
প্রথমে মুজতবা আলীর 'দেশে-বিদেশে'র' পাঠান মূলুকে খোদ পাঠানের মুখ থেকে শোনা একটা প্রাক্টিক্যাল কৌতুক দিয়ে শুরু করছি ( কৌতুকের মুল বিষয়বস্তু কাকতলীয়ভাবে কিছু মাথামোটা রাজনীতিবিদদের সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নহে।)
বালুচরে বসে দুপুর রোদে আটজন পাঠান ঘামছে। উট ভাড়া দিয়ে তারা ছিয়ানব্বই টাকা পেয়েছে, কিন্তু কিছুতেই সমানে সমান ভাগ বাঁটোয়ারা করতে পারছে না। কখনো কারো হিস্যায় কম পড়ে যায়,কখনো কিছু, টাকা উপরি থেকে যায়। ক্রমাগত নূতন করে ভাগ হচেছ,হিসেব মিলছে না, ঘাম ঝরছে আর মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গলা ও চড়ছে।
এমন সময় তারা দেখতে পেল, অন্য পার দিয়ে এক বেনে তার পাটুলি হাতে করে যাচ্ছে।
সব পাঠান এক সঙ্গে চে'চিয়ে বেনেকে ডাকল, এপারে এসে তাদের টাকার ফৈশালা করে দিয়ে যেতে।
বেনে হাত-পা নেড়ে বোঝালো অত মেহন্নত তার সইবে না, আর কত টাকা ক'জন লোক তাই জানতে চাইল?
চার কুড়ি দশ ও তার উপরে ছয় টাকা আর হিস্যেদার আটজন।
বেনে বলল, 'বারো টাকা করে নাও।' পাঠানরা চেঁচিয়ে বলল, 'তুই একটু সবুর কর, আমরা দেখে নিচিছ। বখরা ঠিক ঠিক মেলে কিনা।' মিলে গেল- সবাই অবাক। তখন তাদের সর্দার চোখ পাকিয়ে বলল, 'এতক্ষণ ধরে আমরা চেষ্টা করলুম, হিসেব মিলল না;
এখন মিলল কি করে?
ব্যাটা নিশ্চয়ই কিছু, টাকা সরিয়ে নিয়ে হিসেব মিলিয়ে দিয়েছে। ওপার থেকে সে যখন হিসেব মেলাতে পারে তখন নিশ্চয়ই কিছু, টাকা সরাতেও পারে। পাকড়ো শালাকো!!!
****
ধন না প্রাণ কোনটা দামী? এবারও গুরুর শরনাপন্ন হলাম ( স্থানঃ কাবুলের পথা জালালাবাদের আগে আড়াই হাজার বছরের পুরনো এক সরাইখানা)
চত্বরের ঠিক মাঝখানে চল্লিশ-পঞ্চাশ হাত উচু, একটা প্রহরী শিখর। সেখান থেকে হঠাৎ এক হুঙ্কারধ্বনি নির্গত হয়ে আমার তন্দ্রাভঙ্গ করল। শিখরের চুড়ো থেকে সরাইওয়ালা চেঁচিয়ে বলছিল, 'সরাইখানা যদি রাত্রি- কালে দস্যু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে হে যাত্রীদল, আপন আপন মাল-জান বাঁচাবার জিম্মাদারি তোমাদের নিজের।'
ঐটুকুই বাকী ছিল। সরাইয়ের সব কষ্ট চাঁদপানা মুখ করে সয়ে নিয়েছিলুম ঐ জানটুকু বাঁচাবার আশায়। সরাইওয়ালা সেই জিম্মাদারি- টুকুও আমার হাতে ছেড়ে দেওয়ায় যখন আর কোনো ভরসা কোনো দিকে রইল না, তখন আমার মনে এক অদ্ভুত শান্তি আর সাহস দেখা দিল। উর্দুতে বলে, 'নঙ্গেসে খুদাভী ডরতে হ্যায়' অর্থাৎ 'উলঙ্গকে ভগবান পর্যন্ত সমঝে চলেন।' সোজা বাঙলায় প্রবাদটা সামান্য অন্যরূপ নিয়ে অল্প একটু গীতিরসে ভেজা হয়ে বেরিয়েছে, 'সমুদ্রে শয়ন যার শিশিরে কি ভয় তার?'
ভাষাতত্ত্ব নিয়ে আমার মনে তখন আরও একটা খটকা লাগল। রেডিয়োওয়ালার চোস্ত ফার্সী জানার কথা। তাকে জিজ্ঞাসা করলুম,
ঐ যে সরাইওয়ালা বলল, 'মাল-জানের' তদারকি আপন আপন কাঁধে এ কথাটা আমার কানে কেমনতরো নূতন ঠেকলো। সমাসটা কি জান-মাল নয়?'
অন্ধকারে রেডিয়োওয়ালার মুখ দেখা যাচ্ছিল না। তাই তাঁর কথা অনেকটা বেতারবার্তার মত কানে এসে পৌঁছল। বললেন, 'ইরানদেশের ফার্সীতে বলে 'জান-মাল', কিন্তু আফগানিস্থানে জান সস্তা, মালের দাম ঢের বেশী। তাই বলে 'মাল-জান।'
আমি বললুম, 'তাই বোধ করি হবে। ভারতবর্ষেও প্রাণ বেজায় সত্তা-তাই আমরাও বলি, 'ধনে-প্রাণে' মেরো না। 'প্রাণে-ধনে' মেরো না কথাট। কখনো শুনিনি।'
~ এবার দেখুন 'বিবিসির রিপোর্ট; ধন না প্রাণ কোনটা দামী?'
আকাশ ব্যানার্জী (The Deshbhakt)
ইউটিউবে ভিডিওটা গতকাল দেখে বেশ অবাক হয়েছি, একজন ভারতীয় কীভাবে এতো তথ্য সংগ্রহ করলো যা একেবারে নির্ভূল।
এমন নির্ভূল তথ্য আমাদের গণমাধ্যমরাও সংগ্রহ করতে পারলেও কখনো এভাবে বলার সাহস করে উঠতে পারেনি।* হিন্দী একটু আধটু বুঝলেও চলবে।
***
বিষয়বস্তু প্রায় একই তবে একটু ভিন্নতা আছে এই ভিডিওতে- কেউ চাইলে এটাও দেখতে পারেন।
ধ্রুব রাঠি
***
যখন প্রচারের জন্য একটা লেখা বারবার লিখবেন আর মুছবেন তখন তখন আপনি যে খানিকটা পরাধীন সেটা নিশ্চিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



