আনন্দ আবহ শুরু তখন পুরাদমে। ক্ষনে ক্ষনে বাংলাদেশের সোনা ছেলেদের পারফর্মেনসের হালকা পাতলা বিশ্লেষন। স্বপ্নের পথ চলা।
আজকের দিনটা আগেই ঠিক ছিল 'বাইরে যাওয়ার দিন' হিসেবে। খুব ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, বাসায় 'একসাথে বাইরে যাওয়ার' দিন হয়, মাসে এক বার কি দু'বার। তখন রাস্তার কোনায় গিয়ে ফুচকা কিনে খেতে হলেও আমরা 'এক সাথে' বের হতাম, কিছুটা সময় এক সাথে কাটানোর জন্য। যান্ত্রিকতা আর ব্যস্ততা বাড়ার সাথে সাথে 'এক সাথে' বের হওয়ার পরিমান কমে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সুযোগ আসলে তাই কিছুতেই নষ্ট করতে ইচ্ছা হয় না। হাজার অসুবিধা করেও বের হই আমরা।
আজকে, বাইরে যাওয়ার দিনের সাথে বাংলাদেশের বিজয়ী হওয়া, এক সাথে হওয়ায় সুবিধা হলো, ঢাকার উদ্দাম আনন্দ খুব করে মিস করলেও, কিছুটা সুন্দর সময় ঠিক পার করলাম। মনে মনে ঠিক ছিলাম হাজার মাইল দূরের কোটি মানুষের সাথে।
প্রথম আনন্দময় ঘটনা--আজকে প্রায় এক ঘন্টা ড্রাইভ করেছি। কাজের কাজ হয়েছে: এই সময়টায় কেউ ঘুমাতে পারে নি।
তারপরে ন্যান্ডোজ। প্রচন্ড ঝাল পেরি পেরি সস মাখানো মুরগির ঠ্যাঙ আর আলু ভাজি চিবালাম উহ আহ করতে করতে। আজকে প্রথম খেয়াল করলাম, ন্যান্ডোজের ছেলেটার শার্টে লেখা: 'আই মেইক দ্যা চিকেনস হট'!
(একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম!)
আর মেয়েটার শার্টে: 'চিকস রুল'!
তারপরে, দল বেঁধে মারুবরা রকস।
আগেও একবার গিয়েছি। প্রতিবার আমি সম্মোহিত হয়ে যাই।
আকাশটা আজ তেমন স্বচ্ছ ছিল না। মেঘলাটে। এই মেঘ জমছে তো এই আবার আকাশ পরিষ্কার। আকাশের প্রতিচ্ছবি সাগরে তাই মেঘলাটে হয়েই ফুটল। একটু ধুসরচে নীল। তবু, ওই দূর দিগন্ত, যেখানে তাকালে মনে হয় ক্র্যাপ্ট সিল্কের সাগর জলের উপর দিয়ে হেঁটে ওই পর্যন্ত গেলেই টুপ করে পড়ে যেতে হবে। ওখানে, সাগর মিলেছে আকাশের সাথে। মেঘগুলো ছুঁয়ে আছে সাগরের জল।
যেদিন দুপুরবেলা এসেছিলাম, সেদিন সাগরের ঢেউ ছিল দারুন ক্ষেপাটে। আজকে অনেকটাই শান্ত। তবু, ঢেউ আস্তে আস্তে বড় হয়ে ফুলে উঠে, গাঢ় নীল থেকে ফিরোজা রং হয়ে, তারপরে হঠাৎই তীব্র আনন্দে সাদা ফেনা হয়ে লাফিয়ে উঠে। আনন্দ ছড়িয়ে দিতে আছড়ে পড়ে পাথরের উপর। তারপরে, যখন পানি সরে যায় পাথরের উপর থেকে--সেও তো দেখার মতই।
অনেক দূরে বসে ছিলাম, কিন্তু তবু সাগরের নোনা জলের ঝাপটা আসছিল মুখে। চোখ বন্ধ করে ঠোঁটের উপর থেকে নিয়ে নিলাম বিশালত্বের স্বাদ। এই একই জল তো রিসাইকেল হয়ে আসছে বাংলাদেশ থেকে তাই না? সেই যে, যখন আসছি বাংলাদেশ থেকে, তখন রাশা লিখে দিয়েছিল ডায়রীতে, 'তোকে আমি কিচ্ছু কিনে দিব না। আকাশটাকে তো আর ভেঙে টুকরো করা যায় না।' পনের বছর বয়সে পাওয়া সেই উপহারটা আবার মুগ্ধ চোখে দেখলাম। আকাশটা তো পেলাম, এবার সাগরের মালিকানাও যে পেতে ইচ্ছা করে!
কতগুলো ছবি তুলেছি মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে। প্রথম ছবিটা খেয়ালী হয়ে তোলা। এক্সপেরিমেন্ট বলা ঠিক হবে কি না জানি না! দ্্বিতীয় ছবিটা এক নি:সঙ্গ মাছ শিকারীর। অতো উঁচু থেকে পাখিদের সাথে পাল্লা দিয়ে মাছ কেন ধরছে কে জানে?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৫:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



