somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''চটিড্রয়ার'' বৃত্ত্বান্ত

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজ জীবনের কথা। ২০০০ বা ২০০১। আমার খুব কাছের এক বন্ধুর গল্প। আসল নাম বলছি না, ধরে নিলাম ওর নাম মাহফুজ B-), তার পরও মাইর খাবার যথেষ্ট সম্ভবনা আছে! কারন, আমার লেখার অন্প যে ক-জন পাঠেক, তার মাঝে সে একজন। :D

মাফুর হল গিয়ে রাশির দোষ। খুবই হ্যান্ডসাম ছেলে, মেয়ে-পটানো কিউট চেহারা, স্বাস্থ্য-টাস্থ্যও মাশাল্লা (নাইলে কি উপরতলার 'বায়রন' টিস্যুতে চিঠি লিখে গায়ের মাঝে ছুড়ে মারে বা পাশের বাড়ির 'গেরুয়া' দেখা হলেই মনমাতানো হাসি হাসে!)। কিন্তু সময়ে অসময়ে আজব সব অসুখ বাধিয়ে বসে। বৃষ্টিতে ভিজে বা রোদে পুড়ে জ্বর-জ্বারি বাধানোর মত না। হটাৎ করে ১৮/১৯ বছরে চিকেন পক্স হওয়া বা দুমকরে ডেন্গু বাধিয়ে বসা। (অসমর্থিত সূত্র মতে, মাসুদের সাথে কসমোপলিটনে সাথির বাসার সামনে, বিশাল নালার ধরে প্রতিদিন সন্ধার নিয়মিত ডিউটির সময়, মশক-সাক্ষাতের অবদান!)। অবশ্য এইচ.এস.সি'র প্রথম পরিক্ষার দিন হলে গিয়ে হটাৎ অনবরত বমি আর প্রচন্ড আষাড়ে-জ্বর বাধিয়ে বসার ব্যপারটাই সবচেয়ে খারাপ ছিল।:((




এমনি কোন এক বিকেলে ফারুকের সাথে ঘূরতে বেরিয়েছে মাফু। হাটতে হাটতে ফয়েস লেকের দিকে। ওদিকে আবার সানির বাসা। তাই ফারুকের প্রত্যাহিক সান্ধ্যভ্রমনের তাবৎ হাটা হাটি এপথে ( সেই ১৯৯৯ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত!, নিয়মিত)। গন্তব্যে পৈছানোর আগে না পরে ঠিক জানি না, পথে হটাৎ শুরু তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা। দ্রত হাসপাতালান্তরিত করা হল। পরদিন সুবা সুবা দেখতে গেলাম। আমদের দেখে বেচারা যেন হালে পানি পেল। আনন্দে চি-চি চিৎকার করে উঠল! হড়বড় করে যা বল্ল তার সারমর্ম অতি গোপনীয়। মাফুর টেবিলে, দ্বিতীয় ড্রয়ারে নাকি লুকানো আছে রসময়দার গুটিকয় সুখপাঠ্য উপন্যাসিকা! ১৭/১৮ বছরের একটা ছেলের গোপন ড্রয়ারে রসময়দা থাকবে নাত কি থাকবে? তাতে চমকে উঠার কিছু নাই ;)! বরং না থাকাটাই আশ্চর্য। অবৈধ অস্ত্র বা ড্রাগ নাই এটাই বড় কাথা। গান্জার নামও শুনিনাই ধরনের ভাল ছেলে ছিলাম আমরা :P, বিড়ি খাওয়াই ধরি নাই তখনও! চটিগুলো সারাতে হবে। বেচারা অনেক কাকুতি মিনতি করল, যেন মরে টরে গেলে অতি অবশ্যই আমরা বন্ধু হিসেবে এই নুন্যতম কর্তব্যটা করি। বেঁচে গেলে ফুটিস্‌-এ খুব একপেট খাইয়ে দেবার ওয়াদাও করল। জানালার কোনায় লুকিয়ে রাখা চাবিটা তাই খুব প্রয়োজনীয় হয়ে দাড়াল! হাজার হোক, জিগারী দোস্তের মৃত্যু-ইচ্ছা বলে কথা:|! তার উপরে ব্যাপক খানা দানা হাতছানি!! কিন্তু ওর বাসার সাবাই হাসপাতালে ছুটাছুটি করছে। আমি বাসায় গিয়ে কি ভাবে কাম সারি?
মহা মুসিবৎ। তাই ভাগ্যের হাতেই ছেড়ে দিলাম আপাতত। ভাল মন্দ যাই হয়, হোক আগে। তারপর অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থা করা যাবে। অপারেশন করে আ্যাপেন্ডিক্সের গুষ্টি উদ্ধার করা হল। ২/৩ দিন পর বেচারা চ্যাংদোলা হয়ে ঢুকল বাসায়। পাইক বরকন্দাজ হয়ে আমরা পিছে পিছে। বাসায় উৎসব ভাব, হেভ্ভি খানা দানা :)। মামা খালারা রুমে ভিড় করে আছে। অনেক দেরিতে সুযোগ পেলাম আসল কজের। আমি আর ভুট্টি হাত চলায়ে দিলাম ভেতরে। ফরমায়েশ মত জিনিসের সাথে নির্দোষ আরও অনেক কিছুই পেলাম আর পেলাম এক পোটলা লিজান উপটান:D!!! আমাদের সাথে নিয়েই একদিন কিনেছিল, ছোট খালার নাম করে। হা হা হা! এই কথা নিয়ে পরে অনেক ক্ষেপিয়েছি। ক্ষেপাবনাই বা কেন? চটি, তা নাহয় মেনে নিলাম, কিন্তু উপটান! যখনই বলতাম বেচারা লজ্জায় লাল হয়ে যেত! আমার এই অপরাধ সে কখনোই ক্ষমা করতে পারে নি। সেই থেকে ঐ ড্রয়ারের নাম চটিড্রয়ার!!!


আন্টিকে বলে দেব বলে শয়তানটা আমাকে না বলে X(, গোপনে সাদা চামড়ার দেশ অষ্ট্রেলিয়ায় বসে বিয়ে করে ফেলেছে :P। ছয় মাস পর জানানোর প্রতিশোধ হিসাবে আমিও হাটে হাড়ি ভাংলাম!!! :D ;) :P

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বিদেশ যাবার আগে, 'চটিড্রয়ারের' চাবি হারিয়ে ফেলেছিল। তাড়া হুড়ার মাঝে গোপন মালপত্র উদ্ধার করে যাওয়া হয়নি। তাই হটাৎ কোন মাঝ রাতে, ভয়ংকর সব দূ-স্বপ্নে নাকি বাসার লোকজন চাবি হাতে হাজির হয়! ইদানিং নতুন বউকেও নাকি চাবি হাতে চটিড্রয়ারের দিকে যেতে দেখে চমকে জেগে উঠছে প্রায় রাতেই। আজ কাল তাই আবার দূশ্চিন্তা শুরু হয়েছে!!!:P আল্লা মালুম এখন ওখানে কি আছে?


সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৩
২৫টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫৩

ঈদ মোবারক ! খুশীর দিনের ভাবনা




সামুর সকল সদস্যর প্রতি থাকল ঈদ মোবারক ! খুশীর আনন্দ বয়ে আনুক সারাদিন !!!

আমরা সবাই রীতি অনুসারে পারস্পরিক শুভেচ্ছা জানাই এই দিনে ।
ইসলামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×