somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন বছরে, মানুষের খোঁজে...

১৪ ই এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল একটা মুভ্যি দেখছিলাম, নাম ভুলে গিয়েছি। মুভ্যিটা করা হয়েছে আমেরিকার একটা ইহুদী স্কুলকে কেন্দ্র করে। সব ধার্মিক ইহুদী। মাথায় ছোট্ট গোল টুপি। বাইরের লোকের প্রতি তীব্র সন্দেহ। বড় বড় মানুষদের, টিচার, বাবা মায়ের ইহুদী ছাড়া আর কারো প্রতি বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এক ধরনের নাক উঁচু মনোভাব।

এরই মধ্যে একদল ছেলে বাস্কেটবল খেলতে চায়। ছোট ছোট ইহুদী শরীর, যেখানে ভীষণ বুদ্ধিমান মাথা আছে, কিন্তু খেলোয়ার শরীর নেই, বাস্কেটবলের জন্য খুব ভালোবাসা আছে, কিন্তু আশে পাশে কেউ বাস্কেটবলকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে জানে না। ছোট্ট পরিসরে ওদের ছোট্ট সংগ্রাম দেখায়। বড় ভালো লাগে দেখতে। গায়ে শিহরন লাগে। চরিত্রের সাথে সাথে চোখে পানি আসে, গর্বে বুক ভরে যায়, হতাশা হয়, ভালো লাগে।

আমরা নিজেদের গল্প পড়তে, শুনতে বেশি ভালোবাসি। ধার্মিক ইহুদী স্কুলের বাস্কেটবল পাগল ছেলেদের গল্প কি করে আমার গল্প হলো, সেটা বুঝা একটু সমস্যাই। একে তো ইহুদী, তার উপর বাস্কেটবল পাগল, তার উপর একদল টিনেজ ছেলে! কোন ভাবেই তো হিসাব মিলে না!

তবু, আমার গল্প। আপনারা দেখলে হয়তো আপনাদেরও গল্প হতো।

কারণ, এই গল্পটা মানুষের গল্প।

যতই দূরের মনে হোক মানুষগুলোকে, মানুষগুলোর সংগ্রাম আসলে একই। "বিশাল এই পৃথিবীতে নিজের একটু জায়গা করে নেয়া। হিসাব মিলানো, পৃথিবীকে কোন পথে দিলে সবচেয়ে বেশি দেয়া যাবে।"

এবার চারিদিকে তাকান। কিছু গুটিকতক মানুষ ছাড়া আসলে সব মানুষের মধ্যেই এই একটা ব্যাপার দেখতে পাবেন। তার দৃষ্টিভঙ্গিকে যতই ঘৃনা করেন, একটু ভিতরে ঢুকে তাকে বুঝার চেষ্টা করুন। আপনি যেই তীব্র আকুতি নিয়ে পৃথিবীর জঞ্জাল পরিষ্কারে নেমেছেন, সেও তাই। হয়তো আপনি যাকে জঞ্জাল ভাবছেন, সে সেটাকে তা ভাবতে পারছে না। আপনি যেভাবে জঞ্জাল পরিষ্কার করতে চাইছেন, সে সেই পথকে নিজের পথ ভাবতে পারছে না।

আবার নিজের দিকে তাকান। আপনি জীবনে যত মানুষের সাথে মিশেছেন, যেই পরিস্থিতিতে থেকেছেন, প্রতিটা মানুষ, প্রতিটা পরিস্থিতি থেকে একটু একটু করে নিজের মধ্যে নিয়ে নিয়েছেন। কখনও ইচ্ছায়, কখনও অনিচ্ছায়। কখনও ছিনতাইকারীর হাতে পড়ে থাকলে, তার থেকেও কিছু নিয়েছেন, শিখেছেন। হয়তো এখন সব ছিনতাইকারীদের তীব্র ঘৃণা আর ভয় করেন। কখনও কোন ছিনতাইকারীর পাল্লায় না পড়লে ঠিক এতটা ঘৃণা আর ভয় করতে পারতেন না। অথবা হয়তো আগে যতটা ভয় আর ঘৃণা করতেন, সেটা দূর হয়ে এখন সেখানে সহমর্মিতা ভর করেছে। এটাও তাকে সামনা সামনি দেখার ফল।

এভাবে প্রতিটা মানুষ। প্রতিটা টিভি শো। প্রতিটা গান। প্রতিটা নাটক। প্রতিটা বই। প্রতিটা ঘটনা আপনাকে একটু একটু করে গড়ে তুলেছে।

