-হিমু ভাই?
পেছনে তাকালাম। একটা ছেলে দৌড়িয়ে আসছে। ভাঙা স্বাস্থ্য। হাতে সিগারেট। সামনে এসে হাপাতে হাপাতে বললো, এতো রাইতে যান কই?
-কোথাও না।
-এইডা কী কন? এত রাইতে রাস্তায়। আর কইতাছেন কোথাও যান না।
-আমি আসলেই কোথাও যাই না। রাত হলে রাস্তায় হাটি।
-অ! আপনের হাটা ব্যারাম এহনো সারে নাই!
ছেলেটার কথা শুনে মনে হচ্ছে আমাকে চেনে। কিন্তু আমি তাকে চিনি না। এটা অবশ্য বেশ মজার! লোকজন সবাই আমাকে চিনবে। আমি কাওকে চিনবো না। সবার সাথেই চেনার অভিনয় করে যাব।
ছেলেটার চোখ চক চক করেছে। যেন পুলিশ বহু সাধনার পর কোন আসামি ধরলো। ছেলেটা আমার হাত ধরে টান দিয়ে বললো, ভাই, আমার সাথে একটু আসেন। আমাকে টানতে টানতে একটা পার্কের ভিতরে নিয়ে গেল। একটা গাছের নিচে ৩ জন ছেলে বসে আছে। তাদের চোখে কৌতুহল। শুধু একটা ছেলে ভয়ে জড়সর হয়ে গেল। কারন কি কিছুই বুঝতে পারছি না। যে ছেলেটা আমাকে নিয়ে এসেছে সে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো, এইডা হিমু ভাই। ভাইয়ের য়ে ক্ষমতা! আমার উস্তাদের দিকে খালি তাকাইছিলো, তাতেই হে বমি করতে করতে শেষ।
আমি রহস্যময় ক্রুর হাসি হাসলাম। সেই ছেলেটি ফ্যাল ফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু বুঝার আগেই সে আমার পায়ে ঝাপিয়ে পড়ে বললো, আমারে ক্ষমা কইরা দ্যান। আর কোনদিন পকেট মারুম না। আপনার মানিব্যাগ আইজকা ভুলে মারছি। বিশ্বাস করেন, একটা ট্যাকাও ভাঙি নাই।
আমি আবার হাসলাম। আমার মানিব্যাগে কোন টাকাই ছিলো না। তাই মানিব্যাগ হারানো নিয়ে আমার কোন আফসোস ছিলো না। বরং পকেটটা একটু হালকা হালকা লাগছিল। আমি ছেলেটাকে সরিয়ে দিলাম। তার চোখে পানি। পাশে বসতে বসতে বললাম কিছু খেয়েছিস?
-না। মানিব্যাগে ট্যাকা পাই নাই।
অন্যদের দিকে তাকিয়ে বললাম, তোরা খাস নাই?
-না
-ক্যান?
-আজ ওর কাজ করার কথা ছিলো। ও কাজ কইরা ট্যাকা পায় নাই। তাই খাওয়া ইঅয় নাই।
-হুম… এখন তোদের জন্য অন্তত পকেটে টাকা রাখতে হবে।
ছেলেগুলো লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। কে জানে কার পকেটে এই অসহায় ছেলেগুলোর জন্যে একটু খাবার থাকে!
পূব আকাশ সাদা হয়ে আসছে। ৫টা মানুষ না খেয়ে বসে আছি। ১০ হাত দূরে একটা কুকুর বসে আছে। চোখে বিস্ময়!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে নভেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



