somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পিঁপড়া চকোলেট ও ঠোঁটের চিত্রনাট্য

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বালু ও চরের শাসনে মরা নদী, ছইঅলা নৌকা বৈঠা ঠেলে এগুচ্ছে, উপরে নিড়ানি দেয়া ক্ষেত, তারও উপরে একটা বটগাছ বিস্তীর্ণ ডালপালা ছাড়িয়ে সকালের রৌদ্রটাকে ছায়ার আবডালে শাসন করছে। সেই আবছায়ায় একটা মেয়ে কারো অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছে।
মেয়েঃ না না, এক্ষুনি...... আমি চাই-ই চাই... বলেছি তো... এখান থেকে এক পা-ও নড়বোনা... তুমি আসো......
ফোন কেটে, ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা বিদেশি চকলেট খোসা মুক্ত করে মুখে পুরে দিল। চকলেট মেয়েটার ঠোঁটের ভেতর-বাইরে খেলা করছে। খেলা- মেয়েটার চোখেও; রৌদ্র-ছায়ার, আঙ্গুল ও ফোনের ডিজিটে...
কোথাথেকে একটা লাল পিঁপড়া মেয়েটার গালের সীমা অতিক্রম করে ঠোঁটে চলে এসেছে। ঠোঁট বরাবর চকলেটের কাছে পৌঁছুতেই চকলেট ঠোঁটের ভেতর ঢুকে গেল। ঠোঁট বন্ধ। পিঁপড়াটা বন্ধ ঠোঁটের দরজায় কিছু মুহূর্ত আঁটকে থেকে কুটুস করে কামড় বসালো। উপলব্ধি হতেই মায়েটা দুআঙুলে পিঁপড়াটাকে ঠোঁট থেকে তুলে পিষে ফেলল। পিঁপড়ার উৎস সন্ধান করতেই দেখতে পেল গাছের বাকল বেয়ে আর এক লাইন উপরে উঠে আসছে, নিচে চকলেটের খোসা ও তার পাশে একদল পিঁপড়ার মহোৎসব চলছে।
মেয়েটা জুতোর সোল দিয়ে গোটা পিঁপড়ার দলটার উপর নির্মম ভাবে পিষতে লাগলো। যেন একটা ক্ষুদ্র পিঁপড়ার কামড়ের শাস্তি সরূপ একদল পিঁপড়ার উপর পা- জুতা- হিল- এর মহানন্দে নিষ্ঠুর প্রতিশোধ...... নিমিষেই কিছু পিঁপড়া নিহত, কিছু আহত ও কিছু কিছু ছত্রভঙ্গ হয়ে দিক-বিদিক ছুটতে লাগলো।
পাখিরা উড়ছে, রোদ বাড়ছে, গাছের ডালপালার পাতার ফাকফোঁকর দিয়ে রোদ ছায়াদের শাসন ভাঙ্গার চেষ্টা করছে মেয়েটার ফোন বাজছে, কথা বলছে, কথা চলছে...
পিঁপড়েরা কয়েকটি দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করছে। পিঁপড়েরা পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। দলবেঁধে একে একে বটতলার দিকে সংগঠিত হচ্ছে। এক... দুই... করে বহুদলে সারি সারি পিঁপড়া এসে জড় হচ্ছে। যেন বটতলায় লাল পিঁপড়ার সমুদ্র।
সমুদ্র থেকে স্রোতের মত ভেসে ভেসে কিছু পিঁপড়া উঠে যাচ্ছে মেয়েটার পাজামার পশ্চাতে, শরীরে।
মেয়েটা প্রথম দেখতে পেল একদল পিঁপড়ে তার ওড়না দখল করে ফেলেছে তৎক্ষণাৎ সে ওড়না ঝারতে শুরু করলো। তখনই খেয়াল করলো শুধু ওড়না নয় জামা, পাজামা, সামনে পিছে পিল পিল করে চষে বেড়াচ্ছে পিঁপড়ের দল। মেয়েটা ওড়না ফেলে দিল। দু হাত পা ঝেড়ে লাফিয়ে নানাভাবে পিঁপড়েদের মাটিতে ফেলতে চেষ্টা করলো। তার পুরো শরীরে পিঁপড়েদের অবাধ বিচরণ টের পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে মায়েটি কিংকর্তব্যবিমুড় হয়ে পড়লো। তার চোখ স্থির হয়ে গেলো পাথরের মত।
এরই মধ্যে পিঁপড়ের কামড় শুরু হয়ে গেছে। কোন উপায় না দেখে মায়েটি দৌড় শুরু করলো। নদিতে মেয়েটির লাফের ছন্দ ও শব্দ ।
পানিতে মেয়েটার অন্তর্বাস ভাসছে। উপরে জামা-পাজামা-ওড়না, সবকিছু পিঁপড়াদের দখলে চলে গেছে। যেন লাল পিঁপড়াদের মহোৎসব-মহাসমুদ্র-ঢেউ; লাল পতাকার মত পতপত করে উড়ছে।
সূত্র ঃ নট এ থিং /বিপ্লব সিরাজী
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ম্যাজিস্ট্রেট

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



আমাদের এলাকায় নতুন একটা ওষুধের দোকান হয়েছে।
অনেক বড় দোকান। মডেল ফার্মেসী। ওষুধ ছাড়াও কনজ্যুমার আইটেম সব পাওয়া যায়। আমি খুশি এক দোকানেই সব পাওয়া যায়। আমাদের এলাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহ্‌কে কীভাবে দেখা যায়?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

যে কোন কিছু দেখতে হলে, তিনটি জিনিসের সমন্বয় লাগে। সেই জিনিসগুলো হচ্ছে - মন, চোখ এবং পরিবেশ। এই তিন জিনিসের কোন একটি অকেজো হয়ে গেলে, আমরা দেখতে পারি না। চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে জুলাইযোদ্ধাদের উপর পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৪

জুলাই যারা ঘটিয়েছে, তাদের উপর পুলিশের কী পরিমাণে ক্ষোভ, এটা ইলেকশনে যাস্ট বিএনপি জেতার পরই টের পাবেন।
আমি বলছি না, বিএনপির ক্ষোভ আছে।
বিএনপি দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ হতে পারে, কিন্তু জুলাইয়ের উপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাশা : বাংলাদেশের নতুন জাতীয় খেলা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৩৯


"ও শ্যামরে, তোমার সনে একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম, এই নিঠুর বনে। আজ পাশা খেলব রে শ্যাম।" প্রয়াত হুমায়ূন ফরীদির কণ্ঠে ছবিতে যখন এই গান শুনেছিলাম ,তখন কেউ ভাবেনি যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার এবং আমার পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭

বিএনপির প্রতি আমার যথেষ্ট ভালোবাসা কাজ করে, এবং ভালোবাসা আছে বলেই আমি তার প্রতিটি ভুল নিয়েই কথা বলতে চাই, যাতে সে শোধরাতে পারে। আপনিও যদি সঠিক সমালোচনা করেন, সত্যকে সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×