দুই যমজ, যাদের জিন সব একই, তাদের শুধু এই অভিজ্ঞতার পার্থক্যের কারণেই দু'জন ভিন্ন মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে দেখা যায়।

শুধু মাত্র এই কারণটায় আপনার সাথে তর্ক করতে থাকা মানুষটার চিন্তা চেতনা আপনার থেকে এতো আলাদা। আপনি হাজার চেষ্টা করলেও 'ঠিক' আপনার মত করে কখনও তাকে ভাবাতে পারবেন না। খুব কাছাকাছি আসতে পারে, কিন্তু কখনই একদম এক রকম হবে না। মানুষ হওয়ার আনন্দ বোধ হয় এখানেই!

আমাদের যারা নিয়ন্ত্রন করে, রাজনীতিবিদগণেরা, পয়সাওয়ালারা, মিডিয়ার নিয়ন্ত্রকেরা, এই সব 'বড় বড় মানুষদের' জন্য 'শত্রু' থাকা লাভজনক। তাতে নিজের ব্যর্থতার দোষ চাপানো যায় অন্যের ঘাড়ে।

"শত্রুর ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে এগুতে দিচ্ছে না। ওদের ঘৃণা করা আমাদের কর্তব্য। ওরা আস্তিনের সাপ। আমাদের অস্তিত্ব গুড়িয়ে দিতে যায়। ষড়যন্ত্র নস্যাত করে দিতে হবে..."

জনমনে 'শত্রুর' প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা যায়। তাদের কথা বাড়িয়ে বলে ভয় সৃষ্টি করা যায়।

মানুষের মধ্যে 'অনেক কিছু করার ক্ষমতাকে' ধ্বংসাত্মক রূপ দেয়া যায়। ধ্বংস করতে ব্যস্ত থাকা মানুষেরা যারা আখের গুছাচ্ছে, তাদের দিকে খেয়াল দিবে কম।

এভাবে মানুষগুলোকে নিয়ন্তনে রাখা যায়। যদি পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ প্রতিটা মানুষকে বুঝতে চাইতো, তাহলে হয়তো এতসব হতো না। এই 'বুঝতে চাওয়া'টাই বন্ধ করতে চান আমাদের নিয়ন্ত্রকেরা।

নতুন বছরের প্রথম দিনে, এই উপলব্ধিটাকেই ছড়িয়ে দিতে চাই আমার পাঠকদের প্রতি। স্রষ্টা আপনাকে অনেক বুঝার যেই অপরিসীম, অসাধারন ক্ষমতা দিয়েছেন, সেটা আর হেলায় ফেলে রাখবেন না।

ক্রমপরিবর্তনীয়, ক্রমবর্ধমান, কনফিউজিং এই পৃথিবীতে বুঝতে চেষ্টা করুন, সবাইকে। মানুষের অপরিসীম ক্ষমতা আর চরম দুর্বলতার অনন্য সমন্বয়ের চরম মানুষ রূপটা খুঁজে বের করে তাকে ভালোবাসতে শিখুন এই নতুন বছরে!

শুভ নববর্ষ!
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খাম্বা/খাল তারেক কে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করছি

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪২

আজ আর মনের মাধুরী মিশিয়ে বকাঝকা করব না। আজ কিছু ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা শেয়ার করব।



খাল খনন বা ঢাকার বাসস্ট্যান্ড সরানোর চেয়ে কি কি গুরুত্বপূর্ন কাজ এই অর্থবছরে করা যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গানটি প্রিয় রাজীব নূর ও কবি স্বপ্নের শঙ্খচিলকে উৎসর্গ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:০৬

আমার খুব প্রিয় একটি কবিতার সাথে ব্লগার স্বপ্নের শঙ্খচিলের কবিতা মিলিয়ে গানটি বুনেছি।
শোনার আমন্ত্রণ রইলো।
============================

এই জল ভালো লাগে;
বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কদমের পাপড়ি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


এ আষাঢ়ের চোখ কেমন জানি-
চৈত্রের হাওয়ায় কদম নয় যেনো
আগুন- আগুন- তবু ভেজে যাচ্ছে-
শান্তি চুক্তির গন্ধ বাতাস-বাতাসে;
আনন্দময় আষাঢ়ে কাম ভাবনায়
শুধু মাটির বুক গড়ে- গড়ে আসে
জলকাঁদার শ্রেষ্ঠ হাসি অথচ বসন্ত
কান্না... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×