somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার শেষ মানুষটি

২৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টিচার খুব আন্তরিকতার সাথেই পাশের
মেয়েটাকে বললেন– জননী তোমার কি বিয়ে
হয়েছে? মেয়েটা একটু লজ্জা পেয়ে বলল-
হ্যাঁ স্যার। আমার একটা দুই বছরের ছেলে
আছে।
.
টিচার চট করে দাঁড়ালেন। খুব হাসি হাসি মুখ
নিয়ে বললেন- আমরা আজ আমাদেরই
একজনের প্রিয় মানুষদের নাম জানবো। এই
কথা বলেই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বললেন
– মা আজকে তুমিই টিচার। এই নাও চক,
ডাষ্টার।
.
যাও তোমার প্রিয় দশ জন মানুষের নাম
লেখো। মেয়েটা বোর্ডে গিয়ে দশ জন
মানুষের নাম লেখলো। টিচার বললেন, .
এরা কারা? তাদের পরিচয় ডান পাশে
লেখো। মেয়েটা এদের পরিচয় লেখলো। .
সংসারের সবার নামের পাশে দুই একজন বন্ধু,
প্রতিবেশীর নামও আছে। টিচার এবার
বললেন – লিষ্ট থেকে পাঁচ জনকে মুছে দাও।
মেয়েটা তার প্রতিবেশী, আর ক্লাশমেটদের
নাম মুছে দিলো।
টিচার একটু মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, আরো
তিন জনের নাম মুছো। মেয়েটা এবার একটু
ভাবনায় পড়লো। ক্লাশের অন্য ষ্টুডেন্টরা
এবার সিরিয়াসলি নিলো বিষয়টাকে। খুব
মনযোগ দিয়ে দেখছে মেয়েটার সাইকোলজি
কিভাবে কাজ করছে। মেয়েটার হাত কাঁপছে।
.
সে ধীরে ধীরে তার বেষ্ট ফ্রেন্ডের নাম
মুছলো। এবং বাবা আর মায়ের নামও মুছে
দিলো। এখন মেয়েটা রিতিমত কাঁদছে। .
যে মজা দিয়ে ক্লাশটা শুরু হয়েছিলো, সেই
মজা আর নেই। ক্লাশের অন্যদের মাঝেও
টানটান উত্তেজন। লিষ্টে আর বাকী আছে
দুইজন। মেয়েটার হাজবেন্ড আর সন্তান।
টিচার এবার বললেন, আরো একজনের নাম
মুছো। কিন্তু মেয়েটা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।
কারো নাম মুছতে সে আর পারছেনা। টিচার
বললেন – মা গো, এইটা একটা খেলা।
সাইকোলজিক্যাল খেলা। জাষ্ট প্রিয়
মানুষদের নাম মুছে দিতে বলেছি, মেরে
ফেলতে তো বলিনি!!!
.
মেয়েটা কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে ছেলের
নামটা মুছে দিলো। টিচার এবার মেয়েটার
কাছে গেলেন, পকেট থেকে একটা গিফ্ট
বের করে বললেন– তোমার মনের উপর দিয়ে
যে ঝড়টা গেলো তার জন্য আমি দুঃখিত। আর
এই গিফ্ট বক্সে দশটা গিফ্ট আছে। তোমার সব
প্রিয়জনদের জন্য।
.
এবার বলো, কেন তুমি অন্য নামগুলো মুছলে।
মেয়েটা বলল- প্রথমে বন্ধু আর
প্রতিবেশীদের নাম মুছে দিলাম। .
কারন তবু আমার কাছে বেষ্ট ফ্রেন্ড আর
পরিবারের সবাই রইলো। পরে যখন আরো তিন
জনের নাম মুছতে বললেন, তখন বেষ্ট ফ্রেন্ড
আর বাবা মায়ের নাম মুছে দিলাম। ভাবলাম,
বাবা মা তো আর চিরদিন থাকবে না। আর
বেষ্ট ফ্রেন্ড না থাকলে কি হয়েছে? .
আমার কাছে আমার পুত্র আর তার বাবাই
বেষ্ট ফ্রেন্ড। কিন্তু সবার শেষে যখন এই
দুইজন থেকে একজনকে মুছতে বললেন তখন আর
সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। .
পরে ভেবে দেখলাম, ছেলেতো বড় হয়ে
একদিন আমাকে ছেড়ে চলে গেলেও যেতে
পারে। কিন্তু ছেলের বাবাতো কোন দিনও
আমাকে ছেড়ে যাবে না।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১১:০৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×