somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি এবং মানবতা (১)

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু মানুষ সৃষ্টিকর্তার গুনগানে ব্যাস্ত, আর কিছু মানুষ তার অস্থিত্ব খুজে ফিরায় ব্যাস্ত। আমরা বর্তমানে যার যার বংশ পরম্পরায় কোন না কোন বংশ, গোত্র বা ধর্মের অধীনে আছি। আমরা সবাই জন্মের পর থেকেই জেনে আসছি আমরা কে কোন ধর্মের মানূষ বা কোন বংশের মানুষ। যখন থেকেই কথা বলতে শিখেছি তখন থেকেই শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল আমি জ্ঞান,বুদ্ধি সম্পন্ন একজন পরিপূর্ণ মানুষ আরো শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল আমার একটি নির্দিষ্ট ধর্ম আছে, যা প্রচলিত চারটি ধর্মের একটি। আমার মত সবাইকেও শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল এইসব কিছু। সবাইকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল কে হিন্দু, কে মুসলিম, আর কে কোন ধর্মের। কখনো বলা হয়নি আমরা একে অপরের ভাতৃপ্রতিম বন্ধু, আমাদের কোন ভেদাভেদ নেই, সব সময় শিখানো হয়েছিল উগ্র কথা বার্তা। যখন থেকেই স্কুলে গিয়েছি তখন ক্লাস এর নানান ছেলে মেয়ের সাথে জগড়া দিতাম এই ধর্ম নামের জিনিস টার জন্যে। আমাদের অনেকের জীবনে এই রকম সৃতি আছেই। সব ছেয়ে ভাল এই বিষয়ে বলতে পারবেন সাম্প্রতিক যারা রামুর বৌদ্ধ মন্দির পুড়িয়েছে, হিন্দু, বৌদ্ধদের ঘর বাড়ি পুডিয়েছে। যাই হোক সব ই ধর্মের কেরামতি। আমার মতে মানুষ, কিন্তু সমাজে প্রচলিত মুসলমান ভাই বোনদের জন্মের পর বুদ্ধির সময় কাল থেকেই শিখানো হয়েছিল এবং বর্তমানে ও শিখায় ইট-পাথুরের একটি ঘরে ঢুকে পশ্চিম মুখ করে সাজদা দিতে, আল্লার কাছে( অজানা ব্যাক্তি)। আর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান দের শিকালো সাজানো গোছানো ইট-পাথুরের মূর্তির সামনে পূজা- অর্চনা করতে। সবই ধর্ম কিন্তু। পরিবার আমাদের শিখায় নি আমরা মানব ধর্ম অর্থাৎ সকল মানুষকে ভালবাসার ধর্মের মানুষ। ধর্ম গ্রন্থগুলো সহ, পরিবার, সমাজ সকলেই শিখিয়েছে তোমার ধর্মের নামে কেউ কিছু বললে তার প্রতিরোধমূলক ব্যাবস্থা নিবে। ইসলাম ধর্মে স্পষ্টতই বলা আছে জিহাদ ঘোষনা করার কথাও। কোন লেন্ডা আমলে কে না কে কি বলে গিয়েছে যা সম্পূর্ন মানুষের ক্ষতিকর কথা তা নিয়ে বর্তমান গরু- ছাগলেরা লাফাচ্ছে। রাস্তায় ফেলে কোপানো হচ্ছে ঐ ধর্মের নামে কিছু বললে। মানুষ খেয়াল করছে না ঐ অজ্ঞাত আল্লা,ভগবান,খোদা,ঈশ্বরের কিছুই হচ্ছে না কিন্তু মানুষ মানুষের মাংস খাচ্ছে সেই ধর্মের নামে। এই মানুষ মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখছে না বরং দেখছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান হিসেবে। ভাবতে অবাক লাগে অনেক শিক্ষিত সার্টিফিকেটধারী মানুষ ও বুঝে না মানবতা যে ধর্মের ঢাল পরে থাকলে রক্ষা হয় না। তারা ও মানুষকে আলাদা আলাদা কাতারে ভাগ করে। ওরা তো বইয়ের শিক্ষায় শিক্ষিত, তাই মানবতা কি তা কেউ বুঝাতে গেলেই নিজেকে জ্ঞানী ভেবে ধর্মের দোহায়ে কোপাতে আসে। সব ধর্মই নাকি মানবতার কথা বলে, একে অপরকে ভালবাসার কথেলা বলে। আমার প্রশ্ন এই জায়গায় আটকে থাকে, হিন্দু, মুসলমান হিসেব করে কিভাবে মানবতার কথা তারা বলে? ধর্ম গুলো একদিকে মানবতার কথা বলে আবার অন্যদিকে ধর্মের উপর আঘাত আসলে জিহাদ ঘোষনা করার আদেষ ও দেয়। আরো আশ্চর্য লাগে মানুষ তা গরুর মত মেনে ও চলে। যে ধর্ম মানুষকে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান হিসেবে ভাগ করে দিয়ে তফাৎ সৃষ্টি করে দেয় এবং আমাদের মাঝে মারামারি খুনাখুনি সৃষ্টি করে দেয় সেই বিষাক্ত ধর্মের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আমরা সবাই একই রক্তে মাংসে গডা মানুষ। আমাদের উচিৎ মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালবাসা, এবং আদিম কুসংস্কার বাদ দিয়ে বিজ্ঞানের সাথে নতুন তথ্য জানা। তাহলেই আমাদের পূথিবী হবে কুসংস্কার, মারামারিহীন, মানবতার সুন্দর পূথিবী।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ১:৩৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি কে? রাজাকার!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:০১



ভারতে দেশপ্রেমের সজ্ঞা কী? ভারতে একজন কট্টরপন্থীর দেশপ্রেম হলো প্রথমত পাকিস্তান বিরোধী হতেই হবে। দ্বিতীয়ত মুসলিম বিরোধী হতেই হবে। এই দুই ছাড়া কোনভাবেই সে ভারতকে ধারণ করেনা এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে আগামীকাল ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আগামীকাল অপপ্রচারকারীদের খেলা ফাইনাল হয়ে যেতে পারে। গ্যাস আর বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে কাবু করার দিন ফুরিয়ে এসেছে। 'কাছিমের মতো গর্ত থেকে বের হয়ে' যারা এতদিন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×