হোটেলে আসতে আসতে একটু রাত হয়ে গেল, আসার পথে আমরা কে এফ সি থেকে ডিনার সেরে আসলাম। রাতে পরদিনের জন্য কিছু খাবার কিনে নিলাম। আগামিকাল আমাদেরকে সেনঝেনের উদ্দেশ্যে বেইজিং থেকে উড়াল দিতে হবে। সকাল বেলা নাস্তা করে বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য নীচে নামলাম। আমাদের হোটেলের একজন ট্যাক্সিকে টার্মিনাল ও বিমানবন্দরে যাবার কথা চীনা ভাষায় বুঝিয়ে দিল।বিমান বন্দরে আসার পথে সারা রাস্তায় উইলো গাছের তুলার আঁশ বাতাসে উড়তে দেখলাম। এই আঁশ থেকে অনেকের এলার্জি হয়, অনেকে এই সময় নাকে মাস্ক পড়ে নেয়। আমরা দশ নাম্বার ডমিস্টিক টার্মিনালে নামলাম। বিশাল বিমানবন্দর, এরকম অনেকগুলো টার্মিনাল আছে এখানে। অজস্র বিমান উঠানামা করছে আভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে। আমরা শেনঝেন এয়ারে ভ্রমন করব। অনেক কাউন্টারে চেক ইন হচ্ছে, আমরা আমাদের জায়গাতে কাজ সেরে অপেক্ষা করছি।
![]()
বেইজিং বিমানবন্দর
বেইজিং থেকে দুপুর ১২ টার দিকে শেনজেন এয়ারে আমরা শেনজেনের পথে রওয়ানা হই। বিমানের সার্ভিস ভাল। অনেক যাত্রী যাচ্ছে একই গন্তব্যে।বিকেল ৫ টার দিকে শেনজেন বিমান বন্দরে পৌঁছাই। বিমানবন্দরের বাহিরে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে আসার সময় একজন ট্যাক্সি লাগবে কিনা জানতে চাইল, আমরা তার সাথে গেলাম। একটা প্রাইভেট লিমুজিনে শে আমাদেরকে তুলে দিল। কত ভাড়া লাগবে তার কিছুই বলল না। কিছুদূর গিয়ে ড্রাই ভার আমাদেরকে জানাল শহরে যেতে এক হাজার আর এম বি লাগবে, আমি বললাম একশত দিব, যদি না হয় পুলিস ষ্টেশনে চল সেখানে টাকা দিব অথবা আমাদেরকে এয়ারপোর্টে নিয়ে চল। মোবাইলে কার সাথে কথা বলে আমাদেরকে আবার আগের জায়গাতে নামিয়ে দিল।
আমরা একটা ট্যাক্সি নিয়ে আগে ঠিক করে রাখা হোটেলে চলে এলাম। প্রায় ঘণ্টা খানেক সময় লাগল শহরে আসতে। শেনজেনে আমরা হূয়াকূইয়াং রোড মেট্রো স্টেশনের কাছে একটা হোটেলে ছিলাম। এটা বাণিজ্যিক এলাকা এবং এখানে অনেক হোটেল আছে।আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। একটু ফ্রেস হয়ে আমরা হোটেল থেকে বের হলাম আশেপাশে ঘুরে দেখার জন্য। মেইন রাস্তার ওপাড়ে বিশাল ডিজিটাল মার্কেট সেগবাই ডট কম, আন্ডারপাসদিয়ে রাস্তা পার হয়ে মার্কেট এলাকাতে আসি। বিশাল এলাকা জুড়ে ডিজিটাল সামগ্রীর এই বাজার, কি নেই এখানে।
রাত আঁটটার দিকে মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়, তারপর ও কিছু কিছু দোকান খোলা আছে। এখানে সবই আছে কিন্তু না চিনলে ঠগার সম্ভাবনা শতভাগ। এক তরুন ভারতীয় ব্যবসায়ীর সাথে দেখা হল, শে এখান থেকে সব মাল নিয়ে ভারতে এসেম্বল করে। সে জিনিষ চিনে তাই তার কোন সমস্যা হয় না। না চিনলে এই বাজার থেকে না কেনাই ভাল।ঘণ্টা খানেক ধরে রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। দুই পাশেই মার্কেট, মাঝে চার লেনের রাস্তা। আমদের খাবার সময় হয়ে গেছে, আজ ম্যাকডোনাল্ডে খেতে গেলাম। ডিনার শেষে হোটেলের কাছের দোকান থেকে পানি ও কিছু খাবার কিনে রুমে চলে এলাম।
![]()
শেনঝেন আইফেল টাওয়ারের উপর থেকে উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড
![]()
হূয়াকূইয়াং রোড মেট্রো স্টেশন থেকে আট স্টেশন পরে উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড স্টেশন। এখানেই চীনারা পৃথিবীর সব সুন্দর স্থাপনার কপি বানিয়ে রেখেছে।২৮ এপ্রিল ২০১৪ সকাল ১০ টার সময় আমরা মেট্রোতে চড়ে উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড স্টেশন আসি। স্টেশান থেকে বের হওয়ার সময় কাঁচের পিরামিদ বানানো এটা প্যারিসের লুভ মিউ জিয়ামের সামনের পিরামিডের আদলে বানানো। এই স্টেশনের পাশেই উইন্ডো অব দা ওয়ার্ল্ড বিনোদন কেন্দ্র। সামনে সুন্দর ফোয়ারা ফুলের বাগান সব কিছু যেন নিখুঁত আর দৃষ্টি নন্দন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



