সৃষ্টি থেকেই মানুষ অতি প্রাকৃত শক্তি ও অদৃশ্য সংস্কৃতির উপড় গভীর ভাবে আগ্রহী। মানুষ্য জগতের অন্তরালে আরেকটি জগত্ আমাদের কাছে বিতর্কিত হলেও তা সম্পর্কে জানার আগ্রহ অসীম। এই জগতটিকে আধ্যাত্মিক জগত্ নামে উল্লেখ করা হয়। অধিকাংশ মানুষই এই জগত্ সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষন করেন। অনেকে মনে করেন যে, ভূত-প্রেত হলো মৃত মানুষের আত্মা ছাড়া কিছু নয়। আবার অনেকে ধারণা করেন যে ভূত হলো শুভ বা অশুভ শক্তি যা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করে মানুষের উপড় আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। যাহোক, এই ২টি ব্যাখ্যাই নানান কল্প কাহিনী ও উদ্ভট চিন্তার সাথে সম্পর্ক যুক্ত। এই বিষয়ে আরও অনেক মতবাদ আছে। আস্তে আস্তে সেসব মতবাদ তুলে ধরার চেষ্টা করব। এই পর্বে ইসলামি মতবাদটি বর্ণনা করছি। ইসলামে একটি ব্যাখ্যা আছে। অন্যদের মত ইসলামও দাবি করে অদৃশ্য একটি জগতের অস্তিত্বের।
ইসলামি মতবাদঃ
জ্বীন আগুনের তৈরী এবং এরা মানুষের অন্তরালে একটি জগতে বসবাস করে। আরবি জ্বীন্নি শব্দটি এসেছে জান্না শব্দটি হতে যার অর্থ লুকানো বা গোপন করা। ইসলামিক বর্ণনা অনুযায়ী এরা মানুষের নিকট অদৃশ্য। এই অদৃশ্যতার কারণে অনেকেই এদের অস্তিত্বকে অস্বিকার করে। কুরআনে বর্ণিত আছেঃ
"প্রকৃত পক্ষে আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি শুকনো কালো কাদা মাটি থেকে এবং জ্বীন সৃষ্টি করেছি ধোঁয়া বিহীন অগ্নি থেকে।" [সূরা হিজরঃ আয়াত ১৫:২৬-২৭]
এইভাবে জ্বীনকে মানুষের আগে সৃষ্টি করা হয়। মুহম্মদ(সঃ) জ্বীনের বর্ণনার জন্য বলেছেন, "ফেরেশতা আলোর তৈরী আর জ্বীন ধোঁয়া বিহীন অগ্নির তৈরী।" এই কারণে এদের প্রকৃতি অগ্নিময়। প্রকৃত পক্ষে মানুষের সাথে এদের মিল এই যে উভয় প্রজাতিকে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার উপাসনার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
জ্বীন মুসলিম বা অমুসলিম হতে পারে। অমুসলিম জ্বীনরা বিখ্যাত জ্বীন শয়তানের অনুসারি। অন্যকথায় অবিশ্বাসী জ্বীনরাই শয়তান।
বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মানুষ ও ইসলামে বর্ণিত জ্বীনদের জীবনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এরা খাদ্য খায়, বিয়ে করে, জন্ম মৃত্যু আছে। কিন্তু জ্বীনরা মানুষের অনেক দীর্ঘায়ু সম্পন্ন হয়। শেষ বিচারের দিন জ্বীনদেরও বিচার হবে। তাদেরও আছে পুরুষ্কার ও শাস্তি।
একটা জিনিস স্পষ্ট যা মানুষ ও জ্বীনকে পৃথক করেছে। তা হল জ্বীন জাতির শক্তি ও ক্ষমতা। সৃষ্টকর্তা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য তাদেরকে বিশেষ কিছু ক্ষমতা দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি ক্ষমতা হলো এরা যেকোন কিছুর আকৃতি ধারণ করতে পারবে। এমনকি এরা এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে মানুষকে সংশয়ে ফেলে দিয়েছে বলে ইসলাম বিশ্বাস করে। এলিয়েনের অস্তিত্ব নিয়ে যে কয়টা মতবাদ আছে তা জ্বীন জাতির কারসাজি বলে অনেকেই মনে করে থাকেন।
তাদের আরেকটি ক্ষমতা হল যে, এরা কোন প্রাণী বা মানুষের উপড় প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। এরা কোন মানুষের দেহ ও মন উভয়ের উপরই কর্তৃত্ব চালনা করতে পারে। যাকে বলা হয় আছর করা। এই বিষয়টি বর্তমান যুগে একদল লোক অর্থনৈতিক আয়ের উত্স হিসেবে ব্যবহার করে। ইসলাম বলে যে এটা হল একটি অতিপ্রাকৃত বিষয় যা অত্যধিক মনোনিবেশের কারণবশত হয়ে থাকে। মুসলিমগন বিশ্বাস করে যে জ্বীনরা বিভিন্ন কারণ বশত মানুষের উপর আছর করে। এটা হতে পারে যে জ্বীনটি মানুষের প্রেমে পড়েছে। এছাড়া আরেকটি কারণ হলো জ্বীনরা দুষ্ট প্রকৃতির বা দুরাত্মা। এজন্য মুহম্মদ(সঃ) মুসলিমদের কবরস্থান, ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থান ইত্যাদি জায়গায় ইতঃস্তত হাটা হাটি নিষেধ করেছেন। এছাড়া মুসলিমগন ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করেন যাতে জ্বীনরা ক্ষতি করতে না পারে।
যদি কারও উপড় জ্বীন আছর করে তবে মুসলিমরা তাকে সৃষ্টিকর্তার নাম দিয়ে ঝার ফুঁক দিয়ে চিকিত্সা করে থাকে। এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে থাকে। এছাড়া ভূত ঝাঁড়ার জন্য অন্য ধর্মেও বেশ কিছু নিয়ম কানুন আছে। যখন কোন অমুসলিমের উপর জ্বীন আছর করে তখন ইসলামি পরিপন্থি উপায়ে ঝাঁড় ফুঁক দিয়ে চিকিত্সা করা হয়। মুসলিমগণ বিশ্বাস করে কোন দুষ্ট জ্বীন বা শয়তান মানুষের ঈমান নষ্টের জন্য তার উপড় আছর করেছিল এবং ইসলাম পরিপন্থি চিকিত্সায় চলে গেছে যাতে মানুষ ধোঁকায় পড়ে যে অন্য ধর্মই সঠিক।
জ্বীনদের এধরনের ক্ষমতার কারনে অনেকেই শয়তান জ্বীনের কাছে নিজের আত্মা বিক্রি করে শয়তানের পূজা করে, বিনিময়ে জ্বীন তাকে মৃত্যু পর্যন্ত অনেক বিষয়ে সহায়তা করে। বিশেষ করে যাদুকরগণ জ্বীনদের নিকট নিজেদের আত্মা বিক্রয় করে থাকে। ডেভিড কপারফিল্ডের চীনের প্রাচীর ভেদ করাকে জ্বীনের দ্বারা কৃত কারসাজি বলে ইসলাম ব্যাখ্যা করে।
প্ল্যানচ্যাট বা কোন মানুষের আত্মাকে ডেকে কোন কাজ করাও জ্বীনে কার্যকলাপ। মানুষকে ভুল পথে সঞ্চালিত করার জন্য জ্বীনরা প্ল্যানচ্যাট করার সময় প্রয়াত আত্মীয়ের কন্ঠস্বরে কথা বলে মানুষকে ধোঁকা দেয়।
এখানে ইসলামে বর্ণিত অদৃশ্য জগতের বর্ণনাটি অতিসংক্ষিপ্ত আকারে একাংশ উপস্থাপন করলাম। আপনাদের ভালো লাগলে পরের পর্বে এ বিষয়ে অন্য কোন মতবাদ নিয়ে আলোচনা করব।
[চলবে....]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



