ঘরে হঠাৎ নূপুরের শব্দ। ভদ্রমহিলা ললাগেজেরদিকে বিস্ফোরিত দৃষ্টি তে তাকালেন। লাগেজে একটা হাত আলতো করে রেখে টিভির ছোট্ট মেয়েটা দড়িয়ে তার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে।
মেয়েঃ "বুঁচি তুই সেই যে দেশ ছেড়ে এলি আর ফিরলি না...আমার কথা একবারও মনে পড়লো না বুঝি?”
ভদ্রমহিলাঃ (বিস্ময় আর ভয়ার্ত কণ্ঠে) “বুঁচি!!!...ওটাতো আমার ছেলেবেলার নাম...হু আর য়্যু?!!?”
মেয়েঃ “...ওপেন্টি বায়স্কোপ...নাইন্টিন টেইস্কোপ... (আনমনে সুর ভাঁজতে ভাঁজতে যুগল ছবিটার সামনে গিয়ে ছবিটা হাতে নিয়ে) এএমা...আমার স্বামী বুঝি?......হি হি হি” ভদ্রমহিলা দিকে একটা আড় দৃষ্টি দিয়ে ছবিটার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল “আমি তোর ছেলে বেলা রে বুঁচি”... ধীর পায়ে ভদ্রমহিলার দিকে এগোতে এগোতে...“স্বামী মরল বলে আজ আমার কথা মনে হল?...গত ৫০/৫৫ বছরে তোর একবারও মনে হয় নি যে তোর একটা ছেলেবেলা আছে...ছেলেবেলার গ্রাম আছে...গ্রামের মানুষগুলোর সাথে তোর সম্পর্ক আছে (উত্তেজিত কণ্ঠে)”
ভদ্রমহিলাঃ (শ্বাসকষ্ট সুরু হয়েছে...হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন)... “আই ওয়ানা গো ব্যাক টু মাই হোম...বাট আই কান্ট...য়্যু নো...এখানে লাইফ খুব বিজি...”
মেয়েঃ “চিন্তা করিস না...আজ সময় হয়েছে...চল...ফিরি...” বলে সে ভদ্রমহিলার হাতটা ধরল..
ভদ্রমহিলা প্রচণ্ড শ্বাস কষ্টে চোখে বিস্ফোরিত দৃষ্টি।
পরদিন শহরের লোকাল নিউজ পেপারে শেষ পাতায় ছোট্ট করে নিউজ আসলো...
নিঃসঙ্গ বৃদ্ধার একাকী মৃত্যু
উমুক রোডের উড়ুক এপার্টমেন্ট এ এক ৬৫ বছর বয়স্ক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ভদ্রমহিলা একাকী মমৃত্যুবরণকরেছেন। তার আজকেই দেশে ফেরার কথা ছিল। মৃতদেহ যখন পাওয়া তখন তার হাতে পাসপোর্ট-প্লেন টিকিট টি আঁকড়ে ধরা অবস্থায় ছিল।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১০ দুপুর ২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



