নামাজকে ঠিক নামাজের মত বুঝতে হলে অভ্যস্ততার গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসাটা খুব জরুরি! আমার ক্ষেত্রে সেটা হয়েছে, কারণ, মা বাবার খুব চেষ্টার পরেও একদম বাচ্চাকালে নামাজের অভ্যাস আমার গড়ে উঠে নি। (ব্যর্থতা পুরাটাই আমার!) পরের সময়ের নামাজ পড়াটা তাই ছিল সচেতন উপলব্ধি প্রসূত। আল্লাহর ভালবাসাকে সচেতন ভাবে টের পেয়ে সেই উপলব্ধি প্রসূত। দৌঁড়ানির ভয়ে পড়া মন্ত্রের সমষ্টি ছিল না।
প্রতিটা নামাজ যে ভীষণ অর্থপূর্ণ হয় তা কিন্তু না। মাঝে মাঝে পুরা নামাজটাই পড়ে উঠি কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেমের গলি ঘুপচি ঘুরে বা সাম্প্রতিক সময়ে পড়া কোন লেখার বিশ্লেষন করতে করতে। নামাজ শেষে খেয়াল হলে মনে হয় 'ধুত্তোরিকাছাই'।
ফজরের নামাজটা তো খুবই কষ্টকর। এক একটা দিন সত্যিই পারি না। কোন মতে শরীরটা টেনে নিয়ে বাথরুমে যাই। চোখ বন্ধ করেই কোনমতে নাকে মুখে পানি দিয়ে 'ওযু' সারার চেষ্টা করি। চোখ কিছুতেই খুলি না, এত্ত আরামের ঘুমটা আঠা হয়ে লেগে আছে! তারপর ঢপাঢপ নামাজ পরে সোজা কম্বলের তলে।
তারপরেও, এরকম নামাজও নিয়মিত পড়ার সুফল পেয়েছি হাতে নাতে। ক্লাস-টিউশনি-বিনোদনের চেষ্টা-পড়াশোনা-ঘুম-খাওয়া-ক্লাস... এগুলোর ভিড়ে জীবনটা খুব যান্ত্রিক হয়ে যায়। নামাযটা যান্ত্রিকতা থেকে টেনে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ইউনিতে বেটা অক্সিডেশনের রিএকশনগুলো বুঝতে বুঝতে মাথায় রাখতে হয় আসরের নামাজোর সময় চলে গেল নাকি! তাড়াতাড়ি লেকচার থেকে বের হয়ে লাইব্রেরির ওই খালি কোনটা খুঁজে বের করে দাঁড়িয়ে পড়া। কেমন বিভ্রান্ত করে দেয় সার্বক্ষনিক যান্ত্রিকতা। নিজেকে যন্ত্র আর মানুষের মাঝামাঝি নিয়ে যায়। নামাজটা যেন নিজেকে খুঁজে পাওয়া। রিকনসিলিয়েশন। অর্থহীন যান্ত্রিকতায় একটা অর্থবহ লক্ষ্য। মনে পড়া, এই সব যান্ত্রিকতার বাইরে ভীষণ অর্থবহ, বিশাল ব্যপ্তিময় কিছু আছে...
খুব মানসিক অশান্তির সময়গুলোতে একটা বিশেষ সময়ের প্রার্থনা সব কিছুকে ঠিক করে দিতে পারে। শেষ রাতে, পৃথিবী যখন নি:শব্দ ঘুমে, তখন, মহান সত্ত্বার মুখোমুখি দাঁড়ানো। সিজদায়, যখন তাঁর আর প্রার্থনাকারীর মধ্যে বিন্দুমাত্র দুরত্ব থাকে না, সেই সময়টাতে, শুধুমাত্র স্রষ্টার ভালবাসার দৃষ্টির সামনে একান্তে দাঁড়িয়ে নিজেকে আবিষ্কার করা যায় বিভ্রান্তির জঞ্জাল থেকে...
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০০৭ সকাল ৭:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




