somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরাক ইরানি শাসকদের সমাধিক্ষেত্র

৩০ শে আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনা ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে। সীমান্ত বিরোধ এবং ইরাকের অভ্যন্তরে শিয়া জঙ্গিদের ইরানি মদদ দেয়ার অভিযোগে ১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রয়াত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন যখন তার বাহিনীর মাধ্যমে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অবৈধভাবে ইরানি ভূখ- আক্রমণ এবং অনুপ্রবেশ চালায়। সাবেক ইরাকি প্রেসিডেন্ট বিজয়ের আত্মবিশ্বাসের কারণে যুদ্ধ বন্ধের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সব প্রস্তাবকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আর তিনি এ যুদ্ধকে ‘ব্যাটল অব কাদেসিয়াহ’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কিন্তু কার্যত সে চেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
এর পরের ৬ বছর ইরানি বাহিনী যুদ্ধে অগ্রসরের ভূমিকায় ছিল। ইরানিরা নেতৃত্ব ফিরে পায়। তারা পশ্চিম ইরান থেকে ইরাকিদের তাড়াতে সক্ষম হয়। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী দলগুলো যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে সামনে অগ্রসর হলেও এবার কিন্তু তেহরানই যুদ্ধ বন্ধে অস্বীকার করে বসে। ৫ বছরে পুরোদমে যুদ্ধের আগুন জ্বলতে থাকে এবং তা যন্ত্রণাদায়ক ও ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে ইরানিরা মানবিক ও বৈষয়িক ক্ষতির শিকার হয়। তা সত্ত্বেও ইরানের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবকে এ ধারণায় প্রত্যাখ্যান করেছিল যে, বিজয়ের জন্য আরও মানুষের ত্যাগ ও কোরবানির প্রয়োজন।
ইরান আজ ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে দ্বিতীয় পর্বে অবস্থান করছে। আজ তেহরান তার প্রতিবেশীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চাচ্ছে। এখন আবার আইএস থেকে মুক্ত করার অজুহাতে ইরাকে প্রবেশ করে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির বাহিনী। যিনি আল কুদস ফোর্সের কমান্ডার। এখন ইরাকি বাহিনীর মাঝে তাদের সঙ্গে তুমুল লড়াই শুরু হচ্ছে। ইরাকের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইরানি শাসকদের হস্তক্ষেপকে ঝুঁকিপূর্ণ তা তারা জানে। যেমন নুরি আল মালিকি ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী যে কোনো মূল্যে আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। হায়দার আল আবাদি ২ বছর আগে শপথ নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রিত্ব পাননি। কারণ নুরি আল মালিকির মতো তিনিও দুর্ভাগ্যবান। তাছাড়া ইরান বিক্ষোভ মিছিল করে সরকারকে অচল করে দেয়ার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। ইরান সবচেয়ে ভয়ংকর যে কাজটি করছে তা হলো, তারা একটি মিলিশিয়া সেনাবাহিনী তৈরি করছে। যার নাম ‘আলহাশাদ আল আশাবি’, যা চরমপন্থী দলগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
ইরাকে আমেরিকার আগ্রাসনের পর এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইরান প্রথমে ইরাকে এবং সম্প্রতি সিরিয়ায় চরমপন্থী শিয়া সোভিনিস্টদের লালনপালন করছে। আর এটা করতে গিয়ে তেহরান বৈশ্বিক পরাশক্তি আমেরিকা, ইসরাইল ও উপসাগরীয় রাজতান্ত্রিক আরব দেশগুলোর বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধের ব্যানারে সুন্নিদের কাছে শিয়াবাদ গ্রহণযোগ্য করার আগের সব প্রচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করেছিল।
ইরাকে তেহরানের আস্থাভাজন নেতা প্রধানমন্ত্রী নুরি আল মালিকির সরকার অন্ধভাবে একপক্ষীয় এবং চরমভাবে কর্তৃত্ববাদী যা দেশটিতে শুধু শিয়াদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। ইরানের সুন্নিবিরোধী মনোভাব আরও প্রকটভাবে প্রকাশ হয়ে পড়ে যখন দেশটি দামেস্কের আসাদ সরকারকে পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকে। তেহরান আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হিজবুল্লাহর মতো প্যারামিলিটারি শিয়া সৈন্যসহ তাৎপর্যপূর্ণ আর্থিক সাহায্য, আদর্শগত সমর্থন এবং সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করে। আর তেহরানের এ সহযোগিতা নিয়ে আসাদ সরকার সিরিয়ার সুন্নি মুসলমানদের নির্মমভাবে হত্যা করতে থাকে।
ফল যা দাঁড়াল তা হচ্ছে, আরব বিশ্বের সুন্নি মুসলমানরা পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের কিছু অংশ এখন সুন্নিদের চরমপন্থী বিদ্রোহীগোষ্ঠী আইএসআইএলকে সমর্থন করছে। সুতরাং শিগগিরই হয়তো ইরাকের বুকেই ইরানি শাসকদের সমাধি রচিত হবে
আবদুর রহমান আল রাশেদ

আশশারকুল আওসাত (আরবি) অবলম্বনে
মুহাম্মাদ শোয়াইব
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৫৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×