somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে খুঁজে পেলাম সভ্য-অসভ্যের পার্থক্য---

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুইডেনে এসেছি ৭ মাস হলো। প্রথম প্রথম এসেই কর্ম তালাশের তাড়াহুড়ো ছিলনা। কারণ পিতৃপ্রদত্ত কিছু ডলার তখনো পকেটে কচকচ করছিল। তাই প্রথম লক্ষ্য ছিল ঘুরাঘুরি সেই সাথে রাজনীতি বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়ায় একটা সুপ্ত জিজ্ঞাসাও মনে খোঁচাচ্ছিল -আমাকে জানতে হবে কেন পশ্চিমারা সভ্য(!) আর আমাদের বলা হয় অসভ্য(পশ্চিমাদের ভাষায়)।প্রথম দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শেষ করেই বের হলাম শহর দেখতে আর আমার প্রশ্নের উত্তর ও খুঁজে পেতে শুরু করলাম।পরিচ্ছন্ন আর পরিকল্পিত শহরে প্রথমেই অবাক হলাম সবার ট্রাফিক আইন মেনে চলা দেখে। এখানে চোখবুজে আপনি জেব্রাক্রসিং পারহতে পারবেন(এখানে ট্রাফিক সিগনালও আছে আবার সিগনাল বাতি ছাড়া শুধু জেব্রাক্রসিং ও আছে আমি ২য় টির কথা বলছি কারণ সিগনাল বাতিতে ত সবাই সেটাই মেনে চলে)। কারণ আপনি ক্রসিং এ পা দেয়া মাত্রই দুইপাশের গাড়িগুলো থমকে দাঁড়াবে যতক্ষণ না আপনি রাস্তা পার হচ্ছেন।মনে হলো এই জন্যই বোধহয় এরা সভ্য। পরে মনে হলো না এটা সভ্য অসভ্যের মাপকাঠি হতে পারেনা।কারণ আমার দেশে মানুষ পার হওয়ার জন্য গাড়িকে দাঁড়িয়ে থাকতে হলে
সারাদিনে একটি গাড়িও ঐ ক্রসিং পার হতে পারবেনা, কারনটা আপনাদের জানা(জনসংখ্যা বিষ্ফোরন)।এভাবে প্রতিদিনই সভ্য-অসভ্যের একটি একটি কারণ চোখেপড়ে আবার মনেহয় এটা বোধহয় পরিপূর্ণ কারন নয়। অবশেষে আমি একটি কারন খুঁজে পেলাম গত ৮ই ,১৩ই ফেব্রুয়ারী। আর কারণটি খুঁজতে আমাকে সহায়তা করল আমারই রুমমেট ডঃ জর্জিয়াস জেফরি।একজন পশ্চিমা ডাক্তার। তার আগে আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে বলছি-আমি এখানে যে ফ্ল্যটে ভাড়া থাকি সেখানে আমার সুইডিশ বাড়িওয়ালা লেফ পারসন ছাড়াও আমি,ডাঃ জর্জি (হাঙ্গেরিয়ান) এবং জার্মানীর ম্যাথিয়াস থাকি। আমরা প্রতিদিন একসাথে ডিনার সেরে গল্পে মেতে উঠি।সেই গল্পে রাজনীতি,অর্থনীতি,ধর্ম,ইতিহাস,চিকিৎসা সবই থাকে। থাকে তুমুল তর্কবিতর্ক ও যুক্তি এবং যুক্তিখন্ডনের পালা। ওরা তিনজনই ইউরোপিয়ান হওয়াতে আমাকে একই সাথে এশিয়া, বাংলাদেশ এবং ইসলাম এর প্রতিনিধিত্ত করতে হয় আলোচনার টেবিলে। তাই ডাঃ জর্জি আমাকে মাঝেমাঝে সহায়তা করে,আর সেজন্য সে প্রায়শই বাংলাদেশ সম্পর্কে অনলাইনে পড়ে এবং কিছু সংবাদপত্রও (ইংরেজি) পড়ে। প্রতিদিনের মত সেদিনও আমরা ভূড়িভোজ সেরে কিছু হালকা আলাপ করছিলাম,হঠাৎ জর্জি আমাকে যে প্রশ্নগুলো করল তাতে আমার মনে হল আমি সভ্য-অসভ্যর কারন খুজে পেয়েছি। আমি জর্জির করা প্রশ্ন গুলো বলছি -

১. তোমাদের দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাঙ্গন এ একজন ছাত্রকে অন্যছাত্ররা
মেরে ফেলল কেন? (এর কয়েকদিন আগে আমি ওদেরকে ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেলের ছাত্রদের গৌরবজ্জল ইতিহাস বলেছিলাম। )
২. আর সরকার এর বিরুদ্ধে কোনো স্টেপ না নিয়ে তোমাদের একজন মন্ত্রী এটাকে স্বাভাবিক,বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলল কেন?
৩. তোমাদের দেশের সরকার কি ছাত্রদের নিরাপত্তা দেয়না আর যারা মারল তারা তো সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের বলে সংবাদপত্রে লিখলো তাহলে সরকার এদেরকে এরেষ্ট করছেনা কেন?

সম্মানিত পাঠক পাঠিকারা আপনারা বলতে পারেন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর?

আমার কাছে এর একটিই উত্তর আর তা হলো "আমরা অসভ্য"।

এর ঠিক কয়েকদিন পর আবারও আমাকে জর্জির প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলো সেগুলো ছিল আরও কঠিন- ১৩ ই ফেব্রুয়ারী-

১‌. তোমার দেশে আরো ৩ জন ছাত্রকে মেরে ফেললো কেনো?
২. তোমার দেশের একটি সঙ্গঠনের ছাত্রদেরকে সারাদেশ থেকে এরেষ্ট করছে কেন? এটা কি নিষিদ্ধ সঙ্গঠন?এই সঙ্গঠনের সারা দেশের সব ছাত্ররাই কি খারাপ?

আলোচনার এক পর্যায়ে সে বললো
৩. তোমার কথা শুনে বুঝাগেলো ২ টা সঙ্গঠনেই সন্ত্রাসী রয়েছে তাহলে সরকার ১ টির বিরুদ্ধে এ্যকশন নিল অন্যটির বিরূদ্ধে নিচ্ছেনা কেনো? আর যে সঙ্গঠনটির বিরুদ্ধে এ্যকশন নিচ্ছে সেটা যেহেতু নিষিদ্ধ নয় তাদের নেতাকর্মীদেরকে গণগ্রেপ্তার করছে কেনো?
৪. তাহলে কি সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করছেনা? মানোবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে না?

এখানেও আমার উত্তর একটাই- আমরা অসভ্য
কিন্তু আমি আমার এই উত্তর জর্জিকে দিতে পারিনি- লজ্জায়।
আপনি হলে কি উত্তর দিতেন?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৪
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন চালাতে শহরে থাকা কিন্তু বেঁচে থাকা যেন বাড়িতেই

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৯

ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×