somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের নামাজ যেন হয় জীবন্ত

২৬ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের নামাজ যেন হয় জীবন্ত
মুহাম্মাদ শোয়াইব

নামাজ ইসলামের একটি মহান ইবাদত। ঈমানের পরই এর গুরুত্ব। কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এই নামাজের হিসাব নেয়া হবে। হাদিস শরীফে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব হবে। সেদিন যার নামাজ ঠিক থাকবে তার অন্যান্য হিসাব সহজ হবে। সুতরাং এমন একটি ইবাদত খুশু-খুযুসহ আদায় করার গুরুত্ব কতটা অপরিসীম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের নবীজি অত্যন্ত খুশু-খুযুর সঙ্গে নামাজ পড়তেন। হাদিস শরীফে আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এত লম্বা সময় নামাজে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তার পা মোবারক ফুলে যেত। সাহাবায়ে কেরাম এত খুশু-খুযুর সঙ্গে নামাজ পড়তেন যে, তাদের পা থেকে তীর খুলে ফেলা হলেও নামাজে বিন্দুমাত্র বিঘ্ন সৃষ্টি হতো না। হাদিস শরীফে আছে, এক সাহাবি নামাজে দাঁড়িয়ে এত তন্ময় হয়ে গেলেন যে, কাফেররা বারবার তাকে লক্ষ্য করে তীর ছুড়ল, আর সেই তীর এসে তার বুকে আঘাত করল, তবুও তিনি নামাজ ছাড়লেন না। কিন্তু অত্যন্ত আফসোসের বিষয় হলো, আমরা নামাজ পড়ি, অথচ আমাদের নামাজ সাহাবায়ে কেরামের নামাজের মতো জীবন্ত নামাজ হয় না। আমরা নামাজ পড়ি, পরক্ষণেই বলতে পারি না কোন রাকাতে কোন সুরা পড়েছি।
এর প্রধান কারণ হলো, সাহাবায়ে কেরাম যে মনোভাব নিযে নামাজ পড়েছেন আমরা সে মনোভাব নিয়ে নামাজ পড়ি না। হাদিস শরিফে আছে, এমনভাবে নামাজ পড় যেন এটাই তোমার জীবনের শেষ নামাজ। আমরা এই মনোভাব নিয়ে নামাজ পড়ি না। আমরা কখনও এই চিন্তা করি না যে, এটাই আমরা জীবনের শেষ নামাজ হতে পারে। সুতরাং আমার শেষ নামাজটা যেন নিবিষ্ট চিত্তে ও খুশু-খুযুর সঙ্গে হয় বরং আমরা নামাজ পড়ি অনেকটা গতানুগতিকভাবে। প্রতিদিন নামাজ পড়ি। তাই নামাজের সময় হলে মসজিদে যাই, নামাজ পড়ি। আমাদের এই চিন্তা থাকে না যে, আমার নামাজটা খুশু-খুযুর সঙ্গে হওয়া উচিত। আগের ওয়াক্তের চেয়ে সুন্দর নম্র ও শালীন হওয়া উচিত।
নামাজে খুশু-খুযু সৃষ্টি করার জন্য আমাদের বেশ কয়েকটি কাজ করতে হবে। (ক) সাহাবায়ে কেরাম যে মনোভাব নিয়ে নামাজ পড়েছেন আমাদেরকেও সেই মনোভাব নিয়ে নামাজ পড়তে হবে। মনে মনে এই চিন্তা রাখতে হবে যে, এটাই আমার জীবনের শেষ নামাজ। সুতরাং অত্যন্ত মনোযোগ ও খুশু-খুযুর সঙ্গে নামাজ পড়তে হবে। (খ) সুন্নত তরিকায় নামাজ পড়তে হবে। আর তা শুরু করতে হবে অজু থেকে। যখন অজু করার নিয়ত করব তখন অজুর সুন্নতগুলো একবার খেয়াল করে নেয়া ভলো যাতে কোনো সুন্নত না ছুটে যায়। অজু শেষ হলে অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। এতে নামাজের মনোযোগ বিনষ্ট হতে পারে। বরং সোজা মসজিদে চলে যাওয়া উচিত। জামাতের আগ পর্যন্ত সময়টা দুনিয়াবি কোনো কাজ বা কথায় লিপ্ত হওয়া উচিত নয় বরং নিবিষ্টচিত্তে আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হয়ে নামাজের অপেক্ষা করা উচিত। মসজিদে প্রবেশের পর মসজিদের আদাবের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মসজিদে যতক্ষণ অবস্থান করা হয় ততক্ষণ ইতিকাফের নিয়ত করতে হবে। মসজিদে আমার কথা বা কাজ দ্বারা কোনো নামাজির যেন কষ্ট না হয় সেদিকে খুব খেয়াল রাখতে হবে। মসজিদে প্রবেশের সময় ও বের হওয়ার সময় সুন্নতের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় যে, মসজিদে প্রবেশের যে সুন্নত তা আদায় করতে মনে থাকে না। যেমন ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশের স্থলে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা হয়। সেক্ষেত্রে নিয়ম হলো, অভ্যাস সৃষ্টির জন্য বের হয়ে আবারও ডান পা দিয়ে প্রবেশ করা ও মাসনূন দোয়া পড়া।
নামাজের সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদির প্রতি খেয়াল করে নামাজ পড়তে হবে। তাকবির কেরাত ও বিভিন্ন তাসবিহাত স্পষ্ট উচ্চারণে সহিহ-শুদ্ধভাবে আদায় করতে হবে। শুধু মনে মনে উচ্চারণের কল্পনা করা যথেষ্ট নয়। নামাজে এ কল্পনা করতে হবে যে, আমি আমার প্রভুর সামনে দণ্ডায়মান। আমার ওঠাবসা, রুকু-সিজদা সবকিছুই তিনি দেখছেন। ফেরেস্তারা এগুলো আমার আমলনামায় লেখছেন। এর ওপর ভিত্তি করেই আমার জান্নাত-জাহান্নামের ফয়সালা হবে। হাদিস শরিফে আছে, “এমনভাবে ইবাদত করো যেন তুমি তোমার প্রভুকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে না দেখ তাহলে তিনি অবশ্যই তোমাকে দেখছেন।”
নামাজে খুশু-খুযু আনার জন্য আমাদের আরও অতিরিক্ত কিছু কাজ করতে হবে। নামাজে দাঁড়ানোর আগে নামাজের জন্য কয়েক মিনিট সময় বরাদ্দ করতে পারলে ভাল। এ সময় দুনিয়াবি কোনো কাজ বা চিন্তা করা যাবে না। এই পূর্ণ সময়টা নিবিষ্টচিত্তে আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হয়ে কাটানোর চেষ্টা করতে হবে। তাছাড়া নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন জুতা, মোবাইল, ছাতা ইত্যাদি এমনভাবে রাখতে হবে যাতে এগুলো নামাজের মধ্যে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে না পারে। মোটকথা, পরিকল্পনা ও দৃঢ় সংকল্প থাকলে নামাজে খুশু-খুযু সৃষ্টি করা খুব সহজ। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×