somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আবার সাগর কোলে: একটি আনন্দময় দিন

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৫:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে বাবা কুরআন পড়ছিল, পাশে আমি দাঁড়িয়ে উস খুস করছি। বাবা কুরআন পড়া থামিয়ে তাকালো। আমি এক নি:শ্বাসে বললাম, 'বাবা, বাংলাদেশ মনে হয় জিতে যাচ্ছে!'

আনন্দ আবহ শুরু তখন পুরাদমে। ক্ষনে ক্ষনে বাংলাদেশের সোনা ছেলেদের পারফর্মেনসের হালকা পাতলা বিশ্লেষন। স্বপ্নের পথ চলা।

আজকের দিনটা আগেই ঠিক ছিল 'বাইরে যাওয়ার দিন' হিসেবে। খুব ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বাসায় 'একসাথে বাইরে যাওয়ার' দিন হয়, মাসে এক বার কি দু'বার। তখন রাস্তার কোনায় গিয়ে ফুচকা কিনে খেতে হলেও আমরা 'এক সাথে' বের হতাম, কিছুটা সময় এক সাথে কাটানোর জন্য। যান্ত্রিকতা আর ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে 'এক সাথে' বের হওয়ার পরিমান কমে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সুযোগ আসলে তাই কিছুতেই নষ্ট করতে ইচ্ছা হয় না। হাজার অসুবিধা করেও বের হই আমরা।

আজকে, বাইরে যাওয়ার দিনের সাথে বাংলাদেশের বিজয়ী হওয়া, এক সাথে হওয়ায় সুবিধা হলো, ঢাকার উদ্দাম আনন্দ খুব করে মিস করলেও, কিছুটা সুন্দর সময় ঠিক পার করলাম। মনে মনে ঠিক ছিলাম হাজার মাইল দূরের কোটি মানুষের সাথে।

প্রথম আনন্দময় ঘটনা--আজকে প্রায় এক ঘন্টা ড্রাইভ করেছি। কাজের কাজ হয়েছে: এই সময়টায় কেউ ঘুমাতে পারে নি।

তারপরে ন্যান্ডোজ। প্রচন্ড ঝাল পেরি পেরি সস মাখানো মুরগির ঠ্যাঙ আর আলু ভাজি চিবালাম উহ আহ করতে করতে। আজকে প্রথম খেয়াল করলাম, ন্যান্ডোজের ছেলেটার শার্টে লেখা: 'আই মেইক দ্যা চিকেনস হট'! (একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম!)
আর মেয়েটার শার্টে: 'চিকস রুল'!

তারপরে, দল বেঁধে মারুবরা রকস।

আগেও একবার গিয়েছি। প্রতিবার আমি সম্মোহিত হয়ে যাই।

আকাশটা আজ তেমন স্বচ্ছ ছিল না। মেঘলাটে। এই মেঘ জমছে তো এই আবার আকাশ পরিষ্কার। আকাশের প্রতিচ্ছবি সাগরে তাই মেঘলাটে হয়েই ফুটল। একটু ধুসরচে নীল। তবু, ওই দূর দিগন্ত, যেখানে তাকালে মনে হয় ক্র্যাপ্ট সিল্কের সাগর জলের উপর দিয়ে হেঁটে ওই পর্যন্ত গেলেই টুপ করে পড়ে যেতে হবে। ওখানে, সাগর মিলেছে আকাশের সাথে। মেঘগুলো ছুঁয়ে আছে সাগরের জল।

যেদিন দুপুরবেলা এসেছিলাম, সেদিন সাগরের ঢেউ ছিল দারুন ক্ষেপাটে। আজকে অনেকটাই শান্ত। তবু, ঢেউ আস্তে আস্তে বড় হয়ে ফুলে উঠে, গাঢ় নীল থেকে ফিরোজা রং হয়ে, তারপরে হঠাৎই তীব্র আনন্দে সাদা ফেনা হয়ে লাফিয়ে উঠে। আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আছড়ে পড়ে পাথরের উপর। তারপরে, যখন পানি সরে যায় পাথরের উপর থেকে--সেও তো দেখার মতই।

অনেক দূরে বসে ছিলাম, কিন্তু তবু সাগরের নোনা জলের ঝাপটা আসছিল মুখে। চোখ বন্ধ করে ঠোঁটের উপর থেকে নিয়ে নিলাম বিশালত্বের স্বাদ। এই একই জল তো রিসাইকেল হয়ে আসছে বাংলাদেশ থেকে তাই না? সেই যে, যখন আসছি বাংলাদেশ থেকে, তখন রাশা লিখে দিয়েছিল ডায়রীতে, 'তোকে আমি কিচ্ছু কিনে দিব না। আকাশটাকে তো আর ভেঙে টুকরো করা যায় না।' পনের বছর বয়সে পাওয়া সেই উপহারটা আবার মুগ্ধ চোখে দেখলাম। আকাশটা তো পেলাম, এবার সাগরের মালিকানাও যে পেতে ইচ্ছা করে!

কতগুলো ছবি তুলেছি মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে। প্রথম ছবিটা খেয়ালী হয়ে তোলা। এক্সপেরিমেন্ট বলা ঠিক হবে কি না জানি না! দ্্বিতীয় ছবিটা এক নি:সঙ্গ মাছ শিকারীর। অতো উঁচু থেকে পাখিদের সাথে পাল্লা দিয়ে মাছ কেন ধরছে কে জানে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৫:৫৫
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×