ভাবনা--<
বিশাল লাইন, হট্টগোল, দালাল এর কুপ্ররোচনা, পান চিবানো মুরুব্বী টাইপ এর
ঘুষখোর কর্মকর্তা/ কর্মচারী, কথায় কথায় বিভ্রান্তি, ঘুস দেওয়া ও নানবিধ হয়রানি...
ভোর বেলায় রওনা দিতে হবে... আরও নেগেটিভ একগাদা ভাবনা/ আশঙ্কা ছিলো মাথায়
বাস্তবতা--<
আশঙ্কা, ভেজাল বোধ করে সকালের ঘুম নষ্ট না করে বিছানা আকড়ে পড়ে রইল দোস্ত Mishor.
আর তারুণ্যের জয় টান দিতে দিতে আমি, দোস্ত Rasselও Nazimরওনা দিলাম
Regional Passport Office, Uttara. এর পথে...
সকাল ৮ঃ৩০ মিনিটে আমরা পোঁছালাম পাসপোর্ট অফিসের সামনে
কয়েকটা চায়ের দোকানে অল্প কিছু কাস্টমার আর হাতে গুনা কিছু
লোক জন আশে পাশে ঘোরাফেরা করছে...
আমরা গেটের সামনে আসতেই ২/৩ জন এসে বলে আমারা আগে আসছি...
তো ওদের তিন জনকে সামনে দিয়ে আমরা তিনজন সিরিয়ালি লাইন করে ফেললাম...
পিছনে তাকাতেই চায়ের দোকান ফাঁকা -- সবাই আমাদের পরে লাইনে
আমদের আগের জনকে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম চা খাইতে...
ঠিক মত খাইতে পারলাম না...
ঠিক ৯ঃ০০ টা বাজতেই গেট ওপেন ভিতরে গেলাম কাউন্টারের সামনে আবার লাইন...
আধা ঘন্টা সময় পাইলাম কাগজ পত্র ঠিকঠাক করে নিলাম, রাসেল এর ফটোকপি বাকি ছিল করে নিল...
ঠিক ৯ঃ৩০ এ পেপারস চেকিং শুরু হইলো... আমার সামনে ৫ জন... রাসেল কে বললাম
একজনের ৫ মিনিট করে লাগেও ২৫ মিনিট... সরকারি কাজ কাম...
আমি নিচ থেকে চা খাইয়া আসি... খুব তেষ্টা পাইছে... দুই চুমুক দিতেই রাসেল এর ফোন---
তারাতারি আয় একজনের ১ মিনিট ও লাগে না
আবারও অতৃপ্ত চুমুক
ঠিক ১ মিনিট এর মদ্ধেই পেপার ভেরিভিকেশন করে ৪তলায় রেফার করে দিলো
ঠিক ২ মিনিটের মধ্যে ছবি তোলা, ফিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়া শেষ করে
পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ এর প্রিন্ট কপি আমার হাতে !!!!!!!!!!!!!!!
বি.দ্র: আমার ফর্ম এ দুইটা এডিট ছিলো কাচুমাচু করে দায়িত্বরত আপুকে বলতেই
উনি আমাকে ফর্ম এডিট করার রুমে রেফার করে দিলেন...
ঠিক এক মিনিটেই দায়িত্বরত এডিটর ভাই আমার ইনফো দুইটা এডিট করে দিলেন...
১+২+১ = ৪ মিনিটেই কাজ শেষ !!!!!
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আমাদের কমেন্টস ---<
আমিঃ মামা এইডা কি সরকারী অফিস !!!! বিলিভ হইতাছে না
নাজিমঃ আমাগো কাজ কি আসলেই শেষ !!! মনে হয় কিছু বাকি আছে
রাসেলঃ আমি তো ভাবছিলাম তোর ইনফো এডিট করার জন্য ঘুষ দেওয়া লাগবো... পরে আইতে কইবো... ঘুরাইবো
এইবার চা খামুই...
আয়েশ কইরা চা খাইতে খাইতে আমাগো মুখে একটাই কথা... অবিশ্বাস্য সার্ভিস জাস্ট হেটস অফ...
শেষ কথাঃ
পান চিবানো অসাধু কর্মকর্তারা বিদায় নিয়েছে, প্রযুক্তিবান স্মার্ট তরুণরা হাল ধরেছে...
কু-প্ররোচক দালাল গোস্টি নিপাত গিয়েছে... এখন বাকি আছে জনগণের বন্ধু পুলিশ (এস.বি) এর
অফিসার যিনি আমাদের ভেরিফিকেশন এর জন্য আসবেন তার ঘুষ না নিয়ে
(ঘুষ চাইবে/নেবে -- এটা আমার ভাবনা মাত্র) প্রকিত বন্ধু সুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো......
আসলে এই রিজিওনাল অফিসটির মত সুন্দর গোছানো অফিস, সুন্দর পরিবেশ এনসিওর করলে ও
প্রযুক্তিবান স্মার্ট তরুণরা হাল ধরলে আমি এনসিওর করে বলতে পারি সব সরকারী অফিস ও
অফিসিয়াল কাজে রেভুলেশন দেখবে প্রজন্ম ::...
এক্সট্রা : অফিসটির দারোয়ান ভাই থেকে শুরু করে সকল কর্মচারী, কর্মকর্তা ও উদ্ধতন কর্মকর্তাগণকে
জানাই আন্তরিক ভালোলাগা যা মুখে বা লিখে প্রকাশ করতে পারছি না --- হেটস অফ এগেইনএন্ড এগেইন... ... ...
ওহঃ দোস্ত মিশর টা এখনো ঘুমের মদ্ধেই আছে...... যারা ওর মত ঘুমের মধ্যে আছেন
তারা আসুন আর ৪ মিনিটেই পাসপোর্ট করার আজব অভিজ্ঞতা নিয়ে যান...
ধন্যবাদ
সিব্বির এল্বেস্টাইন ওথেলো

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৭ দুপুর ২:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


