somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যাপিত জীবন – ভাল মানুষের খোঁজে

১৩ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেক দিন পর ওরা পাঁচ ভাই গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। সেই যে কবে তারা একসাথে হয়েছিল এখন মনেই পড়েনা। দেশে বিদেশে থেকে সময় মিলিয়ে এক সাথে হওয়া বেশ ঝামেলা। বাবা মা দুজনেই আজ নেই, আছে শুধু তাঁদের স্মৃতি। বাবা ছিলেন একজন সরল সচ্ছল গেরস্থ, জমি ছিল, নিজেই চাষ করতেন সেই জমি। জমির ফসল দিয়ে তাঁদের দিন কেটে যেত কোনভাবে। প্রাচুর্য তেমন ছিল না তবে অভাব ও ছিলনা তেমনটা।
তাঁদের বাবার সখ ছিল তাঁর ছেলেরা মানুষের মত মানুষ হবে, নিজে পড়াশোনা তেমন একটা করতে পারেনি তাই তাঁর সবসময় ইচ্ছে ছিল তাঁর ছেলেরা পরবে। ছেলেদের মেধা ছিল আর বাবার ইচ্ছাকে তারা সবাই সম্মান দেখিয়েছিল। আজ তারা সমাজে কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার কেউ প্রফেসার, কেউ দেশে কেউ বা বিদেশে।
ছোট ছেলের হঠাত বাবার কথা মনে পড়ে। বাবার শ্বাসকষ্ট ছিল, তেমন চিকিৎসা শে সময় করা সম্ভব ছিল না, তবে তাঁর কোন অভিযোগ ও ছিল না। মৃত্যুর সময় ছোট ছেলে তাঁর কাছে ছিল। বাবা ছিলেন অতি সরল আর সৎ। এই কথা গ্রামের সবাই বলে, তাঁর সাথে কারো শত্রুতা ছিল না। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন তিনি আর বাঁচবেন না। তখন ছেলেকে বলছিলেন, বাবা আমার মনে হয় সময় হয়ে এসেছে, আমি একটা পাপ করেছিলাম, আল্লার কাছে সেই পাপের জন্য মাপ চাই। ছেলে বল্ল বাবা আমার বুঝ হবার পর থেকে তোমাকে তো কোন খারাপ কাজ করতে দেখি নাই। কেউ তোমাকে নিয়ে খারাপ কথাও কখনো বলে নাই।
বাবা বল্ল, সে অনেক দিন আগের কথা, তখন আমি গ্রামের খোলা মাঠে ছাগল চরাতাম। সেই সকালে ছাগল নিয়ে বেরিয়ে যেতাম, সারাদিন সেগুলো চরিয়ে সন্ধ্যার দিকে ঘরে ফিরে এসে পড়তে বসতাম। সারা বছর সময় পেলেই এই কাজ চলত। ঝড় বাদলা শীত গরমে একই কাজ। সেদিন ছিল বেশ বৃষ্টি, সব কিছু ভিজে সয়লাব, আমি একটা মাচার নীচে বসে সময় পার করছিলাম। সেই সময় আমাদের গ্রামে শকুন ছিল, তারা বড় বড় গাছে থাকত, গ্রামের মরা পশুগুলো খেত। আমার থেকে একটু দূরে একটা শকুনের বাচ্চা ভিজে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হয়ত বৃষ্টি থামলে উড়াল দিবে। আমি কিছুক্ষন তা দেখলাম। কি জানি কি আমার মাথায় ভর করল আমি শকুনের বাচ্চাটাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেললাম। শকুনটাত কোন দোষ করে নাই, তখন আমি সেটা বুঝতে পারি নাই। আমি বিনা কারনে একটা প্রাণকে মেরে ফেলেছি।
আজ আমার এই মৃত্যুর সময় এই কথা বার বার আমার মনে পড়ছে। বাবা, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিবেন তো? এই বলে তাঁর দুচোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগল। তিনি তার কিছু সময় পরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। হে মহান আল্লাহ তুমি তাকে ক্ষমা করে বেহেস্তে নসীব করো। সব ভাইয়েরা এতক্ষণ চুপ হয়ে এই কথাগুলো শুনছিল। তাঁদের বাবা তাঁদের কাছে আদর্শ মানুষ ছিল, তার আর ও একটা গল্প বড় ভাই বলতে শুরু করল।

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:৩৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×