একদিন আমি তোমার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হতে চেয়েছিলাম;
চেয়েছিলাম, সাহিত্য মঞ্জুষা ক্লাশে হরিদাসীর গোপন ব্যথার তীব্রতা অনুধাবনের চেয়ে
দখিণা বাতাসে তোমার শাড়ির আঁচলের উড়াউড়ির অর্থ উপলব্দি করতে
চেয়েছিলাম তোমার শাড়ির ভাঁজে গুঁজে থাকা গল্পগুলোর পাঠোদ্ধারে অধিক মনোযোগি হতে
টিফিন পিরিয়ডে তোমার প্রত্যহ বাড়ি ফিরে যাওয়া, একদিন আমাকে অদ্ভূত বেদনা আচ্ছন্ন
করে তুলেছিল। তবুও আমি; শাদা শাড়ির আস্তরণে ঢাকা পড়া
তোমার ফুল হাতা কলার ওয়ালা শাদা ব্লাউজে আটকে থাকা থরে থরে সাজানো মিছিল
তোমার উদোম পীঠের সোনারঙা প্রান্তরে ছড়িয়ে থাকা লেয়ার কাট চুলের দোল খাওয়া
তোমার কাজল টানা চোখে মৃত্যুর মিছিল, মাঝ রাতে তোমার শোবার ঘরের জানালার শিক
ভেঙে বেরিয়ে আসা দীর্ঘঃশ্বাস, সকালে তোমার উত্তরণে হেঁটে চলার বাঙ্ময়তার পাঠোদ্ধারে
অধিকতর সচেতন হয়ে উঠেছিলাম।
একদিন; আমি তোমার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হয়েছিলাম।
সেদিন আমি বড় হয়ে গিয়েছিলাম। তোমার প্রেমিক হবার মতন যথেষ্ট বড়
বলেছিলাম, চলো। পালায়। এই শহর ছেড়ে। অনেক দূরে।
একদিন গৃহত্যাগি জ্যোছনায় পালাতে চেয়েছিলাম।
কী আর হবে! না হয় ঢের ফিরেই আসতে হবে!
অষ্টম শ্রেণির ছাত্ররা কত্তো পালায়! ফিরে আসে। আবার পালায়
আমার জাহিদ কাকুকে কত্তবার পালাতে দেখেছি
সন্ধ্যার আঁধারে চুপি চুপি বাড়ি ফেরে বাবার অনুপস্থিতি নিশ্চিত জেনে
রাতে খাবার টেবিলে প্রত্যাবর্তনের লজ্জায় মুখ ঢেকে খেয়ে দেয়ে সটকে পড়ে
জল্লাদ বাবার চোখ ফেটে জল আসে ছেলের প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তনে
আর মা এটা সেটা কত্ত কী জিজ্ঞেস করে। বিরক্ত লাগত না তখন
একদিন সম্ভাবনার মর্মোদ্ধারে তোমার কোচিং সেন্টারে হানা দেয় জলেশ্বরীতলা
তুমি চমৎকারভাবে বুঝিয়ে বললে সম্ভাবনার মানে। সম্ভব না।
একদিন আমি তোমার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হতে চেয়েছিলাম
একদিন তোমার ছেলে আমার প্রেমিকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র হয়ে গেলো
আর আমি চেয়ে চেয়ে দ্যাখলাম।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




