রাশা দাওয়াত দিল ময়মনসিংহ মেডিকেলে, খুব সুখে আছে। মেডিসিনে পড়ার দুর্দমনীয় আকাঙ্খা থেকে ক্লাস টেনে কাকের বৈজ্ঞানিক নাম সহ মুখস্ত করে ফেলেছিল। অথচ এসএসসি, এইচ এস সি, কোনটাতেই জিপিএ ৫ পায় নি। চমৎকার চিঠি লিখতে পারে, দারুণ গুছিয়ে কথা বলতে পারে। মানুষকে সারপ্রাইজ করার ক্ষেত্রে--ভাল কাজ বা বদ কাজ যা দিয়েই হোক, রাশার জুরি ছিল না কোন কালেই। 'রাশা, শয়তানের বাসা' ছিল আমাদের শ্লোগান। তীব্র প্রতিভাবতী, কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে কেন জানি প্রতিভাটা প্রকাশিত হত না কখনও। সেই ওরই খুব ডাক্তার হওয়ার শখ ছিল। ভর্তি পরীক্ষায় শুধু অসম্ভব ভাল করে ভর্তি হয়ে গেল মেডিসিনে।
সুখে আছে তার প্রমান হলো ওজন বেড়েছে প্রায় আট কেজি। আমি তো পুরা টাসকি! ওদের গাড়ি করে যখন বাসায় আসতাম, তখন পিছনের সিটে আমরা পাঁচ শুটকি বেশ এটে যেতাম। ড্রাইভার মোতালেব মামার পাশের সিটটা খালিই থাকতো, কিন্তু কেউ কখনও ওখানে একা বসতে চাইত না, পিছনে সব মজা রেখে। অগত্যা, চাপাচাপি করে বসে গান শুনতে শুনতে তুমুল আড্ডা দিয়ে বাসা পর্যন্ত যাওয়ার পথটুকু পার হওয়া--একই তরীতে। কি সুখের দিনগুলো! সেই এক সাথে বসতে পারার সব সম্ভবনাকে বাঞ্চাল করে দিয়ে রাশা নাকি ওজন বাড়াচ্ছে?
রাশা ওর হোস্টেলে দাওয়াত দিল। 'সন্ধ্যা, চলে আসো না। ময়মনসিংহে দেখার কিছু নাই কিন্তু এই আমি কোথায় থাকি, কোথায় ঘুমাই, কি খাই--এই সব দেখাতাম! একটু থাকতাম তোমার সাথে। কবে আসবা?'
খুব যেতে ইচ্ছা করছে!
রোইয়া দাওয়া দিয়েছে এমআইএসটির হোস্টেলে গিয়ে থাকতে ওর সাথে। ভিকারুন্নিসার শাম্মা, তাসনিম, তুলি আর ও, সব নাকি একই রুমে থাকে। সারাদিন, সারারাত তুমুল আড্ডাবাজি আর গান শুনাশুনি হয়। কারও আড্ডা দিতে ইচ্ছা করলে চলে আসে ঝপাৎ ওদের রুমে।
'খুব মজা হয় সন্ধ্যা। তোমার সাথে কথা বলা মিস করি। আমার ক্যাম্পাসটা খুব সুন্দর। থাকো না এসে আমার সাথে কয়েক দিন!'
তুমুল আড্ডামুখর কয়েকটা সরব রাত কাটানোর জন্য বুকের ভিতর ইচ্ছাটা চিৎকার দিয়ে উঠছে সেই কখন থেকে...
সাঞ্জুর অবশ্য বুয়েট একদম ভাল্লাগছে না। কেন জিজ্ঞাসা করতেই মহা বিষ্মিত উত্তর--'কি আশ্চর্য, বুয়েট কি ভাল লাগার ব্যাপার হল নাকি? ভাল লাগবে কি করে?' কম্পিউটিঙে পড়ছে ও, প্রোগ্রামিং নাকি ভালই লাগছে। খালি বুয়েটটাই যা ঝামেলার। পরীক্ষা শেষ তাই হাফ ছেড়ে বেঁচেছে। এক মাসের ছুটি। কাজিনদের সাথে বাসে করে কক্সবাজার যাচ্ছে পরশু। 'সন্ধ্যা, চলে আসো! খুব মজা হবে।'
খুব যেতে ইচ্ছা করছে যে!
আজ সন্ধ্যায় বিয়ে আমার দু'জন প্রিয় মানুষের। সেই সুদূর চাটগাঁ। বর বলে, 'পারলে এখনই খিইচ্যা দৌঁড় দেই।'
'কোন দিকে রে ভাইয়া?'
'জানি না আপু। খালি জানি আমার ক্যামন বেদিশা বেদিশা লাগতেছে।' গলায় তীব্র হতাশা, আতঙ্ক। আমার পেট ফেপে হাসি আসল।
'কি আশ্চর্য আপু, তুমিও হাসতেছ? তুমি আমাকে বুঝবা না? আমার লাইফের পুরা কনট্রল আমার থাকবে না ভাবতেই তো মাথা খারাপ হয়ে যাইতেছে। আল্লাহ রে, কনে অন্য কেউ হইলে এতক্ষণে নির্ঘাত ভাগা দিতাম।'
কনে পুরা ঠান্ডা। দিব্যি ক্লাস করছে, বিয়ে হলুদ নিয়ে হা হা হি হি হাসছে। সেই ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি বিয়ের সময় মামী, খালারা সব কাঁদতে কাঁদতে অস্থির হয়ে যায়। দিনকাল সব পাল্টে গেল নাকি?
পাল্টালে পাল্টাক, খুব খুব ইচ্ছা করছে উড়ে দেশে চলে যাই। আমাকে কেউ একটা ম্যাজিক কার্পেট দিবেন? দেশে যেতাম খালি কয়েকটা দিনের জন্য...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



