somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জোছনা বিলাসী সেই রাতে....

২৮ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাঁদের রুপালি আলোয় চারদিক আলোকিত। গাছের নিচে আলো ছায়ার খেলা। জোত্‍স্নার আলোয় রাস্তার পাশের এই নির্জন মাঠটি বহু দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। মৃদু দখিনা হাওয়া পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে গায়ে। দৈত্যাকার এই বট গাছটির নিচে বিরাণ পথের ধারে বসে আছি। দূরের গ্রামগুলোতে মাঝে মাঝে শেয়াল ডেকে ওঠছে।

কলি এই নীরবতার মাঝে বললো-
এই তুমি কি দেখছ?
হঠাত্‍ ওর কথা শুনে তাকালাম ওর দিকে। কিছুক্ষণ অপলক নেত্রে তাকিয়ে থাকলাম ওর মুখ পানে। এরপর গম্ভীর কন্ঠে উত্তর দিলাম-
দুটো চাঁদকে...
ও মৃদু হেসে বললো-
চাঁদ তো একটা উঠেছে। তুমি দুটো পেলে কোথায়?
-একটা আমার চাঁদ, আরেকটা পৃথিবীর চাঁদ।
কিছুক্ষণ নীরব থেকে ও আবার বললো-
তোমার চাঁদটা আবার কে?
ওর মুখপানে চেয়ে বললাম-
আমি এখন যার দিকে তাকিয়ে আছি।
-তুমি তো তাকিয়ে আছো ঐ কালো অন্ধকারের দিকে।
কথাটা শুনে অনেকটা চমকে উঠলাম। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম-
হ্যাঁ। আমি তাকিয়ে আছি কালো অন্ধকারের ন্যায় তোমার ওই ডাগড় আঁখি পানে।
অনেকটা অভিমানের স্বরে কলি আমায় বললো-
মিথ্যে বলছ কেন? তুমি তো আমার পানে তাকাও নি।
-না না। আমি তো তোমার পানেই তাকিয়ে আছি। আসলে আমি তোমার মত সুন্দর নই তো। তাই তুমি চাঁদের আলোয় আমার চোখ দেখে বুঝতে পারছ না যে কোন দিকে তাকিয়ে আছি।
কলি এ কথা শুনে একটু হেসে দিয়ে বললো-
এমন উদ্ভট কথা পাও কোথায় শুনি?
-কেন? তুমি যেথায় ঐ সৌন্দর্য পেয়েছ।
ও আবার হাসলো। আমিও হেসে দিলাম ওর সাথে।

এরপর আবার নীরবতা। দূরে জোনাকীরা ঝারবাতি তৈরী করে রেখেছে। শেয়াল ডেকে যাচ্ছে। আকাশে টুকরো টুকরো মেঘ উড়ে আসছে। চাঁদটা মাঝে মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে মেঘের আড়ালে। আবার বেরিয়ে এসে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে ধরণীর বুকে। আকাশের উজ্বল তারা গুলো ছাড়া বাকি তারা গুলো হারিয়ে গিয়েছে চাঁদের আলোর গভীরে।

এমন সময় এক ঝাপটা দখিনা হাওয়া বয়ে গেল। ওর চুলের গন্ধ পেলাম তার মাঝে। এখন চুপ করে থাকাটা আমার জন্যে অসহ্য হয়ে গেল। ওকে বললাম-
কলি....
-হুম বল।
-এভাবেই কেটে যেত যদি সারাটি জীবন। শুধু সুখ আর সুখ.... তবে কেমন হতো?
-ভালো হতো না মোটেও।
-কেন?
-জীবনে যদি দুঃখ না থাকে তবে সুখকে অনুভব করে যায়না। পূর্ণিমার পর অমাবস্যা আসে বলেই পূর্ণিমা এত সুন্দর।
-হুম... এ কারণেই কী তুমি আমার থেকে দূরে দূরে থেকে আমাকে দুঃখ দাও?
-শোভন, আমি তোমায় ভালোবাসি। এ ভালোবাসাকে উপলব্ধি করতেই তোমার থেকে দূরে থাকি....
-নাহ্! এ কষ্ট যে আমার সহ্য হয় না কলি।
এবার ও হেসে দিলো। বললো-
পাগল! তুমি এমন পাগলামো করো কেন?
আমি ওর হাতে হাত রেখে বললাম-
চাঁদ যখন সাগরের কাছে আসে তখন সাগরের বুকে জল পাগলের মতো ফুলে ওঠে জোয়ারের সৃষ্টি করে। আর তুমিই তো আমার চাঁদ। তাই তোমায় কাছে পেলে আমার বুকে ভালোবাসার জোয়ার আসে।
ও হাসতে হাসতে বললো-
পাগল! আমি তো তোমারই....
এমন সময় হাতের ফোনটা বেজে ওঠল। বিরক্ত হয়ে বললাম-
এই সময়ে কে বিরক্ত করতে এল!
ফোনটা রিসিভ করলাম-
হ্যালো...
-কিরে শোভন! কোথায় তুই?
-এই তো রে সজিব, বটতলা বসে আছি...
-এই রাতে ওখানে কি করিস?
-জোত্‍স্না দেখছিলাম... বাইরে এসে দেখ কত্ত বড় চাঁদ ওঠেছে!
-তোকে নিয়ে আর পারলাম না। এত রাতে কেউ বাইরে থাকে? তাও আবার একা!
-ইস! তোর জ্বালায় আর বাচলাম না। আমি একা তোকে কে বলল? আমরা দুজনে জোছনা রাত উপভোগ করছি। আর তুই কিনা....
-তোর এই জোছনা বিলাসী স্বভাবটা আর গেল না। কি সব ফালতু কথা.... দুজন পেলি কোথায়? নিশ্চই আবার কলিকে কল্পনা করে বসে আছিস....
-কলিকে কল্পনা করতে নিষেধ আছে নাকি?
-দেখ শোভন, এই মাঝরাতে পাগলামো করিস না তো। তুই তো জানিস যে কলি তোকে ভালোবাসে না। তোকে চায় না। তবে কেন এই মরীচিকার পেছনে ছুটছিস? মাথা ঠান্ডা কর। বাসায় যেয়ে ঘুমা।
-দোস্ত! এমন করে বলিস না। আমি কলিকে চাই। ওকে ভালোবাসি। ওকে না পেলে আমার জীবনটাই অপূর্ণ থেকে যাবে।
-ok! যাহ্ ও তোকে ভালবাসবে.... এবার ফোন রেখে বাসায় যা।
-ঠিক আছে। রাখি।
প্রকৃতির নিষ্ঠুর লীলা খেলার কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ীর পথে পা বাড়ালাম। রাত বাড়ছে, চাঁদ পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে.....
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×