়া কে যে ভয় পাইছে বেটা নওশা । তুমি যদি দেখতা । নাজু বলল – টা জিনিয়াস ভাই কোথায় । রইস মামার সাথে জিন্দা বাজার গেছে । এই পুকুর নাকি পরিষ্কার করবে । সব পানি মেশিন দিয়ে তুলে নাকি পুকুর ঠিক করবে । নাজু বলে বলিস কি ? হা দুলা ভাইয়ের সাথে কথা হলে দুলা ভাই তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে । আর সে জিনিয়াস পাগল ভাইয়া দুলা ভাইয়ের কাছ থেকে অনুমতি নেয় । শিলার জন্য একটা বাগান করবে ।শিলা বলে মা জিনিয়াস মামা দেখ এই পুকুরটা আগের মত করে দিবে ।রইস মিয়া কে নিয়ে জিন্দা বাজার একটা চায়ের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে ।রইস মিয়া বলল –— ভাগনে একটা ঘটনা আপনে কি ভাবে ঐ বর কে চিনলেন ।—- সব কিছু মামা জানতে নেই মামা ।তা মামা আপনি নাকি বিয়ে করেন নাই ।—- তোমারে কে বলছে /—- নাদিয়া—- আসলে মামা একটা মেয়ে আমার পছন ছিল । লন্ডন যাওয়ার আগে বলল তারকাগজ ঠিক হয়ে গেলে আমাকে বিয়ে করবে । আমি তাঁরে টাকা ওদিয়েছি ।তার কাগজ আমার টাকা দিয়ে ঠিক করে । কিন্তু তার পড়ে সে আমাকে বিয়েনা করে গোলাপ গঞ্জ থানার ঢাকা দক্ষিণের এক এক ছেলে বিয়ে করে । ঐ ছেলেদেখতে আমার চেয়ে সুন্দর ও পয়সা আমার চেয়ে বেশী ।।— ও সরি মামা । কিন্তু মামা বিয়ে না করে থাকার মধ্য একটা আলাধা মজা ।— ঠিক বলেছ ভাগনা । এই আমি যখন যা খুশি তাই করি। বিয়ে করলে কি পারতাম ।—- না মামা । বিয়ে করা মানে । বন্ধি ।— আচ্ছা ভাগনা তোমার বাড়ী ঘর নাই না কি ?—- মামা বাড়ী ঘর জিনবনের সব কিছু না। আমি আমার আসল বাড়িটা বানাচ্ছি—- ভাগনা আসল বাড়ী মানে ।—- মামা যেই বাড়ী বানাতে এই দুনিয়ায় আসছি । আমি আমার বাড়ী বানাবএই দুনিয়ার চাইতে সুন্দর বাড়ী ।—- ভাগনা পাগলের মত যে কি বল । এই দুলিয়ার চাইতে সুন্দর বাড়ী কোথায়—- মামা আমি সেই বাড়ী খুজতেছি ।চলমান —–
— with গনতন্ত্রের যোদ্ধা গনতন্ত্রের যোদ্ধা and Shelina Jahan Priya.

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:২১
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুভি রিভিউ - ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা : দেশ ভাগের ট্র্যাজেডি আর হারিয়ে ফেলা প্রেমের অসাধারণ এক মেলবন্ধন 

লিখেছেন আলভী রহমান শোভন, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



একটা সময় হিন্দি মুভির বেশ ভক্ত ছিলাম। ভালো কোন হিন্দি মুভি রিলিজ পেলেই দেখে ফেলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে হিন্দি মুভি তেমন দেখা হয়ে ওঠে না। বছরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়াঘর: কেস ফাইল #১৯৯৬ (দ্য লাস্ট রিল)

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২২


লেখকের নোট:
এই গল্পটি ৯০-এর দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে দীর্ঘদিনের স্মৃতি, নস্টালজিয়া ও আলোচনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ইনভেস্টিগেটিভ থ্রিলার । গল্পে উল্লেখিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×