somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রাভেলগ বেইজিং থেকে শেনঝেন

১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


হোটেলে আসতে আসতে একটু রাত হয়ে গেল, আসার পথে আমরা কে এফ সি থেকে ডিনার সেরে আসলাম। রাতে পরদিনের জন্য কিছু খাবার কিনে নিলাম। আগামিকাল আমাদেরকে সেনঝেনের উদ্দেশ্যে বেইজিং থেকে উড়াল দিতে হবে। সকাল বেলা নাস্তা করে বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য নীচে নামলাম। আমাদের হোটেলের একজন ট্যাক্সিকে টার্মিনাল ও বিমানবন্দরে যাবার কথা চীনা ভাষায় বুঝিয়ে দিল।বিমান বন্দরে আসার পথে সারা রাস্তায় উইলো গাছের তুলার আঁশ বাতাসে উড়তে দেখলাম। এই আঁশ থেকে অনেকের এলার্জি হয়, অনেকে এই সময় নাকে মাস্ক পড়ে নেয়। আমরা দশ নাম্বার ডমিস্টিক টার্মিনালে নামলাম। বিশাল বিমানবন্দর, এরকম অনেকগুলো টার্মিনাল আছে এখানে। অজস্র বিমান উঠানামা করছে আভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে। আমরা শেনঝেন এয়ারে ভ্রমন করব। অনেক কাউন্টারে চেক ইন হচ্ছে, আমরা আমাদের জায়গাতে কাজ সেরে অপেক্ষা করছি।


বেইজিং বিমানবন্দর
বেইজিং থেকে দুপুর ১২ টার দিকে শেনজেন এয়ারে আমরা শেনজেনের পথে রওয়ানা হই। বিমানের সার্ভিস ভাল। অনেক যাত্রী যাচ্ছে একই গন্তব্যে।বিকেল ৫ টার দিকে শেনজেন বিমান বন্দরে পৌঁছাই। বিমানবন্দরের বাহিরে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে আসার সময় একজন ট্যাক্সি লাগবে কিনা জানতে চাইল, আমরা তার সাথে গেলাম। একটা প্রাইভেট লিমুজিনে শে আমাদেরকে তুলে দিল। কত ভাড়া লাগবে তার কিছুই বলল না। কিছুদূর গিয়ে ড্রাই ভার আমাদেরকে জানাল শহরে যেতে এক হাজার আর এম বি লাগবে, আমি বললাম একশত দিব, যদি না হয় পুলিস ষ্টেশনে চল সেখানে টাকা দিব অথবা আমাদেরকে এয়ারপোর্টে নিয়ে চল। মোবাইলে কার সাথে কথা বলে আমাদেরকে আবার আগের জায়গাতে নামিয়ে দিল।
আমরা একটা ট্যাক্সি নিয়ে আগে ঠিক করে রাখা হোটেলে চলে এলাম। প্রায় ঘণ্টা খানেক সময় লাগল শহরে আসতে। শেনজেনে আমরা হূয়াকূইয়াং রোড মেট্রো স্টেশনের কাছে একটা হোটেলে ছিলাম। এটা বাণিজ্যিক এলাকা এবং এখানে অনেক হোটেল আছে।আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। একটু ফ্রেস হয়ে আমরা হোটেল থেকে বের হলাম আশেপাশে ঘুরে দেখার জন্য। মেইন রাস্তার ওপাড়ে বিশাল ডিজিটাল মার্কেট সেগবাই ডট কম, আন্ডারপাসদিয়ে রাস্তা পার হয়ে মার্কেট এলাকাতে আসি। বিশাল এলাকা জুড়ে ডিজিটাল সামগ্রীর এই বাজার, কি নেই এখানে।
রাত আঁটটার দিকে মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তারপর ও কিছু কিছু দোকান খোলা আছে। এখানে সবই আছে কিন্তু না চিনলে ঠগার সম্ভাবনা শতভাগ। এক তরুন ভারতীয় ব্যবসায়ীর সাথে দেখা হল, শে এখান থেকে সব মাল নিয়ে ভারতে এসেম্বল করে। সে জিনিষ চিনে তাই তার কোন সমস্যা হয় না। না চিনলে এই বাজার থেকে না কেনাই ভাল।ঘণ্টা খানেক ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। দুই পাশেই মার্কেট, মাঝে চার লেনের রাস্তা। আমদের খাবার সময় হয়ে গেছে, আজ ম্যাকডোনাল্ডে খেতে গেলাম। ডিনার শেষে হোটেলের কাছের দোকান থেকে পানি ও কিছু খাবার কিনে রুমে চলে এলাম।


শেনঝেন আইফেল টাওয়ারের উপর থেকে উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড



হূয়াকূইয়াং রোড মেট্রো স্টেশন থেকে আট স্টেশন পরে উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড স্টেশন। এখানেই চীনারা পৃথিবীর সব সুন্দর স্থাপনার কপি বানিয়ে রেখেছে।২৮ এপ্রিল ২০১৪ সকাল ১০ টার সময় আমরা মেট্রোতে চড়ে উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড স্টেশন আসি। স্টেশান থেকে বের হওয়ার সময় কাঁচের পিরামিদ বানানো এটা প্যারিসের লুভ মিউ জিয়ামের সামনের পিরামিডের আদলে বানানো। এই স্টেশনের পাশেই উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড বিনোদন কেন্দ্র। সামনে সুন্দর ফোয়ারা ফুলের বাগান সব কিছু যেন নিখুঁত আর দৃষ্টি নন্দন।

৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×