
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আরোপ নিয়ে চলমান আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ থেকে সরকারের কোষাগারে জমা হবে বছরে মাত্র ২০০ কোটি টাকা। যদিও প্রতি বছরই বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটছে। মাত্র দুই’শ কোটি টাকার জন্য সরকার উচ্চ শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করেছে। বাস্তবতা হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা এবং আসন সীমিত হওয়ার কারণেই শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছে। সরকারের ব্যর্থতার এই দায়ভার এখন চাপছে শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে ।
বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের নিকট থেকে সরকার আয়কর নিক, মূসক কেন নিবে? মূসক হয় পন্যের, শিক্ষা কি পন্য ?
এই সমাজে বৈষম্য কতোটা প্রকট, এটা খুবই সাধারণ একটা উদাহরণ মাত্র। পরিসংখ্যান বলে যে ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ুয়া বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই ঢাকার বাইরে থেকে আসে। সবাই কিন্তু খুব স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান নয়, সবাই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মায়নি। কাজেই লেখাপড়ার ওপর ভ্যাট চাপিয়ে দেয়া কোনো সুস্থবুদ্ধির কাজ বলে মনে হয় না। এই ছেলেমেয়েগুলো যে শখের বসে আন্দোলনে নেমে পড়েনি| আসুন "শিক্ষায় যেকোনো প্রকার ভ্যাটকে না বলি"।
বিলাসবহুল গাড়ী, না হলে রাস্তায় আমরা জ্যামে আটকে থাকতে থাকতে,আগুনে পুড়তে পুড়তে কি করে বূঝব? ওই দেখা যায় মিনিস্টার ওই যে এমপি? সুতরাং বিলাসবহুল গাড়ী দরকার। সেই বিলাসবহুল গাড়ি আমদানীতে তাদের শুল্ক মওকুফ করে দেয়া হল, আহাহা! সাংসদ বলে কথা! তিনবেলা খেতে পারে না, ৫ কুটি ট্যাকা দিয়া গাড়ি কিনলে শুল্ক দিব ক্যামনে? তো কি হইছে, ওই বিলাসবহুল শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানিতে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা!!! তাও মাত্র সপ্তম সংসদে... মাত্র এক হাআজার কোটি টাকা!!! আচ্ছা, এই টাকায় কত শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভ্যাট না নেওয়া যেত? আপনিইতো বলেন যে, যে বাবা সন্তানের শিক্ষা খরচ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দিতে পারবে সে পঁয়ত্রিশও দিতে পারবে, তা মাননীয় মন্ত্রী সাহেব, যে সাংসদ ৫ কোটি টাকা দিয়া বিলাসবহুল গাড়ি কিনতে পারবে, সে সেই গাড়ির ভ্যাট দিতে পারবে না? রাষ্ট্র কার? সংসদকার? সাংসদ কার? আইন কার? কিসের জন্য? আপনাদের জন্য? না কি আমাদের জন্য? আপনারা কারা? আমরা কারা? একটা কথা মনে রাখবেন, আজ আপনারা যা করছেন, তা আগামী দিনের জন্য উদহারন তৈরি করছে।
ভোটের জন্য রাজনীতি আর জনগনের জন্য রাজনীতি এক জিনিস না। ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি আর দেশ গঠনের জন্য রাজনীতি এক জিনিস না। সরকার ভোটের জন্য রাজনীতি করতে গিয়ে ২১ লক্ষ সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন দ্বিগুন পে স্কেল ঘোষনা দিয়ে এখন ছাত্রছাত্রীদের গলায় ছুরি বসাতে চাইছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



