somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'প্রাণে-ধনে' নাকি 'ধনে-প্রাণে'?

২৬ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


প্রথমে মুজতবা আলীর 'দেশে-বিদেশে'র' পাঠান মূলুকে খোদ পাঠানের মুখ থেকে শোনা একটা প্রাক্টিক্যাল কৌতুক দিয়ে শুরু করছি ( কৌতুকের মুল বিষয়বস্তু কাকতলীয়ভাবে কিছু মাথামোটা রাজনীতিবিদদের সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নহে।)
বালুচরে বসে দুপুর রোদে আটজন পাঠান ঘামছে। উট ভাড়া দিয়ে তারা ছিয়ানব্বই টাকা পেয়েছে, কিন্তু কিছুতেই সমানে সমান ভাগ বাঁটোয়ারা করতে পারছে না। কখনো কারো হিস্যায় কম পড়ে যায়,কখনো কিছু, টাকা উপরি থেকে যায়। ক্রমাগত নূতন করে ভাগ হচেছ,হিসেব মিলছে না, ঘাম ঝরছে আর মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে গলা ও চড়ছে।
এমন সময় তারা দেখতে পেল, অন্য পার দিয়ে এক বেনে তার পাটুলি হাতে করে যাচ্ছে।
সব পাঠান এক সঙ্গে চে'চিয়ে বেনেকে ডাকল, এপারে এসে তাদের টাকার ফৈশালা করে দিয়ে যেতে।
বেনে হাত-পা নেড়ে বোঝালো অত মেহন্নত তার সইবে না, আর কত টাকা ক'জন লোক তাই জানতে চাইল?
চার কুড়ি দশ ও তার উপরে ছয় টাকা আর হিস্যেদার আটজন।
বেনে বলল, 'বারো টাকা করে নাও।' পাঠানরা চেঁচিয়ে বলল, 'তুই একটু সবুর কর, আমরা দেখে নিচিছ। বখরা ঠিক ঠিক মেলে কিনা।' মিলে গেল- সবাই অবাক। তখন তাদের সর্দার চোখ পাকিয়ে বলল, 'এতক্ষণ ধরে আমরা চেষ্টা করলুম, হিসেব মিলল না;
এখন মিলল কি করে?
ব্যাটা নিশ্চয়ই কিছু, টাকা সরিয়ে নিয়ে হিসেব মিলিয়ে দিয়েছে। ওপার থেকে সে যখন হিসেব মেলাতে পারে তখন নিশ্চয়ই কিছু, টাকা সরাতেও পারে। পাকড়ো শালাকো!!!
****
ধন না প্রাণ কোনটা দামী? এবারও গুরুর শরনাপন্ন হলাম ( স্থানঃ কাবুলের পথা জালালাবাদের আগে আড়াই হাজার বছরের পুরনো এক সরাইখানা)
ত্বরের ঠিক মাঝখানে চল্লিশ-পঞ্চাশ হাত উচু, একটা প্রহরী শিখর। সেখান থেকে হঠাৎ এক হুঙ্কারধ্বনি নির্গত হয়ে আমার তন্দ্রাভঙ্গ করল। শিখরের চুড়ো থেকে সরাইওয়ালা চেঁচিয়ে বলছিল, 'সরাইখানা যদি রাত্রি- কালে দস্যু দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে হে যাত্রীদল, আপন আপন মাল-জান বাঁচাবার জিম্মাদারি তোমাদের নিজের।'
ঐটুকুই বাকী ছিল। সরাইয়ের সব কষ্ট চাঁদপানা মুখ করে সয়ে নিয়েছিলুম ঐ জানটুকু বাঁচাবার আশায়। সরাইওয়ালা সেই জিম্মাদারি- টুকুও আমার হাতে ছেড়ে দেওয়ায় যখন আর কোনো ভরসা কোনো দিকে রইল না, তখন আমার মনে এক অদ্ভুত শান্তি আর সাহস দেখা দিল। উর্দুতে বলে, 'নঙ্গেসে খুদাভী ডরতে হ্যায়' অর্থাৎ 'উলঙ্গকে ভগবান পর্যন্ত সমঝে চলেন।' সোজা বাঙলায় প্রবাদটা সামান্য অন্যরূপ নিয়ে অল্প একটু গীতিরসে ভেজা হয়ে বেরিয়েছে, 'সমুদ্রে শয়ন যার শিশিরে কি ভয় তার?'
ভাষাতত্ত্ব নিয়ে আমার মনে তখন আরও একটা খটকা লাগল। রেডিয়োওয়ালার চোস্ত ফার্সী জানার কথা। তাকে জিজ্ঞাসা করলুম,
ঐ যে সরাইওয়ালা বলল, 'মাল-জানের' তদারকি আপন আপন কাঁধে এ কথাটা আমার কানে কেমনতরো নূতন ঠেকলো। সমাসটা কি জান-মাল নয়?'
অন্ধকারে রেডিয়োওয়ালার মুখ দেখা যাচ্ছিল না। তাই তাঁর কথা অনেকটা বেতারবার্তার মত কানে এসে পৌঁছল। বললেন, 'ইরানদেশের ফার্সীতে বলে 'জান-মাল', কিন্তু আফগানিস্থানে জান সস্তা, মালের দাম ঢের বেশী। তাই বলে 'মাল-জান।'
আমি বললুম, 'তাই বোধ করি হবে। ভারতবর্ষেও প্রাণ বেজায় সত্তা-তাই আমরাও বলি, 'ধনে-প্রাণে' মেরো না। 'প্রাণে-ধনে' মেরো না কথাট। কখনো শুনিনি।'

~ এবার দেখুন 'বিবিসির রিপোর্ট; ধন না প্রাণ কোনটা দামী?'


আকাশ ব্যানার্জী (The Deshbhakt)
উটিউবে ভিডিওটা গতকাল দেখে বেশ অবাক হয়েছি, একজন ভারতীয় কীভাবে এতো তথ্য সংগ্রহ করলো যা একেবারে নির্ভূল।
এমন নির্ভূল তথ্য আমাদের গণমাধ্যমরাও সংগ্রহ করতে পারলেও কখনো এভাবে বলার সাহস করে উঠতে পারেনি।* হিন্দী একটু আধটু বুঝলেও চলবে।
***
বিষয়বস্তু প্রায় একই তবে একটু ভিন্নতা আছে এই ভিডিওতে- কেউ চাইলে এটাও দেখতে পারেন।

ধ্রুব রাঠি
***

যখন প্রচারের জন্য একটা লেখা বারবার লিখবেন আর মুছবেন তখন তখন আপনি যে খানিকটা পরাধীন সেটা নিশ্চিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০২৪ দুপুর ২:৪২
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×