somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই জনপদে

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কামলার আসল নাম অনেকেই জানে না। তার আসল নাম জৈবন আলী, তবে এই নামে খুব কম মানুষই তাঁকে ডাকে। অনেক ছনের ঘর আছে এই এলাকায়, কামলা এইসব ছনের ঘর মেরামতের কাজ করে। সে তার কাজ নীরবে করে যায় বলে তার বেশ নাম ডাক। অনেক দূর থেকে ও তাঁকে কাজের জন্য ডাকে। নতুন ঘর বানানোর কাজেও সে বেশ দক্ষ। তার চাহিদা থাকায় আয় রোজগার বেশ ভাল। অনেক ছনের ঘর আছে এই এলাকায়, কামলা এইসব ছনের ঘর মেরামতের কাজ করে। সে তার কাজ নীরবে করে যায় বলে তার বেশ নাম ডাক। অনেক দূর থেকে ও তাঁকে কাজের জন্য ডাকে। নতুন ঘর বানানোর কাজেও সে বেশ দক্ষ। তার চাহিদা থাকায় আয় রোজগার বেশ ভাল।
কামলা বেশ মুখ চোরা আর চুপচাপ, তার স্ত্রী তার ঠিক উল্টা, সবসময় বাকবাকুম চলতেই থাকে। সে এখানকার স্থানীয় মেয়ে হওয়াতে তার প্রভাব আছে এখানে। কামলা দুরের গ্রাম থেকে এসে এই গ্রামের মেয়েকে বিয়ে করে এখানে স্থিতু হয়েছে। এই জায়গাতে দুটি পরিবার থাকে, একটা কামলার পরিবার আর আরেকটা কালামিয়া, শাহলমের বাপের পরিবার। শাহলমের মা ও বেশ মুখরা, তবে কামলার বউ আর সে মিলে মিশে এই জায়গাতেই বসবাস করছে। শাহ লমের এক বোন, তার নাম জোহরা, কামলার কোন ছেলে মেয়ে নেই তাই কামলার বউ খুব ছোট বেলায় জালাল কে পালক নিয়েছে, এখন তারা জালালের মা বাবা। জালাল আর শাহ লম দুজনেই সমবয়সী। শাহ লম একটু শুকনা আর ছোট খাট। তার মুখটা বেশ ছোট। সে বেশ দ্রুত এবং টুকটাক চুরিতে হাত পাকিয়েছে ছোটবেলা থেকেই। মানুষজন তাঁকে সাইয়া চোরা বলে ডাকে। সে রঙ এর কাজ করে। জালাল হাতুড়ে দাঁতের ডাক্তারের কাছে কাজ শিখে জালাল ডাক্তার হিসেবে পরিচিত। তবে তারও দুর্নাম আছে চুরির জন্য। সাইয়া আর জালাইল্ললা দুইজনে মিলে মাঝে মাঝে অন্য এলাকায় চুরি করে। শাহ লমের বন্তা বেশ ভাল, একটু বড় হলেই তার বিয়ে হয়ে যায়, বিয়ের পর বাপের বাড়ি ছেড়ে সে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়, খুব কমই সে বাপের বাড়ীতে আসত।
জালাল বিয়ে করে বউ নিয়ে এসেছে, সুন্দর গোলগাল মুখের ছোট খাট এক কিশোরীকে।কতই বা হবে তার বয়স, চৌদ্দ কিংবা পনেরো আরও কম ও হতে পারে। কামলার বউ জালাল কে পালক নিয়েছিল, তার কোন সন্তান হয়নি, বাজা মহিলার দুঃখ গুছাতে জালাল কে মায়ের আদরে বড় করেছে সে। জালাল মায়ের আদেশ মেনেই বিয়ে করে নিয়ে এসেছে এই মেয়েকে। মায়ের সেবা জালালের সেবা দুটোই করবে এই মেয়ে। কপালের কি ফের, জালালের মা কেন যেন প্রথম থেকেই এই মেয়েটাকে অপছন্দ করে আসছিল। সুঠাম দেহের স্বাস্থ্যবান জালাল কে মেয়েটা প্রচণ্ড ভয় করত। বিয়ের পর প্রায় প্রতিদিন গভীর রাতে মেয়েটার বিলাপ শোনা যেত।
জালালের মা এইসব ন্যাকামি একদম সহ্য করতে পারত না। সকাল থেকেই শুরু হত গঞ্জনা। কামলা আর জালাল ভোরে গোসল সেরে খেয়ে দেয়ে চলে গেলেই শুরু হত মহিলা মহলের তিরস্কার। কিছুদিন পর মেয়েটা পোয়াতি হয় , তারপরও তার কান্না কমে না। জালাল ও তার উপর বিরক্ত। সময় মত তাঁদের ঘর আলো করে একটা মেয়ের জন্ম হয়, নাম দেয় পাখী। তখন থেকে মেয়েটার নাম হয়ে যায় পাখির মা। বাচ্চা হওয়ার পর ও পেটানো জালাল কে সে সামাল দিতে পারে না। রাতে বাচ্চাত কান্না, বাচ্চার মায়ের কান্না সব মিলিয়ে জালাল ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে যায়। যুবক জালালের অভিযোগ আর কষ্ট শুনতে ভাল লাগে না, মাঝে মাঝে তাই চড় কিল ঘুসি চলতে থাকে, কান্নার শব্দ আরও বেড়ে যায়। অযত্ন আর অবহেলা চলতে থাকে পাখির মায়ের সাথে।
এক সময় জালাল পাখিকে তার মার কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে তার বউকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মেয়েকে নিতে আবারও ফিরে আসে পাখির মা। জালাল এবার তাকে মেরে তালাক দিয়ে বের করে দেয়। বিলাপের শব্দে এলাকা দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। জালালের মার মন এত কান্নাতেও গলে না, কয়েকমাস বয়সের পাখিকে তারা রেখে দেয় তার মাকে শাস্তি দেয়ার জন্য। এত ছোট মেয়ে মা ছাড়া কয়দিনই বা থাকতে পারে, একমাসের মধ্যেই মেয়েটা মরে যায়। একটা দুঃখের জীবনের যবনিকা নেমে আসে। পাখির মায়ের গল্প শেষ হয়ে যায়, সবাই তাকে আস্তে আস্তে ভুলে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